দক্ষিণখানের বাসায় দুই শিশুসহ মায়ের লাশ

রাজধানীর দক্ষিণখানের প্রেমবাগানের একটি বাসা থেকে এক নারী ও তার দুই শিশুর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার রাতে কেসি মডেল স্কুলের পেছনের গলির পাঁচতলা একটি ভবনের চতুর্থ তলার ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে ওই তিনটি লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ বলেছে, তারা হলো মা মুন্নি বেগম (৪৩), তার ছেলে ফারহান (১১) ও মেয়ে লাইবা (৩)। ধারণা করা হচ্ছে, ৩-৪ দিন আগে তাদের হত্যা করা হয়েছে। ফারহানের বাবা বিটিসিএলের সহকারী প্রকৌশলী রাকিব উদ্দিন ভূঁইয়ার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার নাবিদ কামাল শৈবাল মোবাইল ফোনে দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত কয়েক দিন ধরে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে গতকাল বিকেলে রাকিব ও মুন্নির স্বজনরা খোঁজ নিতে গিয়ে বাসাটি বন্ধ পান। এ সময় ভেতর থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। পরে স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপ করে ঘটনাটি তারা দক্ষিণখান থানা পুলিশকে জানায়। এরপর পুলিশ সেখানে গিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। ফারহান কেসি স্কুলের তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ত।

নিহতদের স্বজন ও প্রতিবেশীরা জানান, ফারহানের বাবা বিটিসিএলের উত্তরা কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী ছিলেন। তিনি বেশ কয়েকদিন ধরেই নিখোঁজ রয়েছেন। রাকিব ও মুন্নির গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরে। তারা সম্পর্কে খালাত ভাই-বোন ছিলেন। দীর্ঘদিনের প্রেমের পর ১২ বছর আগে তারা বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই তারা ঢাকায় থাকেন। গত চার বছর ধরে তারা প্রেমবাগানের ওই ফ্ল্যাটে থাকতেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রতিবেশী জানান, প্রকৌশলী রাকিব মাস তিনেক আগেও একবার নিখোঁজ হয়েছিলেন। কয়েক দিন পর তিনি ফিরে আসেন। তিনি নিয়মিত নামাজ পড়তেন। প্রতিবেশীদের সঙ্গেও তার সম্পর্ক ভালো ছিল এবং তার মধ্যে কখনো তারা খারাপ কিছু দেখেননি।

পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, রাকিবের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। তাকে পাওয়া গেলেই এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা সহজ হবে। মা ও ছেলের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, মা ও ছেলেকে শ্বাসরোধে হত্যার পর মেয়েটিকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে বেশকিছু আলামত সংগ্রহ করে অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি কোনো ধরনের বিষক্রিয়া হয়েছিল কি না, তাও পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।

গ্রামের বাড়ি থেকে আসা রাকিব ও মুন্নির স্বজনদের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দক্ষিণখান থানার এক কর্মকর্তা। তিনি আরও জানান, চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে থানা পুলিশের পাশাপাশি সিআইডি, গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) ও র‌্যাব তদন্তে নেমেছে। সবাই নিখোঁজ প্রকৌশলী রাকিবের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।