স্থলবন্দরে ১৪ উৎসে দুর্নীতি রোধে ২৮ সুপারিশ দুদকের

দেশের স্থলবন্দরগুলোতে ১৪ উৎসে দুর্নীতি রোধে ২৮ সুপারিশ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বুধবার দুদক কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক খান সচিবালয়ে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর কাছে এই প্রতিবেদন হন্তান্তর করেন। এ সময় তিনি বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর বা প্রতিষ্ঠানের জন্য পৃথক পৃথক ২৫টি প্রাতিষ্ঠানিক টিম গঠন করে ইতিমধ্যে ১৫টি মন্ত্রণালয়ে এ জাতীয় প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। আজকের এটি ১৬তম প্রতিবেদন।

দুদকের প্রতিবেদনে বলা হয়, অধিকাংশ স্থলবন্দরের অপ্রতুল নিরাপত্তা ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে বন্দর ও কাস্টমসের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতায় প্রায়ই বিনাশুল্কে আমদানিকৃত মালামাল বের করে নেওয়া হয়। স্থলবন্দরগুলোর কেনাকাটায় ক্রয় আইন ও বিধির যথাযথ প্রয়োগ না হওয়ায় স্থানীয় ব্যক্তিরা নানাভাবে প্রভাব বিস্তার করে। এতে দুর্নীতি ও আত্মসাতের মতো নানা অপরাধ সংঘটিত হয়। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে লোকবল নিয়োগ ও বেতনাদি প্রদানের ক্ষেত্রে যথাযথ তদারকি ও স্বচ্ছতা না থাকায় কর্মে উপস্থিত ও অনুপস্থিত সব শ্রমিকের নামে বিল তুলে নেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে একই স্টেশনে কর্মরত থাকায় বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বন্দরকেন্দ্রিক সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের এক ধরনের সখ্য গড়ে ওঠার অভিযোগ পাওয়া যায়। ফলে কর্র্তৃপক্ষের পক্ষে বন্দরকেন্দ্রিক দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করা অনেকটা কঠিন হয়ে পড়ে। মালামাল হ্যান্ডলিংয়ের জন্য ঠিকাদার নিয়োগের ক্ষেত্রে সবক্ষেত্রে সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালার যথাযথ প্রয়োগ না হওয়ায় কাজ পাওয়ার অযোগ্য ঠিকাদাররা কাজ পাওয়ার চেষ্টা করে। পণ্য তালিকাসহ আমদানি-রপ্তানির অন্যান্য নথি সঠিকভাবে ও নির্ধারিত সময়ে যথাযথ যাচাই না করে পণ্য দ্রুত ছাড়করণের মাধ্যমে দুর্নীতি হয়। বন্দর কর্র্তৃপক্ষ ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয়ে দুর্নীতি হয়। আমদানিকারক ও কাস্টমস বিভাগ সূত্রে প্রায়ই বন্দরের শেড বা গুদাম থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে মালামাল চুরি হয়। স্থলবন্দর কর্র্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন বড় কাজকে ছোট ছোট গ্রুপে বিভক্ত করে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার মাধ্যমে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। নিয়োগ, বদলি ও পদায়ন এবং বিদেশে প্রশিক্ষণের জন্য কর্মকর্তা নির্বাচনের ক্ষেত্রে এলাকাপ্রীতি ও স্বজনপ্রীতি দেখা যায়। সিবিএ’র পদাধিকারী কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অর্পিত দায়িত্ব পালন না করে কমিশন বাণিজ্য করারও অভিযোগ পাওয়া যায়।

দুদক এসব দুর্নীতি রোধে ২৮টি সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সব স্থলবন্দরে অটোমেশন সিস্টেম চালু করা, শুল্ক গোয়েন্দাসহ অন্যান্য সংস্থার সহায়তায় গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে বিভিন্ন প্রশাসনিক, আইনি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া, বন্দর মাশুল ও শুল্ক ফাঁকি রোধে বন্দরের ওয়েব্রিজ স্কেলে আমদানিকৃত পণ্যবাহী ট্রাক ও খালি ট্রাকের ওজন নিশ্চিত করা, চোরাকারবারি চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া। স্থলবন্দরগুলোয় কর্মরত কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অবহেলা কিংবা দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তাৎক্ষণিকভাবে বিচারিক প্রক্রিয়ার আওতায় আনা। স্থলবন্দরগুলোর সংযোগকারী সড়কগুলো যানজটমুক্ত রাখতে হবে। সিন্ডিকেট ভাঙার স্বার্থে ও বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্র্তৃপক্ষের উন্নয়নমূলক সব কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতকল্পে ওপেন টেন্ডার প্রক্রিয়া ইজিপির মাধ্যমে করা। স্থলবন্দরগুলোতে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের কার্যক্রমে নজরদারি জোরদার করা, স্থলবন্দরগুলোয় পর্যাপ্ত গুদামজাতকরণের ব্যবস্থা নেওয়া এবং নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করাসহ বিভিন্ন সুপারিশ করা হয়।