মায়ের ভাষার জন্য ১৯৫২ সালে যারা জীবন দিয়েছিলেন তাদের স্মরণ করতে নড়াইলের পাড়া-মহল্লায় শিশু-কিশোররা কলাগাছ ও ইট দিয়ে তৈরি করেছে অন্তত তিন হাজার অস্থায়ী শহীদ মিনার। একুশে ফেব্রুয়ারি এসব শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে তারা ইতিমধ্যে প্রস্তুতিও সম্পন্ন করেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নড়াইল শহরের মহিষখোলা, আলাদাতপুর, কুড়িগ্রাম, ভাদুলীডাঙ্গা, মাছিমদিয়া, লোহাগড়া উপজেলার নলদী, রায়গ্রাম, কলাগাছি, কালিয়া উপজেলার চাঁচড়ী, পুরুলিয়া, শুক্তগ্রাম, নোয়াগ্রাম, পাঁচগ্রাম, পেড়লী, হামিদপুরসহ জেলার তিনটি উপজেলার অধিকাংশ গ্রামে এসব অস্থায়ী শহীদ মিনার তৈরি করা হয়েছে।
নড়াইলের সংস্কৃতিকর্মী শরফুল আলম লিটু বলেন, জেলায় ৬৩৫টি গ্রাম আছে। প্রত্যেক গ্রামে শিশু-কিশোররা নিজেদের পকেট থেকে ও বাবা-মায়ের কাছ থেকে টাকা নিয়ে শহীদ মিনার তৈরির পাশাপাশি রঙিন কাগজ এবং ফুল কিনে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করে।
সীমাখালী গ্রামের রাসেল ও সঞ্জীব সরকার জয় জানান, তাদের গ্রামের বিভিন্ন পাড়ায় ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কলাগাছ ও ইট দিয়ে একাধিক অস্থায়ী শহীদ মিনার তৈরি হয়েছে। শিশু-কিশোরদের আয়োজনে ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার। অনেক স্কুলেও শহীদ মিনার নেই। অথচ শিশুরা শহীদদের স্মরণ করতে প্রতি বছরই শহীদ মিনার তৈরি করে।