সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ পেল পদ্মা নদীবেষ্টিত শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার চরআত্রা এবং নওপাড়া ইউনিয়নের প্রায় এক হাজার পরিবার।
শনিবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে চরআত্রা আজিজিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠ প্রাঙ্গণে পানিসম্পদ উপমন্ত্রী ও শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য একেএম এনামুল হক শামীম এ বিদ্যুৎ সংযোগ উদ্বোধন করেন।
পরবর্তীতে দুটি ইউনিয়নসহ ভেদরগঞ্জ, জাজিরা উপজেলার কুন্ডেরচর, কাঁচিকাটা ইউনিয়ন এবং চাঁদপুর জেলার তিনটি ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার পরিবার পাবে এ বিদ্যুৎ সংযোগ।
বিদ্যুৎ সংযোগ উদ্বোধন ও সমাবেশে পানিসম্পদ উপমন্ত্রী ও শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য একেএম এনামুল হক শামীম বলেন, শেখ হাসিনার উদ্যোগ, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ। বাংলাদেশের প্রত্যেকটি গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর কন্যা। আমরা তার ঘোষণা বাস্তবায়ন করছি। নির্বাচনের সময় প্রতিশ্রুতি ছিল দ্রুত সময়ের মধ্যে চরবাসীকে বিদ্যুৎ দেওয়া হবে। পদ্মার দুর্গম চর হওয়ায় সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে বিদ্যুতের আলো পৌঁছে দেওয়া হলো চরবাসীদের।
উপমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মুজিব বর্ষের বিশেষ উপহার হিসেবে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে দুর্গম চরের মানুষ বিদ্যুৎ পেল।
এর আগে সকালে নওপাড়া বাজার সংলগ্ন নড়িয়া 'খ' নওপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিস, নওপাড়া মুন্সী আজিজুল হক উচ্চ বিদ্যালয় নতুন নামকরণের ভিত্তিপ্রস্তর, চরআত্রা মুন্সী আলীমুজ্জামান রতন সড়ক ও চরআত্রা আজিজিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উদ্বোধন করেন।
এ ব্যাপারে আরইবি ঢাকা জোনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জয়নাল আবেদীন জানান, শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ, নড়িয়া ও জাজিরা উপজেলার কাঁচিকাটা, চরআত্রা, নওপাড়া, কুন্ডেরচর ইউনিয়ন ও চাঁদপুর জেলার তিনটি ইউনিয়নে প্রায় ২০ হাজার গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানের জন্য একটি ১০ এমভিএ উপকেন্দ্র, ২০ কিলোমিটার ৩৩ কেভি লাইন, ৪০০ কিলোমিটার ১১ কেভি লাইন নির্মাণ বর্তমানে চলমান আছে। ১০০ কিলোমিটার লাইন নির্মাণ বর্তমানে সম্পূর্ণ করা হয়েছে।
এছাড়া ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ৩৩/১১কেভি ১০ এমভিএ উপকেন্দ্র নির্মাণ কাজের ৮০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪ কিলোমিটার ৩৩ কেভি সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপন সম্পন্ন করা হয়েছে। ২০২০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ১০০ ভাগ বিদ্যুতায়ন সম্পন্ন করা লক্ষ্যে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নওপাড়া ইউনিয়নে এক সেট ৩৩ কেভি ডাবল সার্কিট টাওয়ার নির্মাণ করা হবে।
১০ কোটি টাকা ব্যয়ে কাঁচিকাটা ইউনিয়নে এক সেট ৩৩ কেভি ডাবল সার্কিট টাওয়ার নির্মাণ এবং ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে দুই কিলোমিটার ৩৩ কেভি সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপন সম্পন্ন করা হবে বলে জানান তিনি।
বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়া চরআত্রা বাজারের চায়ের দোকানদার হবি মাঝি বলেন, আজ আমার দোকানে বিদ্যুতের আলো জ্বলছে। সন্ধ্যায় দোকানে আলো ঝলমল করবে। আনন্দে চা বিক্রি করবো।
নওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদ আজগর সোহেল মুন্সী বলেন, আমাদের ইউনিয়নটি একটি দুর্গম চর। পদ্মানদী পাড়ি দিয়ে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে এখানে বিদ্যুৎ এসেছে তা কখনো ভাবিনি। এলাকায় বিদ্যুৎ এসেছে এমন খবরে আমরা আনন্দিত।