মিরপুরে মিছিলে ‘পুলিশের লাঠিপেটায়’ রিজভী আহত

হাইকোর্টে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন শুনানির এক দিন আগে গতকাল শনিবার তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে বিএনপির এক মিছিলে পুলিশ লাঠিপেটা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির নেতারা। তারা বলেছেন, বেলা ১১টার দিকে মিরপুর ৬ নম্বর সেকশনে এ ঘটনায় বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মিরপুরের আল হেলাল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

হামলার অভিযোগের বিষয়ে ঢাকা মহানগর

পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোস্তাক আহম্মেদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, মিছিলের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তারা নিজেরাই চলে যায়। পুলিশ লাঠিচার্জ বা কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। কেউ আহত হয়ে থাকলে তারা ‘নিজের সমস্যার কারণে’ আহত হয়ে থাকতে পারেন।

এর আগে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রচারের শেষ দিন তেজগাঁওয়ে রিজভীর ওপর হামলার অভিযোগ করা হয়েছিল। সেই অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেছিল পুলিশ।

বিএনপির ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক আমিনুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কারাবন্দি খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে রিজভী ভাইয়ের নেতৃত্বে আমরা মহানগর বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মিরপুর ৬ নম্বর কাঁচাবাজারের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করি। সমাবেশ শেষে মিছিল নিয়ে মিরপুর ১১ নম্বরের দিকে যাওয়ার সময় পুলিশের বাধার মুখে পড়ি। কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ করে পুলিশ আমাদের লাঠিপেটা করে।’ তিনি বলেন, পুলিশের লাঠিপেটায় রিজভী, তিনি নিজে, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, সহসভাপতি ওমর ফারুক কাউসার, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল, ছাত্রদল ঢাকা কলেজ শাখার সহসভাপতি সাইফুল ইসলাম তুহিনসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন।

এদিকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে রিজভী বলেন, পুলিশের এই হামলা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের এক নগ্ন উদাহরণ। পুলিশের এ ধরনের ন্যক্কারজনক কর্মকা-ে এটি পরিষ্কার যে বাংলাদেশ নামক স্বাধীন দেশের পুলিশ এখন দলীয় কর্মীতে পরিণত হয়েছে। দেশকে বানানো হয়েছে পুলিশি রাষ্ট্র। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর করেই বর্তমান অবৈধ শাসকগোষ্ঠী গায়ের জোরে জনগণের শোষকে পরিণত হয়েছে। বিবৃতিতে পুলিশি হামলায় আহতদের আশু সুস্থতা কামনা করেন তিনি।

এর আগে মিছিল-পূর্ব পথসভায় রিজভী বলেন, খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ। তার ডায়াবেটিস সম্পূর্ণরূপে অনিয়ন্ত্রিত। খালি পেটেই ১৫ থেকে ২০-এর মধ্যে ব্লাড সুগার ওঠানামা করছে। তিনি কিছুই খেতে পারছেন না, দাঁড়াতে পারছেন না। এ অবস্থায় তাকে জরুরি ভিত্তিতে মুক্তি দিয়ে সুচিকিৎসা করা না গেলে যেকোনো সময় অনাকাক্সিক্ষত কিছু ঘটে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক বিষয় যে, তার মুক্তি ও সুচিকিৎসা নিয়ে দল এবং স্বজনদের দাবিকে কোনো পাত্তা দিচ্ছে না সরকার। তিনি বলেন, এ অবস্থায় দেশের জনগণ মনে করে, খালেদা জিয়াকে তিল তিল করে নিঃশেষ করতেই বর্তমান সরকার ও সরকারপ্রধান উঠেপড়ে লেগেছেন। দেশবাসী আরও মনে করে, দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসবে না। তার মুক্তি ব্যতিরেকে মানুষের ভোটের অধিকারসহ সব গণতান্ত্রিক অধিকার কবরস্থ হয়েই থাকবে।