ঢাকা-১০ আসনের উপনির্বাচনের প্রচার দূষণমুক্ত করার পদ্ধতি খোঁজার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত পাঁচ দফা নিয়ে আজ রবিবার ছয় প্রার্থীর সঙ্গে বৈঠকে করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
ইসির ওই পাঁচ প্রস্তাব হলো ১. অনুমোদিত মাত্রায় মাইক বা শব্দযন্ত্র ব্যবহার করতে হবে; অনুমোদিত ক্যাম্পে পোস্টার, ব্যানার ও ডিজিটাল ডিসপ্লে স্থাপন করা যাবে। ২. পোস্টার ঝোলাতে হবে ইসি নির্ধারিত ২১ জায়গায়; একেকটি জায়গায় পালা করে মাইকিং চালাবে। ৩. শোভাযাত্রা-পদযাত্রা সীমিত করতে হবে; প্রত্যেক
প্রার্থীর নির্দিষ্ট দিন ও সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। ৪. জনসভার জন্য এক বা একাধিক জায়গা নির্দিষ্ট কর দেওয়া হবে; পর্যায়ক্রমে অনুমোদন নিয়ে সভা করতে হবে। ৫. তোরণ, ফুটপাতে ক্যাম্প, রাস্তায় পথসভা করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
আজ বেলা ১১টায় রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ কমিশনের সব সদস্য থাকবেন। বৈঠকে ‘লেমিনেটেড পোস্টার ও শব্দদূষণ’মুক্ত নির্বাচনী প্রচারের ব্যাপারে ছয় প্রার্থীর সঙ্গে ‘সমঝোতা’ করতে চায় সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি, যাকে ইসি কর্মকর্তারা ‘জেন্টলম্যান এগ্রিমেন্ট’ হিসেবে দেখছেন।
ঢাকার দুই সিটি (উত্তর ও দক্ষিণ) ভোটের প্রচারে ‘লেমিনেটেড পোস্টার ও মাত্রাতিরিক্ত শব্দদূষণের’ পর এর বিকল্প খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেয়। আজকের বৈঠকে ইসির প্রস্তাবের পাশাপাশি প্রার্থীদের প্রস্তাব থাকলেও তা পর্যালোচনা করা হবে। দূষণ রোধের ওই পাঁচ প্রস্তাব গত বুধবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় ছয় প্রার্থীকে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা-১০ আসনের উপনির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা জিএম সাহতাব উদ্দিন।
দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, এ চুক্তি বাস্তবায়ন হলে তা দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থায় মাইলফলক হয়ে থাকবে। সবার মত নিয়ে এই চুক্তি করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভোটের প্রচারের বিধিনিষেধের বিষয়ে আচরণবিধি রয়েছে। এর মধ্য থেকে প্রার্থীরা অনেক কিছুই করতে পারেন জানিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা সাহতাব বলেন, লেমিনেটেড পোস্টার ও শব্দদূষণে মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে। এখন দুর্ভোগ কমাতে প্রার্থীদের সঙ্গে বসে এর সমাধান খোঁজা হবে।
দক্ষিণ সিটির ১৪, ১৫, ১৬, ১৭, ১৮ ও ২২ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ঢাকা-১০ আসন। সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে লড়তে আসনটি থেকে পদত্যাগ করেন শেখ ফজলে নূর তাপস। তারপর আসনটি শূন্য হয়। এ আসনে ২১ মার্চ ভোটের দিন সামনে রেখে মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন ছিল গেল বুধবার। আজ ২৩ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ও ২৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রত্যাহারের সুযোগ শেষে ১ মার্চ প্রতীক বরাদ্দ হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক