রেজাউলকে নিয়ে মহিউদ্দিনের বাসায় আ জ ম নাছির

মেয়র পদে মনোনয়ন না পেয়ে ‘ষড়যন্ত্রের শিকার’ হওয়ার কথা বলার এক দিন পর দল মনোনীত প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরীর সঙ্গে দলটির প্রয়াত নেতা এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর বাসায় গেলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর চশমা হিলে মহিউদ্দিন চৌধুরীর বাসায় যান তারা। এ সময় নগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারাও তাদের সঙ্গে ছিলেন। গত সোমবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে এক মতবিনিময় সভায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ছবির কথা উল্লেখ করে মেয়র নাছির বলেছিলেন, তিনি ষড়যন্ত্র ও অপরাজনীতির শিকার। কেউ মেয়র পদ চাইলে তিনি নিজ থেকেই সরে যেতেন। এরপর মঙ্গলবার চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে মেয়রপ্রার্থী রেজাউলের সংবর্ধনায়ও ছিলেন না তিনি।

গতকাল মহিউদ্দিন চৌধুরীর কবর জিয়ারত শেষে নাছির-রেজাউলসহ আওয়ামী লীগ নেতারা তার চশমা হিলের বাসায় যান। সেখানে মহিউদ্দিনপত্নী নগর মহিলা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী হাসিনা মহিউদ্দিনের সঙ্গে দেখা করেন তারা।

এর আগে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা প্রয়াত জহুর আহমদ চৌধুরী, এম এ আজিজ, এম এ মান্নান, সিরাজুল হক মিয়া, ইসহাক মিয়া, আতাউর রহমান খান কায়সার ও কাজী ইনামুল হক দানুর কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান চসিক নির্বাচনে দলের মেয়র প্রার্থী রেজাউল। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির, অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, সাবেক সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, শফিক আদনান, শফিকুল ইসলাম ফারুক, অ্যাডভোকেট ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, চন্দন ধর, শহীদুল আলম প্রমুখ।

আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান প্রয়াত নেতাদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে মেয়র নাছির আসন্ন চসিক নির্বাচনে দলের মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীকে বিজয়ী করতে সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ‘বিগত সময়ের মতো মহানগর আওয়ামী লীগ সম্মিলিতভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে থাকবে। নির্বাচনের বিষয়ে কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় মহানগর আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ রয়েছে এবং নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবে সব নেতাকর্মী।’ এ সময় দলীয় প্রার্থীর জন্য মহানগর আওয়ামী লীগের আওতাধীন সব ওয়ার্ড, থানা, ইউনিটসহ সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে থাকারও আহ্বান জানান তিনি।

পরে বিকেলে নগরের থিয়েটার ইনস্টিটিউট চত্বরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস উপলক্ষে নগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনায় আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘আজকের দিনটিই শেষ দিন নয়। আরও দিন আছে। ক্ষমতার পরিবর্তন অপরিহার্য। কেউ ক্ষমতার জন্য অপরিহার্য নন। পরিবর্তনটাই অপরিহার্য, এ কথা মনে রাখতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে দলের ভেতরে ‘আত্মঘাতী কর্মকাণ্ড’ পরিহারের আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যারা আওয়ামী লীগের রাজনীতি করি, অঙ্গ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত আছি, আওয়ামী পরিবারের সদস্য, আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করতে হবে। আসুন, বাস্তবতা উপলব্ধি করে চিন্তা-চেতনা, ধ্যানধারণা এবং দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করি। নীতি-আদর্শকে ধারণ করে সংগঠনের ভাবমূর্তি রক্ষা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে ঐক্যবদ্ধ হই। আমাদের আত্মঘাতী কর্মকাণ্ড পরিহার করতে হবে। আমাদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় কাজ করতে হবে।’

নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় সিটি নির্বাচনে দলের মেয়র প্রার্থী নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ একটি পরিবার। এই পরিবারের অভিভাবক জননেত্রী শেখ হাসিনা। এই পরিবারের সদস্যরা যেকোনো সংকটময় মুহূর্তে ঐক্যবদ্ধ হয়ে যেকোনো অপশক্তির মোকাবিলা অতীতেও করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না থাকলে কারও অস্তিত্ব থাকবে না। শত্রু কিন্তু ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে। শত্রুকে মোকাবিলার জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে।’ এ বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।