চসিক নির্বাচন

বিএনপির মেয়র প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার আজ, ঘোষণা রাতেই

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপির প্রার্থী কে তা চূড়ান্ত হবে আজ সোমবার। বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের মনোনয়ন বোর্ড মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেবে। পরে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। মনোনয়ন বোর্ডের এই সভায় লন্ডন থেকে স্কাইপের মাধ্যমে সভাপতিত্ব করবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল রবিবার দেশ রূপান্তরকে এসব কথা জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।  

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি শনিবার রাতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড চসিকের মেয়র পদে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রেজাউল করিম চৌধুরীকে নৌকার প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন। গণভবনে অনুষ্ঠিত মনোনয়ন বোর্ডের সভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চসিকের মেয়র পদে বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনসহ মোট ১৯ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন।

গত মঙ্গলবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে চসিকের বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মাঝে মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু করা হয়। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির ৬ নেতা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। তারা হলেন মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন, সহ-সভাপতি নিয়াজ মোহাম্মাদ খান, সহ-সভাপতি সৈয়দ আজম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর ও সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মো. এরশাদ উল্লাহ ও ডা. লুসি খান।

চসিকের মেয়র পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী নিয়াজ মোহাম্মদ খান গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা যারা মনোনয়নপ্রত্যাশী তাদেরকে সোমবার বিকেলে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ডাকা হয়েছে। দলের মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যরা আমাদের সাক্ষাৎকার নেবেন। সাক্ষাৎকার শেষে দলের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।’

নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী চট্টগ্রাম সিটিতে আগামী ২৯ মার্চ রবিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ২৭ ফেব্রুয়ারি, মনোনয়নপত্র বাছাই ১ মার্চ, আপিল ২ থেকে ৪ মার্চ, প্রার্থিতা প্রত্যাহার ৮ মার্চ, প্রতীক বরাদ্দ হবে ৯ মার্চ।

চসিকের মেয়র পদে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে অন্যতম চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে ছাত্ররাজনীতিতে উঠে আসা এই নেতা ইতিপূর্বে দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতেও দায়িত্ব পালন করেছেন। বিগত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি কারাবন্দি অবস্থায় ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন নগরীর কোতোয়ালি আসন থেকে। দেশ রূপান্তরকে শাহাদাত বলেন, ‘প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও চট্টগ্রাম মহানগরীতে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে গিয়ে হামলা, মামলা, জেল-জুলুমের শিকার হয়েছি। তবু রাজপথ ছাড়িনি। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দল যদি মনোনয়ন দেয় তাহলে নির্বাচনের জন্য আমি প্রস্তুত। আর যদি দল অন্য কাউকে মনোনয়ন দেয় তার জন্যও নির্বাচনে কাজ করব।’

মেয়র পদে দলের মনোনয়ন চেয়েছেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর। দেশ রূপান্তরের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘যে কোনো নির্বাচনে দলের প্রার্থীর জন্য কাজ করে গেছি। নিজে কখনো নির্বাচনে অংশ নেইনি। এবার দল থেকে মনোনয়ন চেয়েছি। দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় তাহলে নির্বাচন করব।’

দলের আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী নগর বিএনপির সহ-সভাপতি নিয়াজ মোহাম্মদ খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি তিন মেয়াদে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা বোর্ডের সদস্যও ছিলাম তিনবার। আমার সেই অভিজ্ঞতা নিয়েই এবার দল থেকে মেয়র পদে মনোনয়ন চেয়েছি। দল যদি আমাকে সুযোগ দেয় আমি অবশ্যই নির্বাচন করব।’