চীনফেরতদের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় বিমানবন্দর উদাসীন

করোনাভাইরাস আতঙ্কে চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। ভাইরাস প্রতিরোধ করতে বাংলাদেশ সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে। দেশের সবকটি বিমানবন্দরসহ সীমান্তবর্তী এলাকায় কড়াকাড়ি আরোপ করা হয়েছে। তারপরও শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অনেকটা ঢিলেঢালাভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা হচ্ছে। আবার বাংলাদেশ থেকে চীনে যাওয়া বন্ধ হচ্ছে না বাংলাদেশিদের। প্রতিদিনই বিভিন্ন ফ্লাইটে যাত্রীরা ওই দেশে যাচ্ছেন। গত ১৭ দিনে বাংলাদেশ থেকে ৪ হাজার ৫৩৬ জন যাত্রী চীন গেছেন বলে জানা গেছে। তাছাড়া চীন থেকে বাংলাদেশে ফিরেছেন ৬ হাজার ৩৫২ যাত্রী। দেশি-বিদেশি ২৫টি এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করেছে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কড়াকড়ির আরোপের কথা বলা হলেও বাস্তবে তা হচ্ছে না। অনেকেটা ঢিলেঢালাভাবেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা হচ্ছে। আতঙ্ক থাকার পরও চীনে যাওয়া বাংলাদেশিদের আসা-যাওয়া বন্ধ হচ্ছে না। এ নিয়ে বিমানবন্দরে কর্মরত কর্মচারীদের মধ্যেও অনেকটা আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ চীনে যাওয়া যাত্রীদের ব্যাপারে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালকে অবহিত করা হয়েছে। পরে মন্ত্রণালয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে বিষয়টি দেখতে বলেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানায়, প্রতিদিনই শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চীনের উদ্দেশে উড়াল দিচ্ছে বিভিন্ন এয়ারলাইনসের ফ্লাইট। তার মধ্যে ইউএস বাংলা, চায়না ইস্টার্ন, চায়না সাউদার্ন ও ড্রাগন এয়ারলাইনস চীনের বিভিন্ন স্থানে ফ্লাইট চলাচল করছে। গত ২১ জানুয়ারি থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ৪ হাজার ৫৩৬ যাত্রী চীন গেছেন। আর এ সময়ে দেশে ফিরে এসেছেন ৬ হাজার ৩৫২ জন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিভিল এভিয়েশনের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, অনেকে ব্যবসায়িক কাজে চীন যাচ্ছেন বলে মনে হচ্ছে। তাদের যাওয়া নিয়ে আমরা আতঙ্কের মধ্যে আছি। কারণ চীনে বিভিন্ন প্রদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ হয়েছে। ইতিমধ্যে যাত্রীদের আসা-যাওয়া নিয়ে আমরা মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছি।

গতকাল সোমবার সকালে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরেজমিন দেখা গেছে, করোনাভাইরাস প্রতিরোধ করতে কঠোর নজরদারি করার কথা থাকলেও বাস্তবে নেই বললেই চলে। বিদেশ থেকে আসা লোকজনকে ঢিলেঢালাভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। আবার কাউকে পরীক্ষাই করা হচ্ছে না। অথচ নির্দেশনা আছেÑ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা সব যাত্রীকেই হ্যান্ডহেল্ড ইনফ্রারেড থার্মোমিটার দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। কিন্তু এ থার্মোমিটার দিয়ে কাউকে

পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে দেখা যায়নি।

এ প্রসঙ্গে এপিবিএনের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, হাঁকডাক থাকলেও বাস্তবে যাত্রীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা হচ্ছে না। তবে কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা মাস্ক ব্যবহার করছেন। বিষয়টি সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

এদিকে গত রবিবার দিনভর শাহজালালের সম্মেলন কক্ষে দেশি-বিদেশি ২৫টি এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করেছে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ। ওই বৈঠকে বেশকিছু সিদ্ধান্ত হয়েছে। চীন থেকে আসা সব যাত্রীকে বিশেষ নজরদারির আওতায় রাখতে হবে। তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পর্যালোচনার মধ্যে রাখতে হবে। এমনকি তাদের বাসায় একটি কক্ষে একা রাখতে হবে। সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন ১৪ দিন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। তাছাড়া অন্য দেশ থেকে আসা যাত্রীদেরও সঠিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। এমনকি বিমানের ভেতরেই হেলথ কার্ড যাত্রীদের মাঝে বিতরণ করতে হবে। হেলথ কার্ডে ওই যাত্রীর বাসা, বাবা-মায়ের নাম, টেলিফোন নম্বরসহ ব্যক্তিগত যাবতীয় তথ্য দিতে হবে। ওই কার্ডটি বিমানবন্দরে কর্মরত কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের কাছে দিতে হবে।