আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের জন্য বিদ্যুতের দাম সাময়িকভাবে বাড়ানো হয়েছে। সেজন্য এ মূল্যবৃদ্ধি মেনে নিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। শহীদ সেলিম-দেলোয়ার দিবস উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার রাজধানীর হাতিরপুলের ফিকামলি সেন্টারে এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। ১৯৮৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ছাত্রদের মিছিলে তৎকালীন স্বৈরশাসকের লেলিয়ে দেওয়া ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে রাজধানীর ফুলবাড়িয়ায় শহীদ হন ছাত্রনেতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্য সেন হলের ইব্রাহিম সেলিম ও জহুরুল হক হলের কাজী দেলোয়ার হোসেন। দিবসটি উপলক্ষে এ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
বিদ্যুতের দাম বাড়ানো প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আজকে বিদ্যুতের ক্রাইসিস অ্যাডজাস্টমেন্ট করার জন্যই উৎপাদন খরচ মিটিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে আপনাদের কাছে আরও সহজলভ্য করার জন্য বিদ্যুতের কিছু মূল্য বাড়াতে হচ্ছে। এটা সাময়িক। শতভাগ জনগণের কাছে বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছানোর জন্য সাময়িক একটু কষ্ট হবে। কিন্তু এরপরও সরকারকে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে।’
বিএনপি-জামায়াত জোট শাসনামলে বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতিসহ বারবার দাম বাড়ানো হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আজকে বিদ্যুৎ আর পানির সেবা পেতে আপনাদের কোনো অসুবিধা হচ্ছে না। শেখ হাসিনা সরকারের আমলে এ শহরে পানি আর বিদ্যুতের কোনো হাহাকার নেই। এই মুজিববর্ষে এখন ৯৬ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে। শেখ হাসিনা অঙ্গীকার করেছেন, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ আমরা পৌঁছে দেব।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আজকে ভারতের দিল্লি শহরে তাদের একটা অভ্যন্তরীণ সংকট চলছে। পাশের ঘরে আগুন লাগলে সেটার আঁচ লাগে। আমরা অবশ্যই জানি প্রতিবেশী ভারত আমাদের বিশ্বস্ত বন্ধু। আমরা ভারতকে বলব, আজকে দিল্লিতে যে সহিংসতা চলছে তারা তাদের নিজেদের সমস্যা নিজেরা অতি দ্রুত সমাধান করে নেবেন।’
শহীদ ছাত্রনেতাদের রাজনৈতিক সহকর্মী ডা. মোহাম্মদ ওয়াদুদের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য মমতাজ উদ্দিন মেহেদী ও মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন মজুমদার।