চুয়াডাঙ্গার প্রধান সড়কগুলো থেকে অযান্ত্রিক যানবাহন উচ্ছেদের প্রতিবাদে জেলার চারটি উপজেলাতে একযোগে লাগাতার ধর্মঘট পালন করছে ইজিবাইক মালিক শ্রমিকরা।
শনিবার সকাল থেকে এ ধর্মঘট পালন করা হচ্ছে।
ধর্মঘট চলাকালে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে অবস্থান নিয়ে পিকেটিং করতে দেখা গেছে শ্রমিকদের। এ সময় ভাঙচুর করা হয় বেশি কয়েকটি ইজিবাইক।
এদিকে ইজিবাইক শ্রমিকদের আকস্মিক ধর্মঘটে চরম দুর্ভোগে পড়েছে শহরবাসী। নির্ধারিত গন্তব্যে যেতে গিয়ে যান না পেয়ে বিপাকে পড়তে হয় শত শত যাত্রী সাধারণকে।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়তে দেখা গেছে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের। তারা পরীক্ষা কেন্দ্রে আসতে গিয়ে যানবাহন না পেয়ে পড়েন দুর্ভোগে। অনেকে হেঁটে কেন্দ্রে আসতে গিয়ে নির্ধারিত সময়ে কেন্দ্রে ঢুকতে পারেননি। এ সুযোগে কিছু রিকশা চালকও হাঁকিয়ে বসেন কয়েকগুণ বেশি ভাড়া।
পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ করে ইজিবাইক বন্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এসএসসি পরীক্ষার্থী তন্ময় আহম্মেদ নামে এক শিক্ষার্থী।
তিনি বলেন, ‘কোন সিস্টেমে যাচ্ছি আমরা। মন চাইলো আর হঠাৎ করেই ধর্মঘট ডেকে বসলাম। এটি কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।’
অপর শিক্ষার্থী তানজিলা মৌসুমী বলেন, বাড়ি থেকে বের হয়ে শুনছি অটোবাইক ধর্মঘট। চার কিলোমিটার হেঁটে কেন্দ্রে পৌঁছলাম। পরীক্ষা শুরু হয়ে গেছে প্রায় আধা ঘণ্টা আগে।
আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাংবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রহমান বলেন, জরুরি কাজে সকালে জেলা শহরে আসছিলাম। ভালাইপুর মোড়ে আসতেই কিছু উচ্ছৃঙ্খল শ্রমিক আমাদের গাড়িটি আটকে ভাঙচুর করে। মারধর করে চালককে। উপান্তর না পেয়ে হেঁটেই বাড়ি ফিরে আসতে হয়।
শনিবার দিনভর চুয়াডাঙ্গা শহরের পাশাপাশি উপজেলা শহরগুলোতে দেখা গেছে কিছু অটো শ্রমিক মোড়ে মোড়ে অবস্থান নিয়ে পিকেটিং করছে। প্রকাশ্যে ভাঙচুর করছে অটোবাইক।
চুয়াডাঙ্গা জেলা অটোবাইক শ্রমিক কল্যাণ সোসাইটির সভাপতি মুনতাজুর রহমান জানান, চুয়াডাঙ্গার চারটি উপজেলাতে প্রায় ২০ হাজার ইজিবাইক আছে। অনেক শিক্ষিত বেকার চাকরি না পেয়ে স্থানীয় এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে গাড়ি কিনে সংসার চালাচ্ছেন। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন ইজিবাইককে অবৈধ যান ঘোষণা করে সড়ক থেকে উচ্ছেদের ঘোষণা দিয়েছেন। এর প্রতিবাদে আমরা রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছি।
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক শরীফুল ইসলাম সাজু বলেন, অটোবাইক যদি অবৈধ যানবাহন তাহলে সরকার অটোবাইক আমদানি করছে কেন। অটোবাইক বন্ধ হলে হাজার হাজার পরিবারকে রাস্তায় বসতে হবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কানাই লাল সরকার বলেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক জেলার প্রধান সড়কগুলোতে আমরা কোনোভাবেই অযান্ত্রিক যান চলাচল করতে দেবো না। এ বিষয়ে আমাদের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। তবে ফিডার সড়কগুলো ও গ্রাম্য সড়কগুলোতে চলাচলে কোনো বিধিনিষেধ নেই।
প্রসঙ্গত, গত ১০ ফেব্রুয়ারি চুয়াডাঙ্গার পুলিশ প্রশাসন ৪ দিনের আল্টিমেটাম দিয়ে চুয়াডাঙ্গার সড়কগুলো থেকে অযান্ত্রিক সব ধরনের যান উচ্ছেদের ঘোষণ দেয়। জেলার পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম নিজেই রাস্তায় নেমে অযান্ত্রিক যানচলাচলে কঠোর নির্দেশনা দেন। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি সেই আল্টিমেটাম শেষ হয়েছে। শনিবার নির্ধারিত দিনে জেলার সব রুটে পুলিশ অবস্থান নিয়ে অযান্ত্রিক যান আটকে অভিযান শুরু করেছে। এরই প্রতিবাদে ইজিবাইক মালিক শ্রমিকরা লাগাতার ধর্মঘট পালন করছেন।