মোবাইলের অবৈধ আমদানি বাড়ছে : বিএমপিআইএ

কর বাড়ার পর সেলফোনের অবৈধ আমদানি বেড়েছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমপিআইএ)। তারা বলছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে সরকার স্মার্টফোন আমদানিতে মোট কর হার ৩২ থেকে বাড়িয়ে ৫৭ শতাংশ করেছে। এতে দাম বেড়েছে।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) গত মঙ্গলবার অবৈধ মোবাইল ফোন ঠেকানোর প্রযুক্তি ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্ট্রার (এনইআইআর) চালু করতে দরপত্র আহ্বান করে। এরপর গতকাল বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে বিএমপিআইএ সরকারের রাজস্ব হারানোর চিত্র তুলে ধরে। বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে বিএমপিআইএ জানিয়েছে, দাম বাড়ায় গত কয়েক বছরের তুলনায় ২০১৯ সালে অবৈধ মোবাইল ফোনের বাজারের আকার বেড়েছে। এর বাজারের ৩০-৩৫ শতাংশ এখন অবৈধভাবে আমদানি হওয়া ব্যবসার দখলে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৪ হাজার কোটি টাকা। এতে সরকার প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অবৈধ পথে আসা মোবাইল ফোনের কারণে বন্ধ হয়ে যেতে পারে দেশি উৎপাদন। সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণের লক্ষ্যে ২০১৬ সালে দেশেই এর কারখানা করার জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে। এ পদক্ষেপের ফলে প্রায় সব মোবাইল ফোন কোম্পানি দেশের বিভিন্ন জায়গায় নিজেদের কারখানা গড়ে তুলেছে। এতে আমদানিনির্ভরতা কমেছে। সে সঙ্গে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগও বাড়ছে।

বিএমপিআইএর দাবি, ইতিমধ্যে নয়টি প্রতিষ্ঠান দেশে মোবাইল ফোন উৎপাদনের জন্য কারখানা গড়ে তুলেছে। আরও কিছু প্রতিষ্ঠান কারখানা স্থাপনে কাজ শুরু করেছে। দেশে চাহিদার প্রায় ৫০-৬০ ভাগ মুঠোফোন এখন দেশেই তৈরি হচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নন-ওয়ারেন্টি পণ্য কিনে প্রতারিত হচ্ছে গ্রাহকরা। অনুমোদিত মেরামত সেবা পাচ্ছে না তারা। তাই অকেজো ফোন সারাতে গুনতে হচ্ছে অনেক টাকা।

জানুয়ারির শুরুতে এনইআইআর প্রযুক্তিবিষয়ক একটি প্রস্তাব অনুমোদনের পর সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছে বিটিআরসি। অনুমোদন পেলে মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে এ প্রযুক্তির প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহের কাজ শেষে এনইআইআর স্থাপনের কাজ শেষ করা যাবে। এটি হলে বিটিআরসি অবৈধ পথে আসা নকল ও অবৈধ হ্যান্ডসেট তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধের ব্যবস্থা করতে পারবে।