স্মৃতিময় ভাষা আন্দোলন, বিশেষত একুশে

বিশ শতকের চল্লিশের দশকের মাঝামাঝি সময়ে ভারতভাগের রক্তাক্ত অধ্যায়টির জের ধরে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার ঘটনাবলি পশ্চিমা ইতিহাসবিদদের ভাষায় ‘দক্ষিণ এশীয় সংকট’ (‘সাউথ এশিয়ান ক্রাইসিস’) নামে ইতিহাসের পাতায় লিপিবদ্ধ। অনেক অভাবিত ঘটনার সমাবেশ এখানে যেমন ইংরেজের ভারত ত্যাগ, ভারতবর্ষ ভাগ, পাঞ্জাব ও বাংলাভাগ, সর্বোপরি ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাÑ লক্ষাধিক মানুষের মৃত্যু এবং কোটি মানুষের চৌদ্দ পুরুষের বাস্তুত্যাগ। বাঙালি মুসলমানের জন্য নব্য স্বতন্ত্র ভুবন প্রতিষ্ঠা ছিল আর্থসামাজিক ও ভূরাজনৈতিক বিচারে এক ঐতিহাসিক, পরম আকাক্সিক্ষত ঘটনা, আত্মপ্রতিষ্ঠার স্বপ্নপূরণের মতোই। ইতিহাসের নির্মমতা তাই তার সঙ্গে দাগ কাটেনি। প্রাপ্তিটাই ছিল বড়। সেটা সর্বজনীন, শ্রেণি নির্বিশেষে শিক্ষিত শ্রেণি ও ছাত্র-যুবারা ঘটনার বড় কারিগর। একে ইতিহাসের নব অধ্যায় বলা যায়। শেষোক্তদের স্বপ্নের গায়ে চিড় ধরে অবিশ্বাস্য দ্রুততায় এবং তা এক তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা মাতৃভাষা, রাষ্ট্রভাষা নিয়ে উর্দু-বাংলার দ্বন্দ্বে। শুরুটা পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় উর্দুভাষী শাসকশ্রেণির উদ্ধত আচরণে ‘উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা,’ যদিও পাকিস্তানের মোট জনগোষ্ঠীর গরিষ্ঠসংখ্যক মানুষ বাংলা ভাষাভাষী। পাক শাসকশ্রেণি, রাজনৈতিক গোষ্ঠী এ ব্যাপারে অনমনীয়, অন্যদিকে পূর্ব ইতিহাসের কারিগর বাঙালি ছাত্র-যুবাদের গরিষ্ঠ অংশ অনুরূপভাবে অনমনীয় অন্যতম ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’। স্লোগানটি পূর্ববঙ্গের সর্বত্র ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত। কিছুসংখ্যক খ্যাতিমান শিক্ষাবিদের লেখায় তা প্রতিফলিত। আর ঢাকায় তখন রাজনীতিমনস্ক ছাত্রদের গরিষ্ঠ অংশ অন্যতম রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে নানা উপলক্ষে তৎপর। গণপরিষদের সরকার-বিরোধিতার জেরে ঢাকায় রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলনে ১৯৪৮-এর ১১ই মার্চ প্রথম সংঘটিত পিকেটিংয়ে প্রচণ্ড দমননীতির মুখে সচিবালয়ের সামনে প্রতিবাদীদের ওপর বেধড়ক লাঠিচার্জ হয়, অনেক গ্রেপ্তার, অনেকে আহত। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব শামসুল হক, শেখ মুজিবুর রহমান, অলি আহাদ, শওকত আলী প্রমুখ। এ আন্দালন পূর্ববঙ্গের বড় বড় শহরগুলোতেও পরিচালিত হয়েছিল, কোনো কোনো শহরে পুলিশি দমননীতির মুখেও বেশ উগ্রতার সঙ্গে যেমন যশোর, রাজশাহী, বগুড়া, সিলেট, ময়মনসিংহ ইত্যাদি। আমি তখন মুন্সীগঞ্জে হরগঙ্গা কলেজের ছাত্র। সেখানেও স্কুল ও কলেজের ছাত্রছাত্রীরা সভা, মিছিল, স্লোগান ইত্যাদি কর্মসূচি পালন করেছে। মিছিল করে জাহাজঘাট পর্যন্ত যাওয়া এবং শহরের সড়ক পরিক্রমায় অংশ নিয়েছি।

