ডিএসসিসির গাড়ি ব্যবহার করে প্রধান নির্বাহীর পরিবার

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শাহ মো. ইমদাদুল হক যোগদানের পর থেকে প্রাধিকার ভিত্তিতে একটি পাজেরো জিপ ব্যবহার করে আসছেন। সেই গাড়ির জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানিও নিচ্ছেন সরকারি কোষাগার থেকে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ডিএসসিসিতে প্রেষণে আসা সরকারের এ অতিরিক্ত সচিব নিয়ম ভেঙে আরেকটি পাজেরো জিপ সার্বক্ষণিক ব্যবহারের জন্য তার পরিবারের সদস্যদের দিয়ে রেখেছেন। গাড়িটির জ্বালানি হিসেবে দৈনিক ২৫-৩০ লিটার পেট্রলও নিচ্ছেন ডিএসসিসির কোষাগার থেকে। গাড়িটির চালকও ডিএসসিসির কর্মচারী। নগর ভবনে এ নিয়ে জল্পনা-কল্পনা থাকলেও প্রতিষ্ঠানের দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তির এ কর্মকাণ্ডের বিষয়ে কেউই প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ডিএসসিসির সিইও শাহ মোহাম্মদ ইমদাদুল হক টেলিফোনে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যানবাহনের বিষয়ে কথা বলবে পরিবহন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক। আমার কোনো বক্তব্য নেই।’ নিয়ম ভেঙে তার পরিবারের সদস্যদের একটি জিপ দেওয়া হয়েছে এ প্রশ্নের কোনো জবাব না দিয়েই ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন তিনি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, নিয়ম অনুযায়ী ডিএসসিসির সিইও একটি গাড়ি ব্যবহার করছেন। গাড়িটির (ঢাকা মেট্রো-গ-১৫-৫১৬৪) চালক মোরশেদ আলম। আর তার পরিবারের সদস্যদের সার্বক্ষণিক ব্যবহৃত গাড়িটির (ঢাকা মেট্রো-১৫-০২০৭) চালক মো. এনায়েত। ডিএসসিসির গাড়িচালক মোরশেদ আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি সিইও স্যারের অফিসের গাড়ি চালাচ্ছি। বাসার গাড়ি কে চালায় বলতে পারছি না।’ আর বাসার গাড়িটির চালক এনায়েতের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি ধরেননি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ইমদাদুল হক সিইও হিসেবে যোগদানের পর থেকেই ক্ষমতার অপব্যবহার করে করপোরেশনের কোটি টাকা দামের একটি জিপ পরিবারের সদস্যদের জন্য ব্যবহার করছেন। এজন্য তিনি প্রতিদিন প্রায় ৩০ লিটার জ্বালানিও নেন। সেই হিসেবে দৈনিক ২ হাজার ৫৫০ টাকা খরচ হয়, যা মাসে দাঁড়ায় ৭৬ হাজার ৫০০ টাকা। বছরে সিইও নিয়মের বাইরে গিয়ে ৯ লাখ ১৪ হাজার টাকার জ্বালানি নিচ্ছেন সরকারি কোষাগার থেকে।

তারা আরও বলেন, সরকারি গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থা প্রগতি থেকে একটি পাজেরো স্পোর্টস কেনা হয়েছে। ডিএসসিসির কোষাগার থেকে অর্থ পরিশোধ করা হলেও গাড়িটি আর নগর ভবনে আসেনি। যখন যে সিইও এ সংস্থায় প্রেষণে আসেন তার বাসায় চলে যায় জিপটি। যদিও পরিবহন নীতিমালা অনুযায়ী, বিভাগীয় প্রধানের যানবাহন সুবিধা পাওয়ার কথা থাকলেও ডিএসসিসিতে কেউ কেউ তা পাচ্ছেন না। বিষয়টি নিয়ে বেশ কয়েকজন ক্যাডার কর্মকর্তা ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, নগর ভবনের শীর্ষ কর্মকর্তার আত্মীয় পরিচয়ে একটি জিপ (ঢাকা মেট্রো-ঠ-১৩-১৭৬১) ব্যবহার করছেন ডিএসসিসির সহকারী সচিব আরশাদ হোসেন। প্রাধিকার অনুযায়ী, এ কর্মকর্তার নিজস্ব ব্যবহারের জন্য যান সুবিধা পাওয়ার কথা নয়। কিন্তু তিনিও ২০১৭ সালের জুন মাস থেকে গাড়িটি সার্বক্ষণিক ব্যবহার করছেন। এ গাড়ির পেছনে গত ৩১ মাসে জ্বালানি বাবদ খরচ হয়েছে প্রায় ২৩ লাখ ৭১ হাজার টাকা। এছাড়া গাড়িটির চালকও ডিএসসিসির কর্মচারী।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএসসিসির সহকারী সচিব আশরাদ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি যানবাহন সুবিধা পাওয়ার জন্য প্রাধিকারপ্রাপ্ত নই এটা সত্য। কিন্তু সংস্থাপন শাখায় অনেক কাজ করতে হয় বিধায় কর্র্তৃপক্ষ একটি গাড়ি বরাদ্দ দিয়েছে। আমি এ গাড়ির নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তা।’

এসব বিষয়ে জানতে মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও ডিএসসিসির পরিবহন শাখার মহাব্যবস্থাপক নিতাই চন্দ্র সাহা তা ধরেননি।