শরিয়ত বয়াতির নিঃশর্ত মুক্তি দাবি অ্যামনেস্টির

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া টাঙ্গাইলের লোকসংগীত শিল্পী শরিয়ত বয়াতির নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। গতকাল শুক্রবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বরাবর লেখা এক চিঠিতে সংস্থাটি এই দাবি জানায়।

শরিয়ত বয়াতির মুক্তির দাবি জানিয়ে অ্যামনেস্টির এক বিবৃতিতে বলা হয়, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে বাংলাদেশি লোকসংগীত শিল্পী শরিয়ত বয়াতিকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার অভিযোগে তিনি এখন পাঁচ বছর কারাদণ্ডের মুখোমুখি। শরিয়ত বয়াতিকে অবশ্যই দ্রুত এবং নিঃশর্ত ছেড়ে দিতে হবে।

মানবাধিকার সংস্থাটির দক্ষিণ এশিয়ার মুখপাত্র সাদ হামাদি বলেছেন, ‘বাংলাদেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কীভাবে আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার লঙ্ঘন করছে শরিয়ত বয়াতিকে গ্রেপ্তার এবং পরবর্তী পরিস্থিতি তার স্পষ্ট উদাহরণ।’

অ্যামনেস্টির বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই ধরনের গ্রেপ্তার হতাশা সৃষ্টি করে। সাংবাদিকদের থামানো এবং যে কেউ ভিন্নমত প্রকাশ করলে তাদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ইচ্ছামতো ব্যবহার ভয়ের কারণ। এছাড়া নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক চুক্তিসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সঙ্গে সংগতি রেখে সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরামর্শ করে বাংলাদেশ এ-সংক্রান্ত আইন সংশোধন করবে বলেও আশা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

গত ১১ জানুয়ারি ময়মনসিংহের ভালুকার বাশিল এলাকা থেকে শরিয়ত বয়াতিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের আগধল্যা গ্রামে। একই গ্রামের ফরিদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত আনার অভিযোগ শরিয়ত বয়াতির বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন।

ওই মামলায় অভিযোগে বলা হয়, শরিয়ত বয়াতি ঢাকার ধামরাইয়ের এক গানের অনুষ্ঠানে আগে দেওয়া বক্তব্যে বলেছেন যে, গান-বাজনা হারাম বলে ইসলাম ধর্মে কোনো উল্লেখ নেই। কেউ প্রমাণ দিলে তিনি গান ছেড়ে দেবেন। সেই বক্তব্যের ভিডিও ইউটিউবে দেখে বাদী মামলা করেন।