॥ দুই ॥ জিন্নাহ সাহেবের ঢাকা সফর এবং রাষ্ট্রভাষা উর্দুর পক্ষে ঘোষণার পর আন্দোলন সাময়িকভাবে স্তিমিত হয়ে পড়লেও নানা উপলক্ষে রাষ্ট্রভাষার পক্ষে কর্মতৎপরতা সচল ছিল। যেমন ১৯৫০-এ ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটি গঠন (আহ্বায়ক আব্দুল মতিন) এবং কেন্দ্রীয় সরকারের মূলনীতি কমিটি বিরোধী ভাষিক তৎপরতা আন্দোলনকে জিইয়ে রেখেছিল। মনে পড়ে নবাবপুর রোডে মিছিলে হাঁটার কথা, বিকেলে বার লাইব্রেরির সভায় বন্ধুবান্ধবসহ উপস্থিত থাকার কথা। পতাকা দিবস, ১১ই মার্চ পালন ইত্যাদি ঘটনা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তৈরি করে। সরকারি দমননীতি কিন্তু পূর্বাপর একই রকম। তা সত্ত্বেও উপলক্ষ ও অনুষ্ঠানগুলো সচল। ভাষা প্রসঙ্গে ছাত্র-যুবাদের মনে প্রতিবাদী চেতনায় বারুদ জমা হচ্ছে। ১৯৪৮ আর ১৯৫২-র মধ্যে অনেক গুণগত প্রভেদ। পাক শাসকগোষ্ঠী এখানেই হিসাবে ভুল করেছিল। তাই ১৯৫২-র ২৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন বলতে দ্বিধা করেননি যে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা উর্দুই হচ্ছে। প্রতিক্রিয়াটা মারাত্মক। এই যে শুরু ছাত্রছাত্রীদের প্রতিবাদ সভা, মিছিল-স্লোগান ও ধর্মঘট তা আর থামেনি। ঢাকার প্রতিটি স্কুল, কলেজ আর সবেধন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা তাতে অংশ নিয়েছেন প্রবল আবেগে। মেডিকেল কলেজের ছাত্র হওয়া সত্ত্বেও প্রতিটি সভা ও মিছিলে যোগ দিয়েছি রাজনীতির পূর্বধারা মাফিক। সঙ্গী রাজনীতিমনস্ক অন্য ছাত্রবন্ধুরা। মেডিকেল হোস্টেলটা অদ্ভুত। বিশটা বাঁশের বেড়ার ছাউনি। নাম তাই মেডিকেল ব্যারাক। ছাত্রদের অধিক ঝোঁক রাজনীতি আর সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চার দিকে। হাসপাতাল ভবনের পুবের একটি অংশে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্টস সেকশন নাম আর্টস বিল্ডিং। বিশাল প্রাঙ্গণে মস্ত বড় গোলমাথা আমগাছÑ সেই আমতলায় রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ- দূরে একটা ডোবার পাশে বেলতলা, সেখানেও মাঝেমধ্যে মিটিং।

ঠিক হয়, একুশে ফেব্রুয়ারি পূর্ববঙ্গ আইনসভার প্রথম দিনটিতে ঢাকাসহ দেশের সর্বত্র হরতালসহ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হবে প্রস্তুতি চলছে। ভয় পায় প্রশাসন। আবারও ভুল। বিশে ফেব্রুয়ারি বিকেলে ঢাকা শহরে ১৪৪ ধারা জারি সভা-মিছিল নিষিদ্ধ। ছাত্রাবাসগুলোতে উত্তেজনা, ১৪৪ ধারা মানি না, মানব না। সেদিন সন্ধ্যায় ফজলুল হক হলের ছাত্রবন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে শোনা গেল, একই বার্তা : ১৪৪ ধারা ভাঙতে হবে। কিন্তু সর্বদলীয় পরিষদের রাজনীতিকদের সিদ্ধবাল তারা ১৪৪ ধারা ভেঙে সরকারের সঙ্গে সংঘাতে যাবেন না, তারা ১৯৪৮-এর ধারাতেই চলবেন। এবার ছাত্ররা বিপরীত ধারায় তারা ১৪৪ ধারা ভাঙবেই, আন্দোলন স্থগিত করবে না। পরদিন একুশে ফেব্রুয়ারি আমতলার ছাত্রসভায় ছাত্রছাত্রীদের ঘোষণা : ১৪৪ ধারা ভাঙব। ১০ জন করে মিছিলে। ঢাকার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ছাত্রছাত্রীরা আমতলায় ১৪৪ ধারা ভাঙা শুরু। বাইরে খাকি হাফপ্যান্ট পরা পুলিশ বাহিনী প্রস্তুত। আমতলার সভায় স্লোগানের পর স্লোগান পুলিশের প্রচুর টিয়ারগ্যাস বর্ষণ, বেরুতেই লাঠিচার্জ। মনে আছে টিয়ারগ্যাসে চোখ   জ্বলছে , আমরা সবাই ডোবার পানিতে রুমাল ভিজিয়ে চোখের জ্বালা নিবারণ করছি। ছাত্রছাত্রীরা এর মধ্যেই পুলিশের বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে চলেছে। লক্ষ্যস্থল মেডিকেল ব্যারাক একটু দূরে পরিষদ ভবন। আমতলার অনেক স্লোগানের একটি : ‘চলো, চলো, অ্যাসেম্বলি চলো’।

