চীনে ৪ কারাগারে করোনায় আক্রান্ত পাঁচ শতাধিক

চীনে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা কমছে এমন সংবাদের মধ্যেই দেশটির চারটি কারাগারে পাঁচ শতাধিক বন্দির ভাইরাসে আক্রান্তের খবর জানিয়েছে চীনা স্বাস্থ্য কমিশন। কারাগারগুলোর দুটি হুবেই প্রদেশের ও দুটি হুবেইয়ের বাইরে অবস্থিত। চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম সিনহুয়ার প্রতিবেদনে হুবেই প্রদেশের একটি নারী কারাগারে ২৩০ জন বন্দির ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সংবাদ প্রকাশ করা হয়।

সায়াং হানজিন কারাগারে আক্রান্ত হয়েছেন ৪১ জন। চীনের সাংডং প্রদেশের রেনচেং কারাগারে ২০৭ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এদের মধ্যে সাতজনই ওই কারাগারের কর্মকর্তা এবং বাকিরা কারাগারের কয়েদি।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ‘ফেব্রুয়ারির শুরু থেকেই কারাগারে করোনাভাইরাসের লক্ষণ দেখা যায়। আক্রান্ত সবাইকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।’ ঝেজিয়াং প্রদেশের শিলিফেং কারাগারে প্রায় ৩৪ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার সেখানে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ২৭ জন। এরা সবাই সেখানকার কয়েদি।

গত বছরের ডিসেম্বরে হুবেই প্রদেশ থেকে ভাইরাসটি ছড়াতে শুরু করে। চীনের স্বাস্থ্য কমিশন প্রতিদিনই আক্রান্ত ও নিহতের তথ্য প্রকাশ করছে। চীনের হুবেই প্রদেশে করোনাভাইরাসে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা কমতে শুরু করলেও বৃহস্পতিবার আরও ১১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দেশটির স্বাস্থ্য কমিশনের নিয়মিত বার্তায় এই তথ্য জানানো হয়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ২২৩৩ জনে পৌঁছেছে। আর সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২৭৪ জনে। এছাড়া এদিন নতুন আক্রান্ত হয়েছে ৪১১ জন। ফলে দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে ৭৪ হাজার ৯৮৭ জনে। আর মোট আক্রান্ত ৭৭ হাজার প্রায়। ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই চীনে ১৬ হাজারের বেশি আক্রান্ত সুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফিরেছেন বলে জানিয়েছে চীনা স্বাস্থ্য কমিশন।

এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ায় উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা। গত বৃহস্পতিবার ৫৩ জন নতুন আক্রান্তকে শনাক্তের পর গতকাল শুক্রবার আরও ৫২ জনকে আক্রান্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫৬ জনে। সাম্প্রতিক এই বাস্তবতাকে ‘জরুরি পরিস্থিতি’ বলে বর্ণনা করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী চুং সাই-কিয়ুন। দক্ষিণ কোরিয়ায় ভাইরাসটিতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার পর দেশটির দুই দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর দায়েগু ও চেয়ংদোকে ‘স্পেশাল কেয়ার জোন’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

চীন ও জাপানে আটকা থাকা প্রমোদতরীর পর সবচেয়ে বেশি কভিড-১৯ আক্রান্তের দেশে পরিণত হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। শুক্রবার নতুন ধরা পড়া ৫২ জন আক্রান্তের মধ্যে ৪১ জনই দায়েগুর বাসিন্দা। এদের মধ্যে ৩৯ জনই একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সদস্য। বৃহস্পতিবার দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী চুং বলেছেন, আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে এসেছেন এমন মানুষদের তাৎক্ষণিকভাবে খুঁজে বের করতে হবে ও রোগীদের চিকিৎসা দিতে হবে। সরকার অসুস্থদের জন্য শয্যা, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রস্তুত করছে। তিনি সতর্ক করেন যে, ভাইরাসটি এখন স্থানীয়ভাবে ছড়াচ্ছে।

করোনাভাইরাসের কবল থেকে মুক্তি পায়নি মধ্যপ্রাচ্য। ভাইরাসে ইরানে দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সময় গত বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ করোনাভাইরাসে দুই ব্যক্তি আক্রান্ত হওয়ার খবর প্রকাশের পরপরই তাদের মৃত্যুর সংবাদ নিশ্চিত করে ইরান। তবে মৃত দুই ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করেনি দেশটি। ইরানের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা আলিরেজা বাহাবজাদেহের উদ্ধৃতি দিয়ে আইআরএনএ জানিয়েছে, করোনাভাইরাসে মারা যাওয়া দুই ব্যক্তি ইরানের রাজধানী তেহরান থেকে প্রায় ১৪০ কিলোমিটার দূরের একটি এলাকার বাসিন্দা। ইরানে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১৩ জন।