দেশের যুবসমাজকে তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ প্রদানে আরও ৩ হাজার ৩৪ কোটি টাকা চায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। এই অর্থ দিয়ে নতুন করে ৬৪ হাজার জনকে প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর বাইরে প্রশিক্ষণ উপকরণ সংগ্রহ, কম্পিউটার ল্যাবে এসি স্থাপনসহ কম্পিউটার-যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র ক্রয় করা হবে। সম্প্রতি ‘৬৪ জেলার তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবে দেশি অর্থায়ন থেকে এ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৭৪৯ কোটি টাকা। ২০১৯ সালের জুনে এর কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। পরে প্রকল্পের প্রথম সংশোধনী এনে এর ব্যয় ধরা হয় ৩ হাজার ৬৬ কোটি টাকা। মেয়াদ এক বছর বাড়ানো হয়। নতুন করে এই প্রকল্পের ব্যয় ৩ হাজার ৩৪ কোটি টাকা বাড়িয়ে ৬ হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে। এ অর্থ ব্যয়ে এক বছর সময়ও বাড়বে, অর্থাৎ ২০২১ সালের জুন নাগাদ এর কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় মূল বরাদ্দের মাধ্যমে ২৯ হাজার ৮০০ জনকে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার লক্ষ্য ছিল। এরপর প্রকল্পের প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে লক্ষ্যমাত্রা ৫৪ হাজার ৬৭০ জনে উন্নীত করা হয়। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নভেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত প্রকল্পের ৯২ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ইতিমধ্যে ৩০ হাজার ৮৮৭ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, বাকি সময়ে ২৩ হাজার ৪৮৩ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তবে নতুন করে সংশোধনী এনে ২০২১ সালের জুন নাগাদ আরও ৬৪ হাজার ৮৫০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে অধিদপ্তর।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (আইসিটি) সালেহ উদ্দিন আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আমি বিস্তারিত কিছু বলতে পারব না। এজন্য তিনি ডেস্ক অফিসার ফজলুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। এরপর ফজলুর রহমানকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলে তিনি ধরেননি।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় কম্পিউটারের বেসিক অ্যান্ড আইসিটি অ্যাপ্লিকেশন কোর্স করানো হয়। এজন্য সারা দেশের ৭৭টি কেন্দ্রে এসব প্রশিক্ষণ হয়ে থাকে। এছাড়া দেশে ৬টি বিভাগীয় শহরে প্রফেশনাল গ্রাফিক্স ডিজাইন কোর্সও করানো হয়।
পরিকল্পনা কমিশন বলছে, সরকারি খাতে উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেলে সংশোধনীর পরিবর্তে চলমান প্রকল্পের কাজ শেষ করে নতুন প্রকল্প প্রস্তাব করা সমীচীন। এক্ষেত্রে নির্দেশনাও রয়েছে। এজন্য প্রস্তাবিত প্রকল্পের ব্যয় একবারে ৯৯ শতাংশ বৃদ্ধি করা প্রশ্নসাপেক্ষ, যা প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) সভায় আলোচনা হবে।
তবে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০০৬ সাল থেকে অদ্যাবদি এ সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বিদ্যমান জনবল কাঠামো দিয়েই এটি পরিচালনা করা হয়। এজন্য একাধিকবার এটি সংশোধনী আনা হচ্ছে।
প্রকল্পের আওতায় ৩টি ট্রেডে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির ঘাটতি রয়েছে, যা ক্রয় করা হবে। কম্পিউটার বেসিক ও আইসিটি অ্যাপ্লিকেশন প্রশিক্ষণ কোর্সে প্রতি ব্যাচে ৪০ জন থেকে বাড়িয়ে ৭০ জন করা হবে। এজন্য দুই শিফটে ভাগ করে ৩৫ জন করে প্রশিক্ষণ নেবে। এজন্য কম্পিউটার ল্যাবে আরও ৫টি করে কম্পিউটার ও প্রয়োজনীয় ফার্নিচার বসানো হবে। একই সঙ্গে ৬৪ উপজেলায় ৭৭টি কম্পিউটার ল্যাবে এসি বসানো হবে।