॥ তিন ॥ আমতলার সভার সিদ্ধান্তমাফিক ১৪৪ ধারা ভেঙে বিভিন্ন পথে মেডিকেল ব্যারাক প্রাঙ্গণে হাজির ছাত্ররা। স্লোগানের টানে, টিয়ারগ্যাসের শব্দে, কন্ট্রোলরুমের প্রচারে সাধারণ মানুষও জড়ো হচ্ছে সেক্রেটারিয়েট রোড ও ফুলার রোডের এক পাশে, খেলার মাঠের কোনায় আর মেডিকেল ব্যারাকের প্রাঙ্গণে। পুলিশও তাদের ব্যারিকেড মজবুত করছে ব্যারাকের সামনে, রাস্তায়Ñ কিছুতেই ছাত্রজনতাকে পরিষদ ভবনের সামনে যেতে দেবে না। বেলা বারোটা নাগাদ আমতলা খালি। দুচারজন ছাত্রনেতা মধুর ক্যান্টিনে বসে পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করছেন। অন্তত দুজনের কথা মনে আছে আবদুল মতিন ও অলি আহাদ। আমরা কয়েকজন আর্টস বিল্ডিং ও হাসপাতালের মাঝখানকার পুরনো, জীর্ণ পাঁচিলের কয়েকটা ইট খুলে নিয়ে ওই ভাঙাপথে হাসপাতল চত্বর হয়ে ব্যারাক প্রাঙ্গণে পৌঁছে গেছি। বেলা বাড়ছে। ব্যারাক প্রাঙ্গণে জমায়েতে জনসংখ্যা বাড়ছে। ছাত্রদের মধ্যে প্রবল উত্তেজনা, স্লোগান, আর দলবেঁধে খোলা গেট দিয়ে বের হয়ে ব্যারিকেড অতিক্রম করার ব্যর্থ চেষ্টা চলছে। একদিকে স্লোগানে মুখর ব্যারাক প্রাঙ্গণ, সেই সঙ্গে বিশ নম্বর ব্যারাকের ১ নম্বর রুমে স্থাপিত মাইক ব্যবস্থার কন্ট্রোল রুমের নানামুখী প্রচার। পরিস্থিতি জমজমাট। অন্যদিকে রাস্তা থেকে পুলিশের ক্রমাগত টিয়ারগ্যাসের শেলবর্ষণ, বাতাস ঝাঁঝালো আর বেরুলেই বেধড়ক লাঠিচার্জ অগত্যা ব্যারাক প্রাঙ্গণে ফিরে আসা।

এ অবস্থা চলেছে গোটা দুপুরতক। এর পরই সেই ভয়ংকর ঘটনা- তখন বেলা তিনটা বেজে গেছে। পরিষদ ভবনে আইন পরিষদের অধিবেশন শুরু বেলা ৩টা থেকে। ছাত্রজনতার স্লোগান ও পরিষদ ভবনের সামনে পৌঁছানোর চেষ্টা বন্ধ হচ্ছে  না। তখনই হঠাৎ করে পুলিশ বাহিনীর হোস্টেল প্রাঙ্গণের জামায়েত লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ একনাগাড়ে কয়েকবার। চোখের সামনে ১৪ নম্বর ব্যারাকের সামনে মাথায় গুলি লেগে প্রথম শহীদ ছাত্র রফিক উদ্দিন, বিশ নম্বর ব্যারাকের সামনে গুলিবিদ্ধ গফরগাঁয়ের আবদুল জব্বার, ১২ নম্বর ব্যারাকের সামনে গুলিবিদ্ধ বিশ^বিদ্যালয় ছাত্র আবুল বরকত। পরে ৬ নম্বর ব্যারাকের সামনে গুলিবিদ্ধ সচিবালয়ের পিওন আবদুস সালাম। প্রথম তিনজন সেদিনই শহীদ। আমরা বিভিন্নজন তাদের হাসপাতালে নিয়ে যাই।

