প্রতি ১০ বছর অন্তর আদমশুমারি বা জনশুমারি করা হয়। অনেকে এই শুমারি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কিন্তু এবারের জনশুমারি নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ থাকবে না বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি বলেন, এক সময় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) পরিসংখ্যান নিয়ে অনেক মহলে হাসাহাসি হতো। এখন আর সেই দিন নেই। বর্তমানে জনশুমারি ও গৃহগণনার (আদমশুমারি) কাজ চলমান রয়েছে, এবার এর পরিসংখ্যান নিয়ে এ ধরনের কোনো মন্তব্য করার সুযোগ থাকবে না
গতকাল সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত এনইসি সম্মেলন কক্ষে ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২১’-এর এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন পরিকল্পনামন্ত্রী।
এম এ মান্নান বলেন, ‘আগে আমাদের পরিসংখ্যান নিয়ে যে ধরনের মন্তব্য করত, এবারের পরিসংখ্যানের পর এ ধরনের মন্তব্য করতে পারবে না। কারণ এবারের জনশুমারি ও গৃহগণনার কাজ নির্ভুল করা হবে । তিনি বলেন, ‘আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক আজকাল তাদের ডকুমেন্টে আমাদের পরিসংখ্যান ব্যবহার করে। সোর্স হিসেবে বিবিএসের তথ্য দেয়। আমরা এখন গর্ববোধ করি। অনেক মহল আগে এটা নিয়ে হাসাহাসি করত। কিন্তু এখন সেই দিন নেই। উত্তরোত্তর আরও ভালো করব।’
তিনি বলেন, ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২১’ প্রকল্পের আওতায় এ শুমারি পরিচালিত হচ্ছে। এর বাস্তবায়ন করছে বিবিএস। এতে খরচ হচ্ছে ১ হাজার ৭৬১ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিচ্ছে ১ হাজার ৫৭৮ কোটি ৬৮ লাখ এবং বৈদেশিক অর্থায়ন ১৮৩ কোটি ১১ লাখ টাকা। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘এ প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন জিনিস আমরা ক্রয় করব। ক্রয় সম্পর্কে আমাদের জনগণের প্রচন্ড আগ্রহ আছে। এটা খুব ভালো। তারা জানতে চায়, আমরা কোথায় কী কিনছি, কত টাকায় কিনছি, কেন কিনছি, এরচেয়ে আরও কম দামে বাজারে ছিল কি না। ক্রয়ের ব্যাপারে আমরা সাবধানতা অবলম্বন করব।’
তিনি বলেন, ‘আগের তুলনায় চারগুণ সম্মানী দেওয়া হবে মাঠপর্যায়ের তথ্যগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের। এ সম্মানী দ্রুত প্রদান করতে হবে। আমি সচিব ও প্রকল্প পরিচালককে এ টাকা দ্রুত প্রদানের অনুরোধ করব।’
প্রকল্পে অর্থ খরচের বিষয়টি তিনি নিজে তদারকি করবেন বলেও জানান মন্ত্রী এম এ মান্নান। এই শুমারির কাজ ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে।