একের পর এক সাফল্য জমা হচ্ছে আয়ুষ্মান খুরানার ঝুলিতে। হিট, সুপারহিট সিনেমা উপহার দিয়ে যাচ্ছেন। তার ভক্তসংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি বলিউডেও নিজের শক্ত অবস্থান গড়ে নিচ্ছেন তিনি। অমিতাভ বচ্চন, শাহরুখ খানের মতো তারকারাও আজকাল প্রকাশ্যেই আয়ুষ্মানের ভক্ত হিসেবে নিজেদের দাবি করছেন। এমনি সময়ে বেশ বিতর্কের মুখে পড়ে গেল এই অভিনেতার সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘শুভমঙ্গল জেয়াদা সাবধান’। সমকামিতার গল্পে নির্মিত এই চলচ্চিত্রে আয়ুষ্মান খুরানা ও জিতেন্দ্রর মধ্যে চুম্বনের দৃশ্য রয়েছে। সেই দৃশ্য নিয়ে তৈরি হয়েছে ঝামেলা। সিনেমাটি বলিউসহ বিশ্বের নানা দেশে বেশ সাফল্যের সঙ্গেই চলছে। সমস্যা তৈরি হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে-আরবের কিছু দেশে। যেখানে দুই পুরুষের চুম্বন মেনে নিচ্ছে না সেন্সর বোর্ড। সেই আপত্তির মুখে চুম্বনের দৃশ্যটি বাদ দিতে প্রস্তুত ছিলেন প্রযোজকরা। কিন্তু তাতেও আপত্তি কাটছে না। জানা গেছে, শুধু দুই পুরুষের চুম্বন নয়, সিনেমাটির গল্পেই আপত্তি তুলেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। যার ফলে সেখানে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এই সিনেমার প্রদর্শনী। সেন্সর বোর্ড পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে এখানে এই সিনেমা মুক্তি পাবে না।
প্রযোজকরা তাদের জানিয়েছিলেন, যদি দুজন পুরুষের মধ্যে চুম্বনের দৃশ্য নিয়ে তাদের আপত্তি থাকে, তাহলে তারা তা বাদ দিয়ে প্রদর্শনে প্রস্তুত। কিন্তু তাতেও না করে দিয়েছে ইউএই প্রশাসন। ইউএই জানিয়ে দিয়েছে, তাদের আপত্তি কোনো একটা দৃশ্যে দুই পুরুষের চুম্বন নিয়ে নয়, তাদের আপত্তি পুরো সিনেমার বিষয়বস্তু নিয়ে। যেখানে সমকামিতাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের বিষয় প্রদর্শন তাদের দেশে নিষিদ্ধ।
একদিকে মধ্যপ্রাচ্যে নিষিদ্ধ হয়েছে সিনেমাটি। অন্যদিকে আমেরিকার প্রেসিডেন্টের প্রশংসা-বার্তাও পেয়েছে আয়ুষ্মানের ‘শুভমঙ্গল জেয়াদা সাবধান’। সমপ্রেমীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা পিটার টাশেল এই সিনেমাটির প্রশংসা করে একটি টুইট করেন। সেটি রিটুইট করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেখেন ‘গ্রেট’। এই সিনেমায় আরও এক পুরুষকে ভালোবাসায় কী কী সামাজিক সমস্যার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে আয়ুষ্মান খুরানাকে, সেটিই তুলে ধরা হয়েছে।
গত সোমবারই সরকারিভাবে প্রথমবার ভারত সফরে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার আগে বলিউড তারকা আয়ুষ্মান খুরানার শুভমঙ্গল জেয়াদা সাবধানের প্রশংসা করলেন তিনি। সমপ্রেম নিয়ে তৈরি এই সিনেমায় মুক্তি পেয়েছে গত শুক্রবার।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজে যদিও সমপ্রেমীদের অধিকার নিয়ে খুব একটা সরব নন। বরং তার সমর্থকদের অনেকেই প্রকাশ্যে সমপ্রেমের বিরোধিতা করেন। এখান থেকেই ট্রাম্পের এলজিবিটি সম্প্রদায়ের অধিকার নিয়ে কথা বলার দিন শুরু হলো বলে মনে করছেন পিটার টাশেল। ২০১৮ সালে সুপ্রিম সমপ্রেমে বৈধতা স্বীকার করে নিয়েছে।