দেশে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বিত যে ভর্তি পরীক্ষার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে তাতে অংশ নিচ্ছে না বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি)। তারা আলাদা করে আগের মতোই ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তিতে পরীক্ষার ব্যবস্থা করবে। তবে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তত্ত্বাবধানে চলতি বছরের অনুষ্ঠিতব্য সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বিশ্ববিদ্যালয় দুটির কর্র্তৃপক্ষ।
গত বুধবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় এ সিদ্ধান্ত হয় বলে বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক মিজানুর রহমান জানিয়েছেন। তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘গতকাল বিকেলে আমাদের একাডেমিক সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে যে আগের নিয়মেই শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়া হবে।’ সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষায় না যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এর পেছনে তেমন কোনো কারণ নেই। আমরা সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার বিপক্ষে নই। তবে আমরা আমাদের নিয়মেই শিক্ষার্থী ভর্তি নেব।’
এদিকে গতকাল সন্ধ্যায় সমন্বিত ভর্তিতে না যাওয়ার বিষয়টি দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কে এম নুর আহমদ। গতকাল চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীন আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিলের ২৩৮তম সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ। সভায় সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার সব দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কে এম নুর আহমদ বলেন, এ বছর সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অংশ নেবে না। এবার আগের নিয়মেই পরীক্ষা হবে। পরে আলাপ-আলোচনা করে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষায় যাব কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এসব বিষয়ে একাডেমিক কাউন্সিলের কয়েকজন সিনিয়র সদস্য, ডিন এবং শিক্ষক সমিতির সভাপতি-সম্পাদককে নিয়ে উপাচার্য মহোদয় ইউজিসির সঙ্গে দেখা করে কথা বলবেন।
১২ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) অনুষ্ঠিত এক সভায় দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এত দিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আলাদা আলাদা পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ায় এইচএসসি পাস করা শিক্ষার্থীদের দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঘুরে ঘুরে পরীক্ষা দিতে হতো। একই বিষয়ে ভর্তি হওয়ার পরীক্ষা দিতে তাদের ভিন্ন ভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ভিন্ন ধরনের প্রস্তুতি নিতে হতো। এ ব্যবস্থার বদলে সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা এক দিনে একই পদ্ধতিতে নেওয়ার এই সিদ্ধান্ত হয়েছে, একেই বলা হচ্ছে সমন্বিত বা গুচ্ছপদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে একজন শিক্ষার্থী একবার পরীক্ষা দিলেই চলবে, প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে তাকে গুচ্ছে থাকা কোনো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হবে, যেভাবে মেডিকেল কলেজগুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক শাখা থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের উচ্চমাধ্যমিকের পাঠ্যসূচির আলোকে প্রণীত পৃথক প্রশ্নপত্রে এই ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত কলেজগুলোর স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ভর্তির জন্যও এই প্রক্রিয়া প্রযোজ্য হবে।