চাকরি দেওয়ার কথা বলে এক নারীর কাছ থেকে ৬ লাখ ৪৪ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাভার কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন ও দুগ্ধ খামারের বায়ার অফিসার মো. শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গতকাল বৃহস্পতিবার আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। তার অভিযোগ, ওই টাকা চাইতে গেলে শফিকুর গালিগালাজ করেন এবং তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দেন।
অভিযোগ থেকে জানা যায়, ধামরাই উপজেলার ডাউটিয়া গ্রামের মৃত নূর হোসেনের মেয়ে শাহানাজ বেগম (৩১) দুই সন্তান নিয়ে ১০ বছর আগে সাভারে আসেন। প্রায় তিন বছর আগে সাভার কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন ও দুগ্ধ খামারের বায়ার অফিসার শফিকুর রহমান শাহানাজকে অফিস পরিচারিকা হিসেবে সাত হাজার টাকা বেতনে মৌখিক নিয়োগ দেন। প্রতি মাসে চার হাজার টাকা চাকরি স্থায়ীকরণের জন্য কেটে রেখে তিন হাজার টাকা করে তাকে দিতেন। তিন মাস আগে প্রতিষ্ঠানটিতে চুক্তিভিত্তিক লোক নিয়োগ দেওয়া হবে জানিয়ে শাহানাজকে সেখানে নিয়োগ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে জমাকৃত ১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা ছাড়াও আরও পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন শফিকুর। পরে শাহানাজ গরু বিক্রি এবং ঋণ করে গত ১১ নভেম্বর ৩ লাখ এবং ৯ ডিসেম্বর আরও ২ লাখ টাকা দেন। টাকার বিনিময়ে অন্যকে চাকরি দিয়ে শাহানাজকে দিতে পারবেন না বলে জানিয়ে দেন শফিকুর। পরে টাকা ফেরত চাইলে তাকে ঘোরাতে থাকেন। গত ৭ ফেব্রুয়ারি
সকালে টাকা চাইতে শফিকুর রহমানের সরকারি বাসায় গেলে শাহানাজকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দেন।
অভিযোগের বিষয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘শাহানাজ তিন হাজার টাকা বেতনে আমার বাসায় কাজ করত। এর ফাঁকে বিভিন্ন সময় প্রয়োজন হলে অফিসেও টুকিটাকি কাজ করে দিত। কিন্তু টাকা নিয়ে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতির বিষয়টি মিথ্যা এবং সাজানো।’ আশুলিয়া থানার ওসি শেখ রিজাউল হক দিপু বলেন, ‘ঘুষ নিয়ে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রতারণার প্রমাণ পাওয়া গেলে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’