গবেষকদের পরিকল্পনামন্ত্রী

গরু কচুরিপানা খেতে পারলে মানুষ কেন পারবে না?

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কেন্দ্রীয় রূপান্তর কৃষিতেই হয়েছে। ওখান থেকে অন্যান্য ক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়েছে। এখন উৎপাদনপরবর্তী খাদ্যের অপচয় কীভাবে কমানো যায়, এ বিষয়ে গবেষণা করা উচিত। এ সময় কাঁঠাল ও কচুরিপানা নিয়ে গবেষণা করারও আহ্বান জানান তিনি।

গতকাল সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক পদক প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে অর্থনীতি ও পরিকল্পনায় বিশেষ অবদান রাখায় রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ শীর্ষক পদক দেওয়া হয় সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এম এ রহিমকে। আনুষ্ঠানিকভাবে এই দুই অধ্যাপককে ক্রেস্ট, সনদ এবং অর্থ দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে  বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেয় রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (আরডিএফ)। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ড. লুৎফুল হাসান। রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (আরডিএফ) এই অ্যাওয়ার্ড দিয়েছে। সংস্থাটির চেয়ারম্যান ড. লুৎফান হোসেনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সংস্থাটির কো-চেয়ার লুৎফর রহমান। শেরেবাংলা কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন আহাম্মদসহ বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক ভিসিরা উপস্থিত ছিলেন। ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে ওঠা সংস্থাটি প্রতি বছর দুজনকে এই অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত করে থাকে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী প্রায়ই ক্ষোভ প্রকাশ করেন, কেন বেশি গবেষণা হচ্ছে না। গবেষণার জন্য সরকার উন্মুখ হয়ে আছে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যাতে মানসম্মত গবেষণা হয়। এ সময় তিনি উপস্থিত গবেষকদের কাছে জানতে চান, কচুরিপানার কিছু করা যায় কি না? কচুরিপানার পাতা খাওয়া যায় না কেনো। গরু তো খায়। গরু খেতে পারলে মানুষ খেতে পারবে না কেন? মানুষের খাবার উপযোগী করা যায় কিনা এ নিয়ে গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। সেই সঙ্গে কাঁঠালের আকার ছোট এবং গোল করা যায় কিনা সেটি নিয়েও গবেষণা করতে হবে। যাতে কাঁঠালের আকার সুন্দর করা যায়।  দেশে আরও বেশি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী বলেও জানান পরিকল্পনামন্ত্রী। তিনি বলেন, কেউ কেউ বলেন এত প্রতিষ্ঠান কেন? ১৬ কোটি মানুষের দেশ এটা। আনুপাতিক হিসাব করলে আমরা এখনো ওই পর্যায়ে যাইনি, যে লেভেলে পশ্চিমারা আছে। তাই প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আরও বেশি প্রতিষ্ঠান তৈরি হওয়া উচিত। মান নিয়ে অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীও করেন। তার ধারণা, চাপের মুখে মান উন্নয়ন হবে।