পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নর্দার্ন জুট অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেডের সব ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ বা স্থগিত রাখা হয়েছে। গত ২২ জানুয়ারি আর্থিক খাত সংশ্লিষ্ট এক মামলায় উচ্চ আদালতের আদেশে বাংলাদেশ ব্যাংক এ কোম্পানির বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা সব হিসাব স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে। ব্যাংক হিসাব বন্ধ থাকায় উৎপাদন কার্যক্রমসহ রপ্তানি বন্ধ থাকায় সাময়িকভাবে কারখানা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত প্রশান্ত কুমার হালদার (পি কে হালদার) নর্দার্ন জুটের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শেয়ারের অধিকারী। তার পক্ষে কোম্পানির চেয়ারম্যান ও পরিচালক কার্যক্রম চালাতেন। পি কে হালদারের নিয়ন্ত্রণাধীন থাকায় নর্দার্ন জুটের ব্যাংক হিসাব স্থগিত করার আদেশ দেয় উচ্চ আদালত।
গতকাল নর্দার্ন জুট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সব ব্যাংক হিসাব স্থগিত করার কারণে কোম্পানিটি কেনো ধরনের রপ্তানি করতে পারছে না। কোম্পানিটি কোনো কাঁচা পাট প্রক্রিয়াজাত এবং সরবরাহকারীদের কোনো অর্থ পরিশোধ করতে পারছে না। এমনকি সমাপ্ত হিসাব বছরের লভ্যাংশও শেয়ারহোল্ডারদের বিতরণ করতে পারছে না। এমন পরিস্থিতিতে গত ২২ থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কারখানা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।
এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পি কে হালদার বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার আর্থিক কেলেঙ্কারি করে বিদেশে পালিয়ে গেছেন। তার হাতে নর্দার্ন জুট ছাড়াও সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ ও রহমান কেমিক্যালের নিয়ন্ত্রণ ছিল। এর বাইরে আজিজ পাইপসের সহযোগী প্রতিষ্ঠান আজিজ ফাইবার্স জুট মিলের নিয়ন্ত্রণও তার হাতে ছিল। প্রায় ২৭৫ কোটি টাকা অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গত ৮ জানুয়ারি তার বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সিমটেক্স, রহমান কেমিক্যালস ও নর্দার্ন জুটের নামের ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস থেকে ১৭০ কোটি ঋণ নেওয়া হয়। ওই ঋণের সুবিধাভোগী পি কে হালদার বলে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে। তালিকাভুক্ত অপর কোম্পানি সিমটেক্সের নামেও ৮০ কোটি টাকার ঋণ নেওয়া হয় ইন্টারন্যাশনাল লিজিং থেকে।
পুঁজিবাজারে থেকে নর্দার্ন জুটের শেয়ার কেনেন পি কে হালদার। সেখানে চেয়ারম্যান করা হয় পিপলস লিজিংয়ের চেয়ারম্যান উজ্জ্বল কুমার নন্দীকে। আর পরিচালক করা হয় পি কে হালদারের খালাতো ভাই অমিতাভ অধিকারীকে। কোম্পানিটির পর্ষদে পরিচালক মাত্র এ দুজনই। ২০১৮-১৯ হিসাববছরে কোম্পানিটির প্রায় ৫ কোটি টাকা নিট মুনাফা হয়। মুনাফা থেকে শেয়ারহোল্ডারদের ১০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার ঘোষণা দেয় কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ। তবে কোম্পানিটি এতদিন লভ্যাংশ বিতরণ করেনি। এখন সব ব্যাংক হিসাব স্থগিত হয়ে পড়ায় শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ প্রাপ্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়ল। চলতি ২০১৯-২০ হিসাববছরে কোম্পানিটি নিট মুনাফা হয় ২ কোটি ১৬ লাখ টাকা। এ সময় শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়ায় ১০ টাকা ১০ পয়সা। সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা ঋণের অর্থ আত্মসাৎ করে পি কে হালদার পালিয়ে যাওয়ায় এখন নর্দার্ন জুটের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ল।