হাত ধোয়ার উপকার

হাত ধোয়া দৈনন্দিন জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সুস্থতার জন্য হাত ধোয়া খুবই জরুরি। বিবিধ কারণে হাত নোংরা হয়ে প্রতিদিন হাজারো জীবাণু দেহে সংক্রমিত হয়। তাই নিয়মিত দিনে কমপক্ষে পাঁচবার সঠিক নিয়মে হাত ধোয়া দরকার। শিশুদের হাতে ময়লা বেশি থাকে এবং নিজের অজান্তেই মুখে হাত দেয়। তাই শিশুরা হাত না ধুয়ে খেলে ডায়রিয়া, আমাশয়, কৃমি, পানি ও খাবারবাহিত অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হতে পারে। খাবার ভালোভাবে রান্না করলেও হাতে ময়লা নিয়ে খাবার খেলে বিভিন্ন রোগ হতে পারে।

কখন হাত ধোয়া উচিত

খাবার প্রস্তুতি ও পরিবেশনের আগে ও পরে, প্রতিবার খাওয়ার আগে ও পরে, পায়খানা-প্রস্রাবের পর, নাক ঝাড়া, কফ ফেলা বা হাঁচি-কাশি দেওয়ার পর, অসুস্থ কারও সেবা-শুশ্রƒষা করার আগে ও পরে, দেহের কোনো ক্ষত চিকিৎসা করার আগে ও পরে, শিশুর ডায়াপার বদলানোর পর, কোনো পশুপাখি অথবা এদের খাবার বা বিষ্ঠা ধরার পর, গৃহপালিত পাখির মাংস, কাঁচা ডিম ও সি-ফুড ধরার পর, আবর্জনা ধরার পর সাবান এবং পরিষ্কার পানি দিয়ে হাত ধুতে হবে।

হাত ধোয়ার জন্য অবশ্যই সাবান ও পরিষ্কার পানি ব্যবহার করা উচিত। ফ্লুর হাত থেকে বাঁচতে হলে ফ্লুর মৌসুমে বারবার হাত ধুতে হবে।

সঠিক নিয়মে হাত না ধুলে যা হতে পারে

অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় নাকে-মুখে হাত দিলে বা হাত ভুলভাবে না ধুয়ে খাবার খেলে বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও অন্যান্য জীবাণু শরীরে প্রবেশ করে। ফলে সাধারণ ঠাণ্ডা বা ফ্লু থেকে শুরু করে ডায়রিয়া, জন্ডিস, আমাশয়, টাইফয়েড ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অনেকে হাঁচি-কাশি দেওয়ার সময় অপরিষ্কার জামা বা রুমাল ব্যবহার করেন। এতে অন্যের সঙ্গে হাত মেলালে ফ্লু ছড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

হাত ধোয়ার নিয়ম

শুধু পানি দিয়ে হাত ধুলে বাহ্যিকভাবে পরিষ্কার হলেও হাত জীবাণুমুক্ত হয় না। জীবাণুর বিরুদ্ধে কার্যকর হলো সাবান, লিকুইড সোপ, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও হ্যান্ড-রাব। হাসপাতাল ছাড়া সাধারণ গৃহস্থালি, অফিস-আদালতে হাত জীবাণুমুক্ত রাখার জন্য সাবান বা লিকুইড সোপ দিয়ে হাত ধুলেই চলে। প্রতিবার হাত ধোয়ার সময় প্রায় তিন মিলিলিটার করে লিকুইড সোপ নেওয়া উচিত। হাত খুব বেশি ময়লা হলে হ্যান্ড স্যানিটাইজার আমাদের হাত থেকে সব জীবাণু এবং ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ দূর করতে পারে না।

প্রথমে পরিষ্কার পানিতে হাত ভিজিয়ে হাতে সাবান নিতে হবে। সাবান দুই হাতে লাগিয়ে কয়েক সেকেন্ড সময় ধরে আঙুলের ফাঁকে ফাঁকে, নখে ও হাতের সামনে-পেছনে ও কব্জিতে ভালো করে ঘষে নিয়ে ফেনা তৈরি করে অন্তত ২০ সেকেন্ড সময় নিয়ে হাত ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। এরপর পরিষ্কার পানি দিয়ে হাত ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। পানির কল বন্ধ করার সময় কাগজের টাওয়েল দিয়ে ধরে বন্ধ করা ভালো। ডা. হিমেল ঘোষ

এমবিবিএস (ঢাকা মেডিকেল কলেজ), বিসিএস (স্বাস্থ্য)

মেডিকেল অফিসার,

উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ডুমুরিয়া, খুলনা

মোবাইল : ০১৮৫৭-৫৫১১২৩