সাইড লাইনের বিনিয়োগকারীরা ফিরছেন পুঁজিবাজারে

টানা দুই বছরের দরপতনে বড় লোকসান এড়াতে বিনিয়োগকারীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ শেয়ার বিক্রি করে সাইড লাইনে চলে গিয়েছিলেন। পুঁজিবাজার চাঙ্গা হলে আবার বিনিয়োগে ফেরার প্রত্যাশায় ছিলেন তারা। এখন পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক তহবিল গঠন করায় আবারও চাঙ্গাভাব ফিরে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে সাইড লাইনে থাকা বিনিয়োগকারীরাও পুঁজিবাজারে ফিরতে শুরু করেছেন। আর এর প্রভাব পড়ছে লেনদেন ও সূচকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তহবিল গঠনের পর থেকেই স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক ও লেনদেনে ধারাবাহিকভাবে উত্থান দেখা দিয়েছে।

চাঙ্গা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ায় প্রায় এক বছরে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই)। গতকাল ডিএসইতে কেনাবেচা হয়েছে ৭৩০ কোটি টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিট। ২০১৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারির পর এটিই ডিএসইতে সর্বোচ্চ লেনদেন। সে সময় ডিএসইতে ৮৯১ কোটি টাকা কেনাবেচা হয়েছিল। গত ১০ ফেব্রুয়ারির পর থেকে স্টক এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন ধারাবাহিকভাবে বাড়তে দেখা যাচ্ছে। গত তিন কার্যদিবসে ডিএসইর লেনদেন বেড়েছে ১১৪ শতাংশ। গতকাল অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেন ৭৩ কোটি টাকা।

এদিকে ক্রেতা বাড়ায় বেশিরভাগ শেয়ারের দরেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। গতকাল ডিএসইতে কেনাবেচা হওয়া প্রায় ৭৩ শতাংশ সিকিউরিটিজের দর বেড়েছে। তবে বড় মূলধনী কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দরবৃদ্ধির কারণে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচকটি বেড়েছে ৮৩ দশমিক ৭ পয়েন্ট। দিনশেষে সূচকটি ৪৫৬৪ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। গত বছরের ৮ ডিসেম্বরের পর সূচকটি সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে।

পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল লেনদেন শুরুতে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচকটি কিছুটা ধীরগতিতে থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তি পয়েন্ট যোগ হতে থাকে। জ¦ালানিসহ বড় মূলধনী প্রায় সব কোম্পানির দর বাড়ায় শেষ পর্যন্ত সূচকের বড় উত্থান দিয়ে গতকালের লেনদেন শেষ হয়। পুঁজিবাজারে ক্রেতার ভিড় বাড়তে থাকায় পাট ছাড়া সবগুলো খাতের বাজার মূলধন বেড়েছে। এর মধ্যে সূচক বাড়াতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব রেখেছে বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি খাত। এছাড়া প্রকৌশল, ব্যাংক, এনবিএফআই ও বস্ত্র খাতও সূচক বাড়াতে অগ্রণী ভূমিকা রাখে।

গতকাল সবচেয়ে বেশি বাজার মূলধন বেড়েছে কাগজ ও প্রকাশনা খাতের। বসুন্ধরা পেপার মিলসের শেয়ারের সর্বোচ্চ দরবৃদ্ধিতে গতকাল এ খাতটির বাজার মূলধন বেড়েছে ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ। গতকাল সেবা ও নির্মাণ খাতের বাজার মূলধন বেড়েছে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। দরবৃদ্ধির তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি খাত। একটি বাদে গতকাল এ খাতটির সবগুলো শেয়ারের দর বেড়েছে। এতে খাতটির বাজার মূলধন বেড়েছে প্রায় সাড়ে ৩ শতাংশ। এছাড়া ব্যাংক, এনবিএফআই, প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি ও বস্ত্র খাতের বাজার মূলধন বেড়েছে ১ দশমিক ৪ থেকে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ পর্যন্ত।

গতকাল ডিএসইতে সবচেয়ে বেশি কেনাবেচা হয়েছে প্রকৌশল খাতে। এ খাতে ১১১ কোটি টাকা কেনাবেচা হয়েছে, যা ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৬ শতাংশ। এছাড়া বস্ত্র ও ফার্মাসিউটিক্যালসে ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৫ শতাংশ করে এসেছে। এর বাইরে ডিএসইর মোট লেনদেনের ১২ শতাংশ আসে বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি খাত থেকে। লেনদেনের ভিত্তিতে ডিএসইতে সবচেয়ে বেশি কেনাবেচা হয়েছে খুলনা পাওয়ার, লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ, ইন্দো-বাংলা ফার্মা, শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ,  এসএস স্টিল, ওরিয়ন ইনফিউশন, ডরিন পাওয়ার, এডিএন টেলিকম, সামিট পাওয়ার ও বেক্সিমকো লিমিটেডের।