হাইকোর্টের রুল

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২ ধারা কেন অসাংবিধানিক নয়

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৫ ও ৩১ ধারা কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। সাংবাদিক, আইনজীবী ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকসহ ৯ ব্যক্তির করা এক রিট আবেদনের ওপর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গতকাল সোমবার বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি মো. মাহমুদ হাসান তালুকদারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করে। চার সপ্তাহের মধ্যে আইন এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিবকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৫, ২৮, ২৯ ও ৩১ ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত ১৯ জানুয়ারি হাইকোর্টে এ রিট আবেদনটি করা হয়। আবেদনকারীরা হলেনÑ বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) একাংশের মহাসচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ; সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আসাদ উদ্দিন, মো. আসাদুজ্জামান, মো. জোবাইদুর রহমান, মো. মহিউদ্দিন মোল্লা, মো. মুজাহিদুল ইসলাম; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল, ড. মো. কামরুজ্জামান ও ড. মো. রফিকুল ইসলাম।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ইমরান এ সিদ্দিক ও শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার। ২০১৮ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সংসদে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস হয়। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের সমালোচিত ৫৭ ধারাসহ কয়েকটি ধারা বাতিল করে আইনটি প্রণীত হলেও বাতিল হওয়া ধারাগুলো নতুন আইনে রয়ে গেছে জানিয়ে শুরু থেকেই সাংবাদিকসহ বিভিন্ন মহলের আপত্তি ও উদ্বেগ ছিল। আইনটি পাসের আগে রাজপথে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন গণমাধ্যকর্মীসহ বিভিন্ন পেশাজীবীরা। খসড়া আইনের ৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২, ৪৩ ধারা নিয়ে আপত্তি তোলেন তারা।

অ্যাডভোকেট শিশির মনির দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ আইনের ২৫ ধারায় বলা আছে, যদি আক্রমণাত্মক, ভীতিকর, বিভ্রান্তিকর, অপমানজনক কোনো তথ্য অনলাইনে প্রচার করা হয়, তাহলে সেটি অপরাধ হবে। এখন কোনটা আক্রমণাত্মক নয়, কোনটা ভীতিকর, বিভ্রান্তিকর, অপমানসূচক নয় এ বিষয়ে আইনে সুনির্দিষ্টভাবে কোনো সংজ্ঞা নেই। তিনি আরও বলেন, ৩১ ধারা অনুযায়ী, কোনো তথ্যের মাধ্যমে শত্রুতা, ঘৃণা, বিদ্বেষ, অস্থিরতা, বিশৃঙ্খলা কিংবা আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর কথা বলা হয়েছে। কিন্তু অস্থিরতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো বলতে আসলে কী বোঝাচ্ছে, সেটি আইনে সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ নেই।

অ্যাডভোকেট শিশির বলেন, ‘সাংবিধানিক অধিক্ষেত্রের পরিপ্রেক্ষিতে এটাকে “প্রিন্সিপাল অব ভেগনেস” বলে। অর্থাৎ যেসব আইনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দণ্ড উল্লেখ থাকে সেসব আইনে কোনো ধরনের অস্পষ্টতা থাকতে পারে না। ক্রিমিনাল জুরিসপ্রুডেন্স অনুযায়ী, অপরাধ হতে হবে সুনির্দিষ্ট ও সংজ্ঞায়িত। কিন্তু এ ধারাগুলোতে অপরাধের বিষয়টি পরিপূর্ণভাবে সংজ্ঞায়িত না হওয়ার ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেটিকে আক্রমণাত্মক, বিভ্রান্তিকর, ভীতিকর ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর মতো মনে করছে সেই পরিপ্রেক্ষিতে তারা যখন-তখন যাকে-তাকে গ্রেপ্তার করছে। আইনটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এ সুযোগটা করে দিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মতপ্রকাশের যে স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের লেখনীর যে স্বাধীনতা এর সঙ্গে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৫ ও ৩১ ধারা সংঘর্ষিক এবং এগুলো অসাংবিধানিক। আদালত আমাদের বক্তব্য শুনে রুল দিয়েছেন।’