একনেকে ৯ প্রকল্প অনুমোদন

কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার হবে সব জেলায়

দেশের সব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেলায় কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এজন্য ২৫৫ কোটি ২২ লাখ টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। গতকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক বৈঠকে এই প্রকল্প ছাড়াও আরও আটটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। মোট ৯টি প্রকল্পের বিপরীতে ২ হাজার ৪২২ কোটি টাকার ব্যয় অনুমোদিত হয়েছে।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে বৈঠকের পর পরিকল্পনা বিভাগের সচিব মো. নূরুল আমিন সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান। সাধারণত পরিকল্পনামন্ত্রী একনেকের বৈঠক শেষে ব্রিফিং করে থাকেন। তবে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান দেশের বাইরে থাকায় সচিব গতকাল এই দায়িত্ব পালন করেন। সচিব জানান, উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও জেলা হাসপাতালগুলোর পাশাপাশি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে কিডনি রোগের চিকিৎসা হলেও রোগীর সংখ্যায় তা খুবই অপ্রতুল। অথচ কিডনি রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে গ্রামের কিডনি রোগীদের জেলা শহরেই উন্নত চিকিৎসা দিতে দেশের সব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যা ও জেলা হাসপাতালে ১০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য ধরা হয়েছে।

পরিকল্পনা বিভাগের সচিব মো. নূরুল আমিন আরও জানান, বৈঠকে রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল ফোন অপারেটর কোম্পানি টেলিটকের সেবার মান আরও উন্নত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া আরও দক্ষতার সঙ্গে কোম্পানির কার্যক্রম পরিচালনার এ নির্দেশনা দিয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপিত উচ্চ সুদের ঋণে গ্রামীণ পর্যায়ে ৫জি নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নের প্রস্তাব ফেরত দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, গ্রামপর্যায়ে টেলিটকের নেটওয়ার্ক সম্প্রাসারণ এবং ৫জি সেবা প্রদান নেটওয়ার্ক আধুনিকায়ন এই নামের একটি প্রকল্প প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা দেন। ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এই প্রকল্পটি শেষ পর্যন্ত অনুমোদন করেনি একনেক। আরও সমীক্ষার জন্য প্রকল্পটি ফেরত দেওয়া হয়েছে। নিরপেক্ষ তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে এই সমীক্ষা পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ৩ হাজার ২৭৯ কোটি টাকার প্রস্তাবিত প্রকল্পটির বাস্তবায়নকারী সংস্থা ছিল টেলিটক বাংলাদেশ। নিজস্ব সমীক্ষার ভিত্তিতেই প্রকল্পটির উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছে টেলিটক। প্রকল্পটি হাতে নেওয়ার পেছনে টেলিটকের যুক্তি হচ্ছে, শহরাঞ্চলে ইন্টারনেট সহজলভ্য হলেও গ্রামাঞ্চলের মানুষ এই সুবিধা থেকে অনেকটাই বঞ্চিত। ব্যবসায়িক দিক থেকে লাভজনক না হওয়ায় বেসরকারি খাতের মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো গ্রামাঞ্চলে ইন্টারনেট সেবা দিতে আগ্রহ কম দেখাচ্ছে। এতে ডিজিটাল বৈষম্য তৈরি হচ্ছে দেশে। প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে ৫ শতাংশ ১ হাজার ৮৯৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা ঋণ হিসেবে ও ১ হাজার ২৬২ কোটি ২০ লাখ টাকা জিওবি (ইক্যুইটি) থেকে বরাদ্দে প্রস্তাব করা হয়েছিল।

অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইন প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ, হুকুম দখল ও আনুষঙ্গিক সুবিধা উন্নয়ন উল্লেখযোগ্য। ৩০৬ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পটি সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত হবে। ২০২১ সালের জুনের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শেষ করবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।

অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে বানেশ্বর (রাজশাহী)-সারদা-চারঘাট-ঈশ্বরদী (পাবনা) মহাসড়ককে আঞ্চলিক মহাসড়ক মানে উন্নীতকরণ। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৫৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা। হবিগঞ্জ জেলার বিবিয়ানা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সামনে কুশিয়ারা নদীর উভয় তীরের সুরক্ষা প্রকল্প। ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৭৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। ৭৪ কোটি ২৫ লাখ টাকায় বিসিকের ৮টি শিল্পনগরী মেরামত ও পুনর্নির্মাণ। সৈয়দপুর-নীলফামারী মহাসড়ক প্রশস্তকরণ ও মজবুত প্রকল্পে ব্যয় বাড়ানো হয়েছে ২১৭ কোটি টাকা। এতে এই প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়াল ৪৪৩ কোটি টাকা। তেজগাঁওয়ে বিসিকের বহুতল ভবন নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানো হয়েছে ৩০ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। বিসিক প্লাস্টিক শিল্পনগরী প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানো হয়েছে ২৬৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এছাড়া খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নে অতিরিক্ত ১৪৭ কোটি টাকা ব্যয় অনুমোদন করা হয়েছে। এই নিয়ে এই প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়াল ৩৩৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।