আওয়ামী লীগের মনোনয়নে চমক

চট্টগ্রামে মেয়র পদে রেজাউল তাপসের আসনে মহিউদ্দিন

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের  মনোনয়ন পেয়েছেন নগর আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম রেজাউল করিম চৌধুরী। চসিকের মেয়রের দায়িত্ব পালনকালে চট্টগ্রামের রাজনীতিতে একক আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টার অভিযোগে বাদ দেওয়া হয়েছে আ জ ম নাছিরকে। আর ঢাকা-১০ আসনের উপনির্বাচনে দলটির মনোনয়ন পেয়েছেন বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন।

গতকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে দলের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে গাইবান্ধা-৩, বাগেরহাট-৪, বগুড়া-১ ও যশোর-৬ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়। বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের মনোনয়নপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করেন।

গাইবান্ধা-৩ আসনে মনোনয়ন তাপসের আসনে মহিউদ্দিনপেয়েছেন কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলছুম স্মৃতি, বাগেরহাট-৪ আসনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য আমিরুল ইসলাম মিলন, বগুড়া-১ আসনে প্রয়াত সংসদ সদস্য আবদুল মান্নানের স্ত্রী শাহাদারা মান্নান এবং যশোর-৬ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার। 

শূন্য হওয়া পাঁচটি আসনের মধ্যে ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিতে গত ২৯ ডিসেম্বর সংসদ সদস্য থেকে পদত্যাগ করেন। গাইবান্ধা-৩, বাগেরহাট-৪, বগুড়া-১ ও যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্যরা মারা যাওয়ায় আসনগুলো শূন্য হয়। এর মধ্যে ঢাকা-১০, গাইবান্ধা-৩ এবং বাগেরহাট-৪ আসনে আগামী ২১ মার্চ ভোট অনুষ্ঠিত হবে। বগুড়া-১ ও যশোর-৬ আসনের উপনির্বাচনের তারিখ পরে জানানো হবে।

গাইবান্ধা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইউনুস আলী সরকার গত ২৭ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। গত ১০ জানুয়ারি বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোজাম্মেল হোসেন বিএসএমএমইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। গত ১৮ জানুয়ারি বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল মান্নান হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। গত ২১ জানুয়ারি যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইসমত আরা সাদেক মারা যান।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তফসিলের বিষয়ে আজ রবিবার নির্বাচন কমিশনের বৈঠকে আলোচনা হবে। মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

ঢাকা-১০ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি। এর আগে তিনি বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি ছিলেন।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়া মুক্তিযোদ্ধা এম রেজাউল করিম চৌধুরী মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও আহ্বায়ক ছিলেন। চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন। পাশাপাশি চট্টগ্রাম নাগরিক আন্দোলনের আহ্বায়ক। এছাড়া চট্টগ্রামের উন্নয়নের দাবিতে গঠিত চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ, চট্টগ্রামের ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও চট্টগ্রামের দুঃখ খ্যাত চাকতাই খাল খনন সংগ্রাম কমিটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বর্ষীয়ান এই রাজনীতিক।

বাগেরহাট-৪ আসনে আমিরুল আলম মিলন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। টানা দুই মেয়াদে তিনি এই দায়িত্বে রয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি মোরলগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। এর আগে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন।

গাইবান্ধা-৩ আসনে মনোনয়ন পাওয়া উম্মে কুলছুম স্মৃতি সম্প্রতি আওয়ামী কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া বিগত সংসদ নির্বাচনে তিনি সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য ছিলেন। বগুড়া-১ আসনে মনোনয়ন পাওয়া শাহাদারা মান্নান প্রয়াত সংসদ সদস্য আবদুল মান্নানের স্ত্রী হলেও তিনি রাজনীতির মাঠে বেশ সক্রিয়। বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সদস্য। যশোর-৬ আসনে মনোনয়ন পাওয়া শাহীন চাকলাদার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান।

চসিক নির্বাচন সামনে রেখে গত ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে মেয়র ও কাউন্সিলর পদে মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু করে আওয়ামী লীগ। বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, সাবেক মেয়র এম মনজুর আলম, সাবেক মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম, সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্ত্রী হাসিনা মহিউদ্দিনসহ ১৯ জন মেয়রপদে দলীয় মনোনয়ন পেতে ফর্ম কেনেন। এর মধ্যে সবাইকে ডিঙিয়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে চমক সৃষ্টি করলেন এম রেজাউল করিম চৌধুরী। তিনি মনোনয়ন পাওয়ায় গত রাতে চান্দগাঁও, বহদ্দার হাট, জামালখানসহ নগরের বিভিন্ন এলাকায় উল্লাস করেন দলীয় নেতাকর্মীরা।

রেজাউল করিম চৌধুরী ১৯৫৩ সালে চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও থানার সম্ভ্রান্ত বহদ্দার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা হারুনুর রশিদ চৌধুরী ছিলেন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা। তিনি চট্টগ্রাম সরকারি মুসলিম হাইস্কুল থেকে এসএসসি, চট্টগ্রাম কলেজ থেকে এইচএসসি ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ১৯৬৭ সালে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগে যোগ দেন। তিনি চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি, বৃহত্তর চট্টগ্রাম জেলা ছাত্রলীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, আহ্বায়কসহ বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯২ সালে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। এরপর থেকে নগর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৯১-৯২ সালে চট্টগ্রাম মুক্তিযুদ্ধের বিজয়মেলা কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন তিনি।