জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শিশু পার্ক থাকা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে হাইকোর্ট। সেখানে কিছুতেই এটি থাকতে পারে না বলেও অভিমত দিয়েছে আদালত। ৭ মার্চকে ‘জাতীয় ঐতিহাসিক দিবস’ ঘোষণার নির্দেশনা চেয়ে করা একটি রিট আবেদনের শুনানিতে গতকাল মঙ্গলবার এ অভিমত ও মন্তব্য আসে আদালতের।
ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৫ ফেব্রুয়ারি এক আদেশে একাত্তরে ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণের স্থান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা ও সেখানে থাকা স্থাপনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চেয়েছিল বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল মঙ্গলবার শুনানিতে হাইকোর্ট বলে, সেখানে বঙ্গবন্ধুর নাম ও স্মৃতি মুছে ফেলতে পরিকল্পিতভাবে অসৎ উদ্দেশ্যে শিশু পার্ক নির্মাণ ও গাছ লাগানো হয়েছিল।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী বশির আহমেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এম সাইফুল আলম। আদালত পরবর্তী শুনানি ও আদেশের জন্য ১৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন।
গতকাল শুনানিতে মন্ত্রিপরিষদের পাঠানো একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্র্তৃক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাস্তবায়নাধীন স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ে ৭ মার্চের ভাষণস্থলে মঞ্চ পুনর্নির্মাণ ও বঙ্গবন্ধুর তর্জনি উত্তোলিত প্রতিকৃতি স্থাপনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ৭ মার্চকে জাতীয় দিবস ঘোষণা করার বিষয়ে একটি প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য বিস্তারিত জানতে চেয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পত্র পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব পাওয়া গেলে এ বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার বলেন, ‘হাইকোর্ট মনে করে, ‘ইতিহাস যদি তার নিজস্ব গতিতে চলে তাহলে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শিশু পার্ক থাকার কথা নয়। বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি মুছে ফেলার চেষ্টা, ইতিহাসকে বিকৃত করা, সোহরাওয়ার্দীর যে ঐতিহাসিক ভাবমূর্তি সেটি বিনষ্ট করতেই সেখানে শিশু পার্ক নির্মাণ করা হয়েছে। আদালত বলেছে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পাশে রমনা কালীমন্দির অনেক পুরনো। সেটি নিয়ে কোনো ধরনের কনফিউশনের সুযোগ নেই। কিন্তু মন্দিরের পাশে কমপ্লেক্স স্থাপন নিয়ে আপত্তি রয়েছে আদালতের।’