করোনাভাইরাস নিয়ে চীনা রাষ্ট্রদূত

ব্যবসায়ীদের গন্তব্য পরিবর্তন করার দরকার নেই

করোনাভাইরাসের কারণে চীনকে বাদ দিয়ে অন্য দেশ থেকে পণ্য আমদানির কথা ভাবার মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি বলে মত দিয়েছেন ঢাকায় চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের প্রতি আমার জোরালো পরামর্শ হচ্ছে, চীনকে সাপ্লাই চেইন থেকে বাদ দিয়ে অন্য কোনো দেশের দিকে যাওয়া তাদের উচিত হবে না। প্রথমত, এটা প্রায় অসম্ভব। দ্বিতীয়ত, খরচ এবং তৃতীয়ত, এটার প্রয়োজন নেই। এ জন্য আমি বলব, তারা যেন ব্যবসায় গন্তব্য পরিবর্তন না করেন।

গতকাল সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে কূটনৈতিক প্রতিবেদকদের সংগঠন ডিপ্লোমেটিক করেসপনডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ডিকাব) আয়োজিত ‘ডিকাব টক’-এ বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের এভাবেই আশ্বস্ত করেন এই রাষ্ট্রদূত। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ডিক্যাব সভাপতি আঙ্গুর নাহার মন্টি ও স্বাগত বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুর রহমান।

অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত বলেন, কোনো পণ্য ভাইরাস বহন করে না। আর ভাইরাস বাঁচতে পারে মাত্র কয়েক ঘণ্টা। কিছু জায়গায় কাস্টমস সেবা বন্ধ থাকার কারণেও সাধারণ পণ্য সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। কড়াকড়ি কমে এলে পরিস্থিতিও স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে হুবেই থেকে শিপিং সাময়িকভাবে বন্ধ আছে। ভাইরাসের কারণে নববর্ষের ছুটি বাড়ানো হয়েছিল, সেটার পরে মানুষ এখন কাজে ফিরতে শুরু করেছে। সে কারণে বলছি, সরবরাহ বিলম্বিত হতে পারে, কিন্তু বাতিল হবে না।

চীন যে ২০০৬ সাল থেকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ব্যবসায়িক অংশীদার, সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, গত বছর বাংলাদেশ-চীনের ব্যবসায়ের পরিমাণ ছিল ১৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের এক-তৃতীয়াংশ।

তবে করোনাভাইরাসের কারণে চীনের সহায়তায় বাংলাদেশে যেসব মেগা প্রকল্প হচ্ছে, সেগুলোর কয়েকটির কাজ ব্যাহত হতে পারে বলে জানিয়েছেন চীনের রাষ্ট্রদূত। তিনি জানান, বাংলাদেশে এই মুহূর্তে মোট ১০ হাজারের মতো চীনা নাগরিক আছেন। এর মধ্যে প্রায় ৮ হাজারের মতো বিভিন্ন প্রকল্পে জড়িত। এই ৮ হাজার চীনা নাগরিকের মধ্যে ১ হাজার চীনে ফেরত গেছেন। তাদের বাংলাদেশে আসতে নিষেধ করা হয়েছে। তারা বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত। তাদের ফেরত না আসার কারণে কয়েকটি প্রকল্পের কাজ ব্যাহত হতে পারে।

উহানে অবস্থান করা ১৭১ জন বাংলাদেশির বিষয়ে রাষ্ট্রদূত লি জিমিং বলেন, ‘তাদের ফিরে আসার বিষয়ে চীনের অনুমোদন তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। কিন্তু কয়েকটি টেকনিক্যাল কারণে তাদের দেশে আসা পিছিয়ে যাচ্ছে। এর আগে ৩১২ জনকে বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইটে করে দেশে আনা হয়েছে। এখন বাংলাদেশ বিমান তাদের ফ্লাইট আর  চীনে পাঠাতে চাচ্ছে না। আমরা এখন বাণিজ্যিক ফ্লাইটের মাধ্যমে তাদের ঢাকায় আনার চেষ্টা করছি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার এবং চীনে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে।’

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় বাংলাদেশের কী করা উচিতÑ সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে রাষ্ট্রদূত বলেন, চীনা দূতাবাসের একজন কর্মী ১৪ দিন আগে ঢাকায় আসার সঙ্গে সঙ্গে আমরা তাকে আলাদা করে ফেলি। ওই কর্মকর্তা গতকাল (রবিবার) কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন। কিন্তু বাংলাদেশিদের (যারা বিদেশ থেকে ঢাকায় আসেন) সবার ক্ষেত্রে এটা করা হয় না। তিনি এ বিষয়ে বিশেষ মনোযোগ দেওয়ার জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

চীনে বর্তমানে কী পরিমাণ বাংলাদেশি রয়েছেন, জানতে চাইলে চীনের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমার জানা মতে, শুধু কুনমিংয়ে ২০ হাজারের মতো বাংলাদেশি আছেন। এ ছাড়া পেইচিংসহ অন্যান্য জায়গায় আরও বাংলাদেশি রয়েছেন।