অবকাঠামো খাতে খরচ হবে পেনশন ফান্ডের টাকা

সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে প্রকল্প বাস্তবায়নে একটি তহবিল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। ‘ন্যাশনাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ড’ নামে প্রস্তাবিত এই তহবিলে সরকারের পেনশন ফান্ড, প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটির একটি অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ ছাড়া বীমা খাতের জন্য নতুন প্রকল্পে ৭ থেকে ১০ শতাংশ বিনিয়োগ বাধ্যতামূলক করার কথাও ভাবা হচ্ছে। নতুন এই তহবিল গঠনের বিষয়ে ইতিমধ্যে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো একাধিক বৈঠক করেছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পিপিপি কর্র্তৃপক্ষের মহাপরিচালক আবুল বাসার দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ ধরনের ফান্ড হলে বেসরকারি অংশীদাররা আশ্বস্ত হবেন যে, তারা পিপিপির আওতায় বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হলে প্রয়োজন অনুযায়ী তহবিল পাবেন। এই তহবিল থেকে তারা ঋণ নিতে পারবেন। ঋণ সুদাসলে পরিশোধ করতে হবে। বিআইএফএফএল (বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড) এ ধরনের তহবিল গঠন করেছে।

তিনি বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে, বিভিন্ন নামে এ ধরনের তহবিল আছে। আমরা শুধু অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য এই তহবিল করতে চাই। তবে এটা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। কোন দেশ কীভাবে এ ধরনের তহবিল পরিচালনা করছে, সেগুলো যাচাই-বাছাই করে এবং এ ধরনের তহবিলের সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনায় নিয়ে এটি চূড়ান্ত করা হবে। এতে আরও সময় লাগবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের পিপিপি সেলের প্রধান ও যুগ্ম সচিব মফিজ উদ্দিন আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ন্যাশনাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে। এ বিষয়ে বৈঠকও হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা লিখিত মতামত দিয়েছি।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০০৯-১০ অর্থবছরে পিপিপিতে অর্থ বরাদ্দের পর এর আওতায় অবকাঠামো উন্নয়নে যে ধরনের উচ্চাশা করা হয়েছিল, গত ১০ বছরে তা অর্জন হয়নি। পিপিপির আওতায় দেশের বেসরকারি খাতকে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া দেশের ব্যাংকগুলোও পিপিপির আওতায় অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগে খুব একটা আগ্রহী নয়। এ কারণে পিপিপিতে বেসরকারি খাত বিনিয়োগে আগ্রহী হলে প্রকল্প বাস্তবায়নে যাতে পর্যাপ্ত তহবিল পায়, সে জন্যই নতুন এই তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতি বছর বাজেটে সরকার থেকে পিপিপির আওতায় যে তিন হাজার কোটি টাকা করে বরাদ্দ রাখা হয়, সেখান থেকে এখন পর্যন্ত কোনো প্রকল্পে ইক্যুইটি দেওয়া হয়নি। প্রস্তাবিত ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ডকে সরকারি গ্যারান্টির আওতায় আনা হবে। এই ফান্ড পরিচালনায় একটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হবে, যেখানে ব্যাংক মালিক ও বীমা মালিকরাও থাকবেন। বীমা খাতের আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশোধিত আইনে পিপিপিতে বিনিয়োগের জন্য ৭ থেকে ১০ শতাংশ বিনিয়োগের খাত বরাদ্দ রাখা হতে পারে। এ ধরনের বিধান বিভিন্ন দেশে প্রচলিত রয়েছে।

পিপিপি কর্র্তৃপক্ষ জানায়, শ্রম আইনের অধীনে পেনশন ফান্ড তৈরির কাজ করছে শ্রম মন্ত্রণালয়। তাতে লেবার ওয়েলফেয়ার, প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি সুবিধা রাখা হচ্ছে। এই পেনশন ফান্ডের আকার ও পরিধি ভবিষ্যতে আরও বড় হবে। এসব ফান্ডকে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ডে সংযুক্ত করা হতে পারে। ফান্ডে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সম্পৃক্ত করার সুযোগ তৈরি করা হবে। এ জন্য ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ডের ছাড়া বন্ড পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করা হতে পারে।