কেজরিওয়ালের হ্যাটট্রিক কংগ্রেসের ডাক

বিধানসভার ৭০টি আসনের মধ্যে ৬২টিতে জয় পেয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো দিল্লির মসনদে বসতে যাচ্ছেন আম আদমি পার্টির (এএপি) নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল। গতকাল মঙ্গলবার ভোটগণনা শুরুর কিছু সময়ের মধ্যেই এএপির জয় নিশ্চিত হয়ে যায় বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। জয় নিশ্চিত হওয়ার পরই দিল্লিতে আম আদমি পার্টির সদর দপ্তর থেকে কেজরিওয়াল বলেন, ‘কাজ দেখেই মানুষ ভোট দিয়েছেন।’ বিকাল ৪টার মধ্যে বিধানসভার ৭০ আসনের মধ্যে এএপির আসন সংখ্যা ৬২-তে গিয়ে ঠেকে। আর বিজেপির আসন সংখ্যা কমতে কমতে এসে ঠেকে ৮টিতে। কংগ্রেস পার্টি কোনো আসনই পায়নি।

এরপরই দিল্লিতে সাধারণ মানুষের উদ্দেশে বার্তা দেন কেজরিওয়াল। তিনি বলেন, ‘এ জয় মানুষের জয়। কাজে বিশ্বাস রেখে ভোট দিয়েছেন সবাই। নতুন রাজনৈতিক যুগের সূচনা করেছেন।’ দিল্লিবাসীকে ধন্যবাদ দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘তৃতীয়বার আম আদমি পার্টির ওপর ভরসা রাখার জন্য দিল্লিবাসীকে ধন্যবাদ। যারা আমাকে নিজের ছেলে বলে মনে করেন, যারা আমাদের ভোট দিয়েছেন, আজকের এই জয় তাদের জয়।’

মঙ্গলবার সন্ধ্যার কিছু আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কেজরিওয়ালকে শুভেচ্ছা জানিয়ে টুইট করেন। টুইটে মোদি বলেন, ‘দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে জয় পাওয়ায় এএপি ও শ্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে শুভেচ্ছা জানাই।’ পাল্টা টুইটে কেজরিওয়াল বলেন, ‘আপনাকে ধন্যবাদ। আমাদের শহরকে বিশ্বমানের শহরে পরিণত করতে কেন্দ্রের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার ইচ্ছে পোষণ করছি।’

দিল্লির সরকারি বিদ্যালয়গুলোর উন্নয়ন, সাশ্রয়ী মহল্লা ক্লিনিক স্থাপন এবং স্বল্পমূল্যে পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য বাহবা পেয়েছেন দুই মেয়াদের মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল। প্রচারে কেন্দ্রের কাছ থেকে পুলিশ বাহিনী ও ভূমির নিয়ন্ত্রণ নিতে বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে জনমত চেয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, বিজেপি ভারতের বিতর্কিত নতুন নাগরিকত্ব আইনের (সিএএ) বিরুদ্ধে দিল্লির মুসলিমপ্রধান এলাকা শাহিনবাগের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ‘তিক্ত’ প্রচার চালিয়েছে।

দিল্লিবাসীর জন্য কেজরিওয়াল বাহিনীর নানা প্রতিশ্রুতি, বিপরীতে বিজেপির জাতীয়তাবাদী প্রচারের মধ্যে নাগরিকত্ব সংশোধন আইন (সিএএ), নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি), জনসংখ্যা নিবন্ধন (এনপিআর) ও শাহিনবাগ আন্দোলনসহ নানা ঘটনার মধ্যে এবারে দিল্লিতে ভোট হয়েছে।

মূলত শনিবারের ভোটের পর সব বুথফেরত জরিপের ফলাফলের পরেই নীল সাদা বেলুন নিয়ে উৎসবে মাতেন এএপির নেতা কর্মী-সমর্থকরা।