আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ৬ জন আহত হয়েছে। এ সময় এক পক্ষ আরেক পক্ষের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে। হামলা চালানো হয়েছে স্থানীয় বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়িতেও।
গতকাল মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার ভুলতা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুপক্ষের অন্তত ৬ জন আহত হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে। উভয় পক্ষের সশস্ত্র মহড়ায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিরাজ করছে চরম উত্তেজনা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল আজিজ মিয়া তার পারিবারিক অনুষ্ঠানের দাওয়াত দিতে রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ফরিদ ভূঁইয়া মাসুমের মুড়াপাড়ার বাড়িতে যান।
সন্ধ্যায় আব্দুল আজিজ মিয়াকে নিয়ে শেখ ফরিদ মাসুম একটি প্রাইভেট কারে করে ভুলতা এলাকার দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় প্রাইভেট কারের সামনে তাদেরই একটি মোটরসাইকেল ছিল।ভুলতা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হামজালার পক্ষের লোকজন সামনে থাকা মোটরসাইকেলটির গতিরোধ করে। এ সময় মোটরসাইকেল আরোহী বিপ্লব হাসানকে মারধর শুরু করে হামজালার লোকজন। পরে শেখ ফরিদ মাসুম তার সহযোগী বিপ্লব হাসানকে মারপিট থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করে। এ সময় মৌসুমের সঙ্গে হাম জালা লোকজনের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। কিছুক্ষণ পরেই হাম জালার লোকজন ধারালো অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ভুলতে থেকে নামটি এলাকায় একটি অস্ত্রের মহড়া দেয়।
এরপর শেখ ফরিদ ভূঁইয়া মাসুম ও রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল আলম সিকদারের লোকজনও একত্রিত হয়ে পাল্টা মহড়া দেয়। একপর্যায়ে ফয়সাল শিকদারের লোকজন হামজালার দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ ছাড়া একটি মুদি দোকানসহ বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়। খবর পেয়ে ভুলতা ফাড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয়পক্ষকে ধাওয়া দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে পুলিশ সেখান থেকে চলে যায়।
পুলিশ চলে যাওয়ার পর কিছুক্ষণ পর হামজালাসহ তার এক থেকে দেড় শতাধিক লোক রামদা চাপাতি চাইনিজ কুড়ালসহ ধারালো অস্ত্র নিয়ে ভুলতার নাহাটি এলাকায় অবস্থিত রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল সিকদার এর অফিস ভাঙচুর করে। এ সময় হামলাকারীরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীক এবং গোলাম মর্তুজা পাপ্পার ছবি ভাঙচুর করেন বলে দাবি করেন শেখ ফরিদ ভূঁইয়া মাসুম। এ ছাড়া নাহাটি এলাকার বেশ কয়েকটি দোকান পাট ভাঙচুর করে তারা।
একপর্যায়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে সশস্ত্র অবস্থায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে করে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরে ফের পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ‘গ’ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মাহিন ফরাজী ও রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
সূত্র আরও জানায়, এলাকার বিভিন্ন কাজ নিয়ে দুপক্ষের মাঝে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধের জের ধরে ঘটনা সূত্রপাত হতে পারে।
এ ঘটনার ব্যাপারে শেখ ফরিদ ভুইয়া মাসুম বলেন, যারা ঘটনা ঘটিয়েছে। তারা ছাত্রলীগের কেউ নয় । বহিরাগত লোকজন দিয়ে আমার ও কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। যারা হামলা চালিয়েছে তারা চুরি ছিনতাইসহ অপরাধের সঙ্গে জড়িত রয়েছে।
অপরপক্ষের ভুলতা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হামজালার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
‘গ’ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মাহিন ফরাজী বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ফরিদ ভূঁইয়া মাসুম ও হামজালার দুই গ্রুপের মাঝে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় দুপক্ষই একে অপরের অফিসে হামলা ভাঙচুর চালিয়েছে দাবি করে তারা। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত মোতাবেক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।