আরব টাইমসের খবরকে ফেইক বললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আমাদের মিশন এখনো খবর দেয়নি, আমরা এখনো জানি না। গতকাল রবিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব বলেন। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি কুয়েতের

অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইড) বরাত দিয়ে দেশটির প্রভাবশালী পত্রিকা আল কাবাস ও আরব টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, কুয়েতে ‘মানবপাচার’ ও ‘ভিসা বাণিজ্যে’ জড়িত থাকার অভিযোগে তিন বাংলাদেশির একটি চক্রের সন্ধান পায় সিআইডি। এদের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি দুজন বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন। এদের মধ্যে একজন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সদস্য। চক্রটি ২০ হাজার জনকে কুয়েতে পাচার করে ৫০ মিলিয়ন কুয়েতি দিনার হাতিয়ে নিয়েছে। ওই সংসদ সদস্য নিয়মিত কুয়েতে আসা-যাওয়া করলেও সেখান ৪৮ ঘণ্টার বেশি থাকেন না। কুয়েতে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা পাঁচ মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। কুয়েতে জনশক্তি রপ্তানির ছাড়পত্র পেতে কর্মকর্তাদের পাঁচটি বিলাসবহুল গাড়ি ঘুষ হিসেবে দিয়েছেন বাংলাদেশের ওই এমপি। তিনি তার সম্পদের একটি বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে নিয়ে এক মার্কিন নাগরিকের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে ব্যবসা শুরু করেছেন।

বাংলাদেশের একটি গণমাধ্যম দাবি করে, ওই সাংসদ হলেন লক্ষ্মীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম ওরফে পাপলু। তার স্ত্রীও সংরক্ষিত আসনের এমপি। পাপলু জনশক্তি রপ্তানিতে যুক্ত প্রতিষ্ঠান মারাফী কুয়েতিয়া গ্রুপ অব কোম্পানিজ, কুয়েত, ওমান ও জর্ডানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। এ ছাড়া বেসরকারি খাতের ব্যাংক এনআরবি কমার্শিয়ালের ভাইস চেয়ারম্যান এবং এনআরবি সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কোম্পানির চেয়ারম্যান। স্বতন্ত্র এই সাংসদ আওয়ামী লীগ কুয়েতের প্রধান পৃষ্ঠপোষক, বঙ্গবন্ধু পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্য, বাংলাদেশ কমিউনিটি কুয়েতের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। বিগত সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে তিনি স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করে জয়লাভ করেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের কাছে এই মুহূর্তে এ বিষয়ে কোনো তথ্য নেই। আমাদের মিশন এখনো খবর দেয়নি, আমরা এখনো জানি না। তবে এটা বোধহয় কোনো একটা পত্রিকাতে বের হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে ওই পত্রিকাই বোধহয় বলেছে যে, এটার সত্যতা সম্পর্কে সন্দেহ আছে।’