কভিড-১৯ পরীক্ষার কিট হস্তান্তর অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সংক্রমিত দেশের ফ্লাইট বাতিলের পরিকল্পনা নেই

আপাতত করোনাভাইরাস আক্রান্ত দেশগুলোর সঙ্গে ফ্লাইট বাতিলের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে করোনাভাইরাস শনাক্তে চীন সরকারের দেওয়া ৫০০ টেস্টিং কিট হস্তান্তর অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান তিনি। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় আক্রান্ত দেশগুলোর সঙ্গে বিমানের ফ্লাইট বাতিলের কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘এ মুহূর্তে ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যে কোনো ফ্লাইট বাতিলের পরিকল্পনা নেই।’

ইতিমধ্যে ফ্লাইটের সংখ্যা সব দেশেই কমে গেছে দাবি করে জাহিদ মালেক বলেন, ‘লোকজন চলাফেরা কমিয়ে দিয়েছে। এতে করে পর্যটনশিল্প সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর অর্থ হলো লোকজন নিজেরাই চলাচল কমিয়ে দিয়েছে।’

করোনাভাইরাস প্রতিরোধের ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের চেষ্টা করা উচিত যাতে করোনাভাইরাস দেশে না আসে। করোনাভাইরাস যাতে আমরা ঠেকাতে পারি। আমাদের দেশের বাইরে থাকুক এ চেষ্টা করাটা আমাদের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’ বাংলাদেশে ৩ লাখেরও বেশি মানুষকে পরীক্ষা করে কারও দেহে করোনাভাইরাস পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

‘আমাদের দেশে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসের রোগী আমরা পাইনি। আমরা সব ব্যবস্থা নিয়ে রেখেছি। পরীক্ষা করার জন্য সব ব্যবস্থা আছে। চিকিৎসা দেওয়ারও ব্যবস্থা আছে।’

অনুষ্ঠানে চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে ৫০০ টেস্টিং কিট তুলে দেন।

একটি কিট দিয়ে একজনকেই পরীক্ষা করা যায় জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এখনকার জন্য এই কিটসই যথেষ্ট, এ ছাড়া আরও কিট পাইপলাইনে আছে। আমরা এ পর্যন্ত ৭৯ জনের (করোনাভাইরাস আছে কি না) পরীক্ষা করেছি।’

রাজধানীর কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালকে করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘সব হাসপাতালেই কোয়ারেন্টাইন ওয়ার্ড করা আছে। এক কথায় বলতে গেলে আমরা মোটামুটি প্রস্তুত আছি।’

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মীরজাদী সাবরিনা ফ্লোরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।