সিঙ্গাপুরে আরও একজন বাংলাদেশি করোনাভাইরাসজনিত রোগে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন আক্রান্ত ওই বাংলাদেশি ব্যক্তির বয়স ৩৯ বছর। তিনি সেলেটার অ্যারোস্পেস হাইটে কাজ করেন।
গতকাল সিঙ্গাপুর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সে দেশে নতুন করে দুজন আক্রান্ত হয়ে কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৭ জনে। এই ৪৭ নম্বর রোগীই হলেন আক্রান্ত দ্বিতীয় বাংলাদেশি। এর আগে সোমবার পর্যন্ত দেশটিতে যে ৪৫ রোগী শনাক্ত হয়েছিল তার মধ্যে ৪২ নম্বর রোগীও ছিলেন একজন বাংলাদেশি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম বাংলাদেশির মতো দ্বিতীয়জনেরও চীন ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নেই। ৩৯ বছর বয়সী বাংলাদেশি ওই ব্যক্তির শরীরে গত ৬ ফেব্রুয়ারি করোনাভাইরাসের লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছিল। ৭ ফেব্রুয়ারি একটি সাধারণ ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে যান। ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি এনসিআইডিতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে যান। সেখানে তার করোনাভাইরাসে সংক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। বর্তমানে তিনি সিঙ্গাপুরের বিশেষায়িত হাসপাতালে কোয়ারেন্টাইনে আছেন।
দেশটিতে এই ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম বাংলাদেশির বয়সও ৩৯ বছর। তিনিও সেলেটার অ্যারোস্পেস হাইটে থাকেন। গত ১ ফেব্রুয়ারি ওই বাংলাদেশির মধ্যে করোনাভাইরাস সংক্রমণের উপসর্গ দেখা দেয়। ৩ ফেব্রুয়ারি তিনি ডাক্তারের কাছে যান। এরপর ৫ ফেব্রুয়ারি যান চেঙ্গি জেনারেল হাসপাতালে। প্রাথমিক পরীক্ষার পর ওই বাংলাদেশিকে সেখানে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে ভর্তি করে নেওয়া হয়। শনিবার বিকেলে পরীক্ষার ফলাফলে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে নেওয়া হয় আইসোলেশন ইউনিটে।
পূর্ব এশিয়ার দ্বীপ দেশ সিঙ্গাপুরে সব মিলিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার বাংলাদেশি রয়েছেন বলে ধারণা করা হয়। তাদের নতুন এ করোনাভাইরাস থেকে সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজনে হাইকমিশনে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এম জে এইচ জাবেদ। দেশটিতে গত ২৩ জানুয়ারি করোনাভাইরাসের প্রথম রোগী শনাক্ত হয়।