সাগরপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে ট্রলারডুবিতে কমপক্ষে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে সেন্টমার্টিনের অদূরে দক্ষিণ পশ্চিমে এ ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে ১৩ জন নারী ও দুজন শিশু রয়েছে। দুর্ঘটনার পর ৬৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা গেলেও নিখোঁজ রয়েছে অর্ধশতাধিক মানুষ। ওই ট্রলারে শতাধিক যাত্রী ছিল, তাদের বেশিরভাগই রোহিঙ্গা।
জীবিত উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের বরাত দিয়ে সেন্টমার্টিন কোস্টগার্ডের স্টেশন কমান্ডার মো. নাঈমুল হক জানান, গতকাল ভোর সাড়ে ৪টার দিকে সেন্টমার্টিনের অদূরে দক্ষিণ পশ্চিমে ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে সকাল ৬টার দিকে সেন্টমার্টিন কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
নাঈমুল হক বলেন, ‘রাত ৩টার দিকে টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালীপাড়া থেকে অবৈধভাবে সাগরপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য দালালের মাধ্যমে ট্রলারে ওঠে। এ সময় ৭ ঘণ্টা ট্রলারটি চলার পর সেন্টমার্টিন থেকে ৩ থেকে ৪ নটিক্যাল মাইল পূর্ব-দক্ষিণে অথৈ পানিতে ডুবে যায়। পরে মাছধরা জেলেদের মাধ্যমে খবর পেয়ে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করে। এ সময় ট্রলারডুবির ঘটনায় ১৫ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। আর ভাসমান অবস্থায় ৭২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। ট্রলারে মোট ১৩৮ জন যাত্রী ছিল বলে জানা গেছে। বাকিরা এখনো নিখোঁজ রয়েছে।’
নৌবাহিনীর সেন্টমার্টিন স্টেশন কমান্ডার জাহিদুল হক জানিয়েছেন, ট্রলারডুবির ঘটনায় ৭২ জন জীবিতের মধ্যে ২ জনকে দালাল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ট্রলারডুবিতে জীবিত উদ্ধার মো. আবদুল্লাহ বলেন, ‘গত সোমবার রাতে ১৩৮ জন মালয়েশিয়াগামী যাত্রীকে টেকনাফের নোয়াখালীপাড়া গ্রাম থেকে ছোট ছোট ট্রলারে করে বড় একটি ট্রলারে নিয়ে যায় দালালরা। ভোররাতের দিকে সেন্টমার্টিনের দক্ষিণের দিকে ছেড়া দ্বীপের কাছে পৌঁছালে ট্রলারটি পাথরের সঙ্গে ধাক্কা খায়। পরে তলানি ফেটে ট্রলারটিতে পানি প্রবেশ করতে শুরু করে। এ সময় দালাল ও মাঝিমাল্লারা পানিতে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যায়।’
ট্রলারডুবির পর জীবিত উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গা নারী রাজুমা আক্তার জানান, তিনি উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা। উন্নত জীবনের আশায় অন্য রোহিঙ্গা সদস্যদের সঙ্গে দালালের মাধ্যমে মালয়েশিয়া যেতে সাগর পাড়ি দিচ্ছিলেন।
তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ৫ বছর ধরে আমার স্বামী মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন। ইচ্ছা ছিল স্বামীর কাছে যাব। তবে সেই স্বপ্ন আর বাস্তব হলো না।’