রাবিতে মাতৃভাষা দিবসের ব্যানারে বীরশ্রেষ্ঠদের ছবি!

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ব্যানারে বীরশ্রেষ্ঠদের ছবি ব্যবহার করে সমালোচনার মুখে পড়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সংগীত বিভাগ। গত শুক্রবার একুশে ফেব্রুয়ারির প্রভাতফেরিতে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিভাগটি একাত্তরের স্বাধীনতাযুদ্ধে শহীদ সাত বীরশ্রেষ্ঠের ছবিসংবলিত ওই ব্যানার ব্যবহার করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপকরা বিষয়টিকে ভাষাশহীদদের জন্য অসম্মানজনক বলে মন্তব্য করেছেন। তবে সংগীত বিভাগ বলছে, কাউকে ছোট করা কিংবা অসম্মান জানানোর উদ্দেশ্যে এমনটা করা হয়নি।

সংগীত বিভাগের সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা জানান, একুশে ফেব্রুয়ারি সকালে বিভাগের পক্ষ থেকে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে র‌্যালি ও পুষ্পস্তবক অর্পণ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়। এ জন্য তৈরি করা হয় একটি ব্যানার। ওই ব্যানারের মাঝখানে লাল হরফে লেখা ছিল ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষাশহীদদের জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।’ এর ডান পাশে ছিল শহীদ মিনারের প্রতিকৃতি এবং বাম পাশে সাত বীরশ্রেষ্ঠের ছবি।

ওই ব্যানারটির ছবি গতকাল শনিবার বিকেলে ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার’ নামে একটি ফেইসবুক পেজে রেজওয়ান হোসাইন নামে একটি আইডি থেকে আপলোড করার পর তা ভাইরাল হয়ে পড়ে। ওই পোস্টে রেজওয়ান হোসাইন লেখেন, ‘৫২ ও ৭১ কিংবা রফিক, সালাম, বরকতদের সাথে বীরশ্রেষ্ঠদের পার্থক্য, এতটুকু মনে রাখার জন্য কি আসলেই ইতিহাস নিয়ে পিএইচডি করতে হয়? অথচ আপনারাই নিজেদেরকে দেশের প্রথম শ্রেণির নাগরিক ভাবেন এবং নিজেদের নামের সাথে প্রথম সারির একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যাগ লাগিয়ে চলেন।’

রেজওয়ান আরও লেখেন, ‘এখানেই শেষ নয়, আবার আপনারাই অন্যদের ব্যানারের ভুল দেখে হাসাহাসি করেন, ট্রল করে মজা নেন। বলি কী, আগে নিজেদের তো শোধরান! একের পর এক যা চলছে ক্যাম্পাসে, তাতে অদূর ভবিষ্যতে শুধু ট্রল করা ছাড়া কেউ আর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে গর্ব করার সাহস পাবে না! খোদা হাফেজ।’ পরে এই পোস্টে মাতৃভাষা দিবসের ব্যানারে

বীরশ্রেষ্ঠদের ছবি ব্যবহার করা নিয়ে সমালোচনা করে একের পর এক বিরূপ মন্তব্য পড়তে থাকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেম বলেন, সংগীত বিভাগের এ ধরনের ভুল অমার্জনীয়।

মাতৃভাষা দিবসের ব্যানারে বীরশ্রেষ্ঠদের ছবি ব্যবহারের কারণ জানতে চাইলে সংগীত বিভাগের সভাপতি দীনবন্ধু পাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা ব্যানারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ভাষাশহীদ ও বীরশ্রেষ্ঠ সবারই ছবি রেখেছিলাম। প্রেসের ভুলে হয়তো বা তাদের ছবি আসেনি।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এর মাধ্যমে বিভাগটি নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দিয়েছে। আশা করছি, তারা আগামীতে এ ব্যাপারে সচেতনতা অবলম্বন করবে।’