ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা

স্কুলের নির্বাচনী পরীক্ষার প্রশ্নে এসএসসির প্রশ্নপত্র

এবারের ঢাকা বোর্ডের ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়ের নৈর্ব্যত্তিক প্রশ্নপত্রে ৩০টির মধ্যে ২৪টি প্রশ্নই একটি স্কুলের নির্বাচনী পরীক্ষার প্রশ্নপত্র থেকে হুবহু তুলে দেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার পরীক্ষা শেষে একাধিক পরীক্ষার্থী দেশ রূপান্তরকে জানায়, প্রশ্নপত্রের ২৪টি প্রশ্নই সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট কলেজের নির্বাচনী পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে রয়েছে। পরে ওই প্রশ্নপত্র দুটি মিলিয়ে এর সত্যতা পাওয়া গেছে। পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বলছেন, ‘এটি রীতিমতো প্রশ্নপত্র ফাঁসেরই নামান্তর।’ তবে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড কর্র্তৃপক্ষ বলছে, অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বছর ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয় এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের নিয়মিত এবং নিয়মিতদের দেওয়া হয় অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র। এছাড়া বিভিন্ন বিষয়ের পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের হুবহু মিল পাওয়া যায় বিভিন্ন টেস্ট গাইড ও স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নির্বাচনী পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সঙ্গে। এসব ভুল স্বীকার করে বিষয়গুলো তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

ঢাকা বোর্ডের ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়ের পরীক্ষার ‘ক’ সেট প্রশ্নপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, এতে ৫টি প্যাসেজের আলোকে ৩০টি নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন দেওয়া হয়েছে। যার পূর্ণমান ৩০। সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট কলেজের নির্বাচনী পরীক্ষার প্রশ্নপত্রটি আগেই ‘পাঞ্জেরি গাইডে’ স্থান পেয়েছে। প্রশ্নপত্র দুটি মিলিয়ে দেখা গেছে, সৈয়দপুর কলেজের নির্বাচনী পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের ৪টি প্যাসেজ ও ২৪টি প্রশ্নের হুবহু মিল রয়েছে ঢাকা বোর্ডের প্রশ্নপত্রটির সঙ্গে।

গতকাল পরীক্ষা শেষে কয়েকজন পরীক্ষার্থী বলে, একটি স্কুলের নির্বাচনী পরীক্ষার প্রশ্নপত্র হুবহু যদি পরীক্ষায় তুলে দেওয়া হয় তাহলে এই পরীক্ষা নেওয়ার কোনো মানেই হয় না। এরপর থেকে পরীক্ষার্থীরা শুধু গাইড বই থেকে বিভিন্ন স্কুলের নির্বাচনী পরীক্ষার প্রশ্নপত্রই পড়বে। ভিকারুননিসা নূন স্কুলের পরীক্ষার্থী দীপান্বিতা কবীর দেশ রূপান্তরকে বলে, ‘এটা প্রশ্ন ফাঁসেরই নামান্তর। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষার প্রশ্ন প্রণয়নে এমন গাফিলতি অগ্রহণযোগ্য।’ সে আরও বলে, ‘যারা পরীক্ষার আগের রাতে এই প্রশ্নের সলিউশন করেছে তারা বাড়তি সুবিধা পাবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জিয়াউল হক গতকাল সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আসলে আমরাও এমনটি প্রত্যাশা করি না। বিষয়টি খুবই নির্মম। প্রশ্নপত্র প্রণয়নের কাজে জড়িতদেরকে অবশ্যই শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। আমরা অভিযোগ পেলে তদন্ত করব, তদন্তের মাধ্যমেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। পরবর্তীতে এমন ভুল যেন আর না হয় সে বিষয়ে সতর্ক করা হবে সংশ্লিষ্টদের।’