আমরা কেউ ভাবিনি পুলিশ নিরস্ত্র ছাত্রদের আন্দোলনে গুলি চালাতে পারে। ১৪৪ ধারা ভেঙে সাহসী ছাত্রছাত্রীরা আন্দোলনে প্রেরণা জুগিয়েছিল। আর সে আন্দোলনের ছাত্রজনতার ওপর পুলিশ গুলি চালিয়ে আন্দোলন দেশময় ছড়িয়ে গণআন্দোলনে পরিণত করে। ওদের প্রতিশোধস্পৃহা এমনই যে পরদিন ২২ ফেব্রুয়ারি আবার গুলিবর্ষণ, আবারও শহীদ শফিউর-আউয়াল-ওহিউল্লাহ-সিরাজুদ্দিনসহ কয়েকজন। আহত অনেকে। সেদিন ঢাকা মিছিলের শহর, লাল বর্ণমালা ও কালো ব্যাজ ও কালো পতাকার শহর। পুরনো ঢাকার যুবকরা সেদিন মিছিলে। তাদের ক্ষোভে পুড়েছে কুখ্যাত মর্নিং নিউজ পত্রিকার ছাপাখানা ‘জুবিলি প্রেস’। আক্রান্ত মর্নিং নিউজ ও সংবাদ পত্রিকা অফিস। বিচক্ষণ আজাদ পত্রিকা ছেপেছে আন্দোলনের পক্ষে সঠিক খবর। সেদিনের নতুন স্লোগান ‘শহীদ স্মৃতি অমর হোক’, এছাড়া নিত্যদিন স্লোগান ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’, ‘রাজবন্দিদের মুক্তি চাই’, ‘সর্বস্তরে বাংলা চালু করো’। এছাড়া স্লোগানÑ ‘আরবি হরফে বাংলা লেখা চলবে না’, ‘পুলিশি জুলুম চলবে না’, ‘খুনি নুরুল আমিন পদত্যাগ করো’ ইত্যাদি

শহীদ স্মৃতি অমর করে রাখতে ঢাকায় মেডিকেল ছাত্ররা ২৩ ফেব্রুয়ারি এক রাত্রির শ্রমে ব্যারাক প্রাঙ্গণে একটি শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করে। আমরা সবাই তাতে অংশ নিই। তেমনি রাজশাহী, নড়াইল, বগুড়া প্রভৃতি শহরে ছাত্ররা ছোটখাটো শহীদ মিনার তৈরি করে। সবগুলোই পুলিশ ভেঙে ফেলে। কিন্তু শহীদ মিনার মরে না। শহর থেকে গ্রামের স্কুল প্রাঙ্গণে গড়ে ওঠে ছোট-বড় নানা আকৃতির শহীদ মিনার। একইরকম ভাঙাগড়ার মধ্যদিয়ে পরবর্তীকালে ঢাকায় আমাদের তৈরি শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের স্থানটি ঘিরে অনেক জায়গাজুড়ে সরকারি উদ্যোগে তৈরি হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। যা হয়ে ওঠে রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রেরণা।

ভাষা আন্দোলন দুটো গুরুত্বপূর্ণ উপহার দিয়েছে জাতিকে রাষ্ট্রকে। প্রথমত শহীদ দিবস একুশে ফেব্রুয়ারি যা এখন জাতীয় শোক দিবস-ভাষা দিবস এবং ইউনেস্কোর ঘোষণায় ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’। বাংলাভাষী মানুষের জন্য গর্ব ও অহংকারের বিষয়। দ্বিতীয়ত শহীদ মিনার যা সাংস্কৃতিক তৎপরতার কেন্দ্রস্থল, প্রতিবাদী রাজনীতির প্রেরণা। আমার সৌভাগ্য এমন একটি আন্দোলনে অংশ নিতে পেরেছি, ঢাকায় আন্দোলনের শেষদিন পর্যন্ত (৫ মার্চ) সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পেরেছি। এ আন্দোলনের তাৎপর্যপূর্ণ অবদান সাহিত্য-সংস্কৃতি ও রাজনীতিতে গুণগত বাঁকফেরা পরিবর্তন ঘটানো। সে পরিবর্তন একদিকে জাতীয়তাবাদী অন্যদিকে প্রগতিবাদী চেতনার। এর ধারাবাহিক পরিণাম ষাটের দশক হয়ে দূরপ্রসারী একাত্তরের যুদ্ধে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়।

লেখক

ভাষাসংগ্রামী, কবি, প্রাবন্ধিক ও রবীন্দ্রগবেষক