২ হাজার ছাড়াল মৃতের সংখ্যা

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়েছে বলে চীনের স্বাস্থ্য কমিশনের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে বিবিসি। চীনে আরও ১৩৬ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মৃতের সংখ্যা ২০১০ জনে দাঁড়িয়েছে। তবে নতুন রোগীর সংখ্যা আরও কমে আসায় ভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আসার আশা দেখছেন চীনা চিকিৎসকরা।

চীনা চিকিৎসকরা বলছেন, সংক্রমণ ঠেকাতে কড়াকড়ি পদক্ষেপের ফলেই কমে আসছে নতুন সংক্রমণ। হুবেইয়ের বাইরে অন্য এলাকাগুলোতে নতুন রোগীর সংখ্যা গত ১৫ দিন ধরেই কমছে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলছে, কভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাব কোন দিকে মোড় নিচ্ছে, সে বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত কিছু বলা ঠিক হবে না।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানিয়েছে, গত ডিসেম্বরের শেষে নতুন করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর গত মঙ্গলবারই প্রথম নতুন রোগীর চেয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরা মানুষের সংখ্যা ছিল বেশি। চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির মূল ভূখণ্ডে আরও ১ হাজার ৭৪৯ জনের শরীরে নতুন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। আর নতুন করে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ১ হাজার ৮২৪ জন।

সব মিলিয়ে চীনে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৪ হাজার ১৮৫ জনে। আর অন্তত ২৮টি দেশ ও অঞ্চলে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্বে আক্রান্তের সংখ্যা ৭৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

হংকংয়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত দ্বিতীয় ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে বুববার। হংকংয়ের প্রিন্সেস মার্গারেট হাসপাতালে তার মৃত্যু হয় বলে হাসপাতালের এক মুখপাত্রের বরাতে জানিয়েছে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট। হাসপাতালটির ওই মুখপাত্র জানান, ৭০ বছর বয়সী ওই রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ার পর বুধবার সকাল ৭টায় (স্থানীয় সময়) তিনি মারা যান। তাতে চীনের মূল ভূখণ্ডের বাইরে এ ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ছয়জনে। আর সব মিলিয়ে বিশ্বে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ২০১০ জনে।

মধ্য চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়। নিউমোনিয়ার মতো লক্ষণ নিয়ে নতুন এ রোগ ছড়াতে দেখে চীনা কর্র্তৃপক্ষ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে সতর্ক করে। এরপর ১১ জানুয়ারি প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। সার্স ও মার্স পরিবারের সদস্য নতুন এ করোনাভাইরাসের নাম দেওয়া হয়েছে নভেল করোনাভাইরাস। আর এর সংক্রমণে ফ্লুর মতো উপসর্গ নিয়ে যে রোগ হচ্ছে, তাকে বলা হচ্ছে কভিড-১৯।

ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে উহানসহ কয়েকটি শহর গত জানুয়ারি থেকেই কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। এ সপ্তাহের শুরুতে পুরো হুবেই প্রদেশে যানবাহন চলাচলের ওপর নতুন করে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। জরুরি সেবার গাড়ি ছাড়া অন্য কোনো ধরনের যানবাহন বের না করতে বলা হয়েছে বাসিন্দাদের। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কলকারাখানা বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।

প্রাদুর্ভাবের কারণে জাপানের ইয়োকোহামা বন্দরে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকার পর প্রমোদতরী ডায়মন্ড প্রিন্সেসের প্রায় ৫০০ আরোহী জাহাজ থেকে তীরে নামা শুরু করেছেন। ডায়মন্ড প্রিন্সেসের আরোহীদের মধ্যে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ার পর ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে জাহাজাটিকে পৃথক করে পর্যবেক্ষণে (কোয়ারেন্টিন) রাখা হয়েছিল। গতকাল বুধবার প্রমোদতরীটির পরিচালনা কর্র্তৃপক্ষ ও জাপানি কর্মকর্তারা ‘অল ক্লিয়ার’ ছাড়পত্র পাওয়া যাত্রীদের জাহাজ ছেড়ে নেমে আসার অনুমতি দেয়।