অজ্ঞাত পরিচয় সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে হুমকি পেয়ে ১০ মিনিটের মধ্যে ব্যাগপত্তর গুছিয়ে স্ত্রী ও সন্তানদের বাসা থেকে বের করে গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জে পাঠিয়েছিলেন চাল ব্যবসায়ী শেখ মো. বাদল মিয়া। বাসার চাবি দিয়ে স্ত্রীকে বলেছিলেন, ‘তোমরা চলে যাও, আমি আসছি রাতে।’ তবে কথা অনুযায়ী এরপর রাতে আর বাড়িতে যাননি বাদল। তিনদিন নিখোঁজ থাকার পর গত মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর হাজারীবাগের ঝাউচর এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদীর কচুরিপানার মধ্য থেকে গলায় ও কোমরে একাধিক ইট বাঁধা অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার হয়।
গতকাল বুধবার পুলিশের রমনা বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানান, হাজারীবাগের স্থানীয় কোনো সন্ত্রাসী বাহিনী ব্যবসায়ী বাদলের কাছে চাঁদা চেয়ে না পেয়ে তাকে হত্যা করেছে। তার লাশের কোমর ও গলায় বাঁধা ইটের সূত্র ধরে খুনিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। বাদলকে হত্যায় জড়িত সন্দেহে গতকাল বেশ কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে হাজারীবাগ থানা পুলিশ। হাজারীবাগ থানার এসআই আবদুর রহমান জানান, বাদল মিয়া রায়েরবাজারের সুলতানগঞ্জ এলাকার ১৭১/১ নম্বর বাসায় থাকতেন। তার গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার কনকসাহা গ্রামে। বিভিন্ন মাধ্যমে তার খুনিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের ধানমণ্ডি জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার আব্দুল্লাহিল কাফী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এর সঙ্গে যে বা যারাই জড়িত থাকুক তাদের শিগগিরই গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।’
পুলিশ জানায়, নিহত বাদলের বাবা প্রয়াত শেখ আইয়ুব আলী। তিন সন্তান ও স্ত্রী শাহনাজ বেগমকে নিয়ে সুলতানগঞ্জ এলাকায় থাকতেন বাদল। রায়েরবাজারে সোনালী ট্রেডার্স নামে চালের দোকান আছে তার। ব্যবসায়িক কোনো বিরোধের কারণে বাদলকে শ্বাসরোধে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা পুলিশের।
নিহতের স্বজনদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, গত একুশে ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার পর থেকে বাদল মিয়া নিখোঁজ ছিলেন। পরদিন থানায় তার পরিবারের সদস্যরা একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে গতকাল তার লাশ উদ্ধার হয়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বাদল মিয়াকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ গুমের জন্য শরীরে ইট বেঁধে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়। কয়েকদিন থেকে পানিতে থাকায় তার মরদেহ ফুলে গেছে।
নিহত বাদলের ভাতিজা শেখ মনির হোসেন দেশ রূপান্তরকে জানান, গত ২০ ফেব্রুয়ারি তার চাচি শাহনাজ চাচাতো ভাই-বোনদের নিয়ে গ্রামের বাড়িতে যান। পরদিন ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে বাদল গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশে বের হন। এরপর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। অনেক খোঁজাখুঁজি করে তাকে না পেয়ে ২২ ফেব্রুয়ারি হাজারীবাগ থানায় একটি জিডি করেন তারা। মনিরের ভাষ্য, বাদলের সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ ছিল না।