বায়ুদূষণ ঘরে হোক বা বাইরে, মানব স্বাস্থ্যের জন্য এটি মারাত্মক ক্ষতিকর। শিশুদের জন্য বিপদ সংকেত। কারণ বায়ুদূষণের কারণে কোমলমতি শিশুরা সহজেই সংক্রমণজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়। পরিবেশ দূষণের বা বায়ুদূষণের কারণে জন্মপূর্ব অসুস্থতাকে সারা বিশ্বে শিশুমৃত্যুর এবং অসুস্থ হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হয়।
পরিবেশগত কারণ: শিশুর জন্মের পূর্বে ও পরে মায়ের দৈহিক স্বাস্থ্য এবং পুষ্টি শিশুস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব বিস্তার করে। তাই, নবজাতককে জন্মপূর্ব এসব রোগ ও মৃত্যুঝুঁকি থেকে বাঁচাতে হলে প্রয়োজন প্রসূতির জন্য শিশুর জন্মপূর্ববর্তী এবং পরবর্তী স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টিকর খাবার এবং পরিবেশসম্মত আবাসস্থল।
নবজাতক এবং শিশুদের মৃত্যুর দ্বিতীয় আরেকটি কারণ হচ্ছে- শ্বাসকষ্টজনিত রোগ। রোগসৃষ্টিকারী প্যাথোজেন ছাড়াও ঘরের ভেতর ও বাইরে শিশুরা অব্যাহতভাবে বায়ু দূষণের শিকার হওয়ায় তারা মারাত্মক শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছে। বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশে বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারসমূহে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে জীবন যাপন, পয়ঃনিষ্কাশনে অব্যবস্থা, সুপেয় পানীয় জলের অভাব এবং দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে ডায়রিয়া, কলেরা ইত্যাদি পানিবাহিত রোগের প্রকোপ অনেক বেশি। আর এর সঙ্গে পরিবেশগত এবং সামাজিক সমস্যাদি যুক্ত হয়ে এ সমস্যাকে আরও প্রকট করেছে।
পানিবাহিত নানা রোগ যেমন- ডায়রিয়া, কলেরায় আক্রান্ত হয়ে অনেক শিশু মারা যায়। তাই সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে বায়ুদূষণ ঘরে ও বাইরে প্রতিরোধ করা আমাদের একান্ত দায়িত্ব।
৯০ এর দশক থেকে ২০০০ সালের গোড়ার দিকে ঢাকার বাতাসে সিসা প্রচণ্ড রূপ ধারণ করেছিল। পরবর্তীকালে সিএনজিচালিত গাড়ির ব্যবহার ও ঢাকা থেকে ধোঁয়াযুক্ত গাড়ি তুলে দেওয়ার কারণে ঢাকাতে সিসা বা ধোঁয়ার অস্তিত্ব কমে আসে। তবে ঢাকার আকাশে বর্তমানে স্মোগ সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
স্মোগ হলো স্মোক (ধোঁয়া) এবং ফগ (কুয়াশা)-এর মিশ্রণে ভয়ংকর বায়ুদূষণ। নাইট্রোজেন অক্সাইড, ওজোন, সালফার অক্সাইডের মতো বিভিন্ন গ্যাস, কার্বন মনোক্সাইড, সিএফসিসহ আরও কিছু গ্যাসের ক্ষতিকর উপাদান থাকে স্মোগে। এটি বৃদ্ধ, শিশু, হৃদরোগ ও ফুসফুসের রোগে ভোগা মানুষের জন্য খুব ক্ষতিকর।
বাতাসের ক্ষতিকর দিক থেকে আপনাকে যেমন সুস্থ থাকতে হবে, তেমনি সুস্থ রাখতে হবে আপনার ছোট্ট শিশুকেও। কারণ বায়ুদূষণের প্রধান শিকার শিশু।
ইউনিসেফ-এর হিসাব মতে, প্রতি বছর বায়ু দূষণে ৬ লাখের মতো শিশু মারা যায়। তাই বিষয়টিকে হালকাভাবে নেওয়ার অবকাশ নেই। বায়ুদূষণ থেকে শিশুকে নিরাপদ রাখতে সচেতন হওয়া অতি জরুরি।
অধ্যাপক (ডা.) মনজুর হোসেন
লেখক, শিশুরোগ ও শিশু
হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, সাবেক পরিচালক, শিশু হাসপাতাল