তালেবানদের সঙ্গে আমেরিকার শান্তিচুক্তি

আগামী ১৪ মাসের মধ্যেই আফগানিস্তান থেকে সব সেনাকে দেশে ফিরিয়ে নেবে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার কাতারের মধ্যস্থতায় তালেবানদের সঙ্গে একটি চুক্তির মধ্য দিয়ে ১৯ বছর ধরে চলা যুদ্ধের সমাপ্তি টানতে যাচ্ছে মার্কিনিরা। ওসামা বিন লাদেনের আশ্রয়দাতা এবং কট্টর ইসলামি ভাবধারার তালেবানদের সঙ্গে মার্কিন চুক্তি আবারও অতীতের কালো দিনগুলোকে ফিরিয়ে আনতে পারেÑ এমন আশঙ্কা অনেকের। লিখেছেন পরাগ মাঝি

যেভাবে স্বাক্ষরিত হয় চুক্তি

গত ২৯ ফেব্রুয়ারি কাতারের রাজধানী দোহায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এবং তালেবান নেতাদের উপস্থিতিতে একটি শান্তিচুক্তি সই হয়। আফগান বিষয়ে মার্কিন বিশেষ দূত জালমি খলিলজাদ ও তালেবানের পক্ষে মোল্লা আবদুল গনি বারদার ওই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। তালেবানদের দেওয়া শর্ত মেনেই যুক্তরাষ্ট্র এ চুক্তিতে সই করেছে।

চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ১৪ মাসের মধ্যে আফগানিস্তান ছাড়তে হবে মার্কিন ও ন্যাটো সেনাদের। এখন থেকে আফগানিস্তানে কোনো হামলা চালাবে না তালেবান। নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে আল-কায়েদাকে কোনো তৎপরতা চালাতে না দেওয়ারও অঙ্গীকার করেছে তারা।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেন, ‘আজ এ চুক্তির মাধ্যমে শান্তির সূচনা হলো।’ আফগান নাগরিকরা নিজ দেশে শান্তিতে বসবাসের অধিকার রাখে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী মে মাসের মধ্যেই আফগানিস্তান থেকে পাঁচ হাজার সেনা দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এও জানিয়েছেন, তিনি শিগগিরই তালেবান নেতাদের সঙ্গে একটি বৈঠকে মিলিত হবেন। তবে এ বৈঠক কবে কোথায় অনুষ্ঠিত হবে, তা কেউ জানে না।

তালেবানদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি সত্যিই বিশ্বাস করি তালেবানরা এমন কিছু করে দেখাবে যাতে মনে হয় যে, আমরা সেখানে বৃথা সময় নষ্ট করিনি। আর যদি খারাপ কিছু ঘটে তবে আমাদের বাহিনী সেখানে আবারও এমনভাবে ফিরে যাবে, যা আগে কেউ দেখেনি।’

চুক্তি অনুযায়ী, যুদ্ধবন্দি পাঁচ হাজার তালেবান যোদ্ধাকে মুক্তি দেওয়া হবে এবং বিনিময়ে এক হাজার আফগান নিরাপত্তাকর্মীকেও মুক্তি দেবে তালেবানরা। এছাড়া তালেবানদের ওপর থেকে বেশকিছু মার্কিন নিষেধাজ্ঞাও তুলে নেওয়া হবে।

১৯ বছরের যুদ্ধ

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আমেরিকানদের গর্ব নিউ ইয়র্কের টুইন টাওয়ারে হামলার পর এ যুদ্ধের সূচনা হয়। সে বছরের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা আফগানিস্তানে হামলা চালায়। তাদের দাবি ছিল, টুইন টাওয়ার ধ্বংস করার নেপথ্যে ছিলেন আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেন। তিনি তার বাহিনী নিয়ে সে সময় আফগানিস্তানে অবস্থান করছিলেন। মোল্লা ওমরের নেতৃত্বে তালেবানরা তখন দেশটির ক্ষমতায় ছিল। এ তালেবানরাই ছিল লাদেনের আশ্রয়দাতা।

২০১১ সালে নেভি সিল বাহিনীর হামলায় পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে লাদেন নিহত হলেও ১৯ বছরের চলমান যুদ্ধে প্রাণ এবং সম্পদের চরম মূল্য দিতে হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকেও। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০০১ সালে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৮২২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করেছে দেশটি। যদিও খরচের প্রকৃত অঙ্কটি আরও অনেক বেশি বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। বেশিরভাগ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে জঙ্গিবিরোধী অভিযান এবং আফগানিস্তানে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের জন্য খাদ্য, পোশাক, চিকিৎসা সেবা, বিশেষ ভাতা এবং অন্য সুবিধার জোগান দিতে।

জানা গেছে, আফগানিস্তানে মাদকের বিস্তার ঠেকাতে ২০০২ থেকে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর প্রতিদিন গড়ে ১.৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও জাতিসংঘের হিসাব বলছে, ২০১৭ সালেই আফগানিস্তানের সবচেয়ে বেশি এলাকাজুড়ে আফিমের পপি চাষ করা হয়েছে। এ পপিগাছ থেকে তৈরি করা হয় মারণঘাতী মাদক হেরোইন।

এদিকে তালেবানদের বিরুদ্ধে ১৯ বছরের যুদ্ধে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২ হাজার ৪০০ মার্কিন সেনাসহ মিত্র বাহিনীর প্রায় সাড়ে তিন হাজার যোদ্ধা নিহত হয়েছে। আর আহত হয়েছে প্রায় ২০ হাজার ৬৬০ সেনা। এখনো দেশটিতে প্রায় ১২ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছে। আর আফগানিস্তানে অবস্থান করে নানা ধরনের ঠিকাদারি কাজ করছে ১০ হাজারেরও বেশি মার্কিন নাগরিক। দীর্ঘ যুদ্ধে অনেক মার্কিন নাগরিকও প্রাণ হারিয়েছেন।

এছাড়া এ যুদ্ধে আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর অসংখ্য সদস্য নিহত হয়েছে। গত বছর আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি এক বক্তব্যে জানান, ২০১৪ সালে তিনি প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে পরবর্তী পাঁচ বছরের মধ্যেই আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর ৪৫ হাজারের বেশি সদস্য নিহত হয়েছে। এ যুদ্ধে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির সংখ্যাটাও বিশাল। এক হিসাবে দেখা গেছে, ২০০৯ সাল থেকে গত বছর পর্যন্ত এক লাখেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছে।

শান্তি আলোচনায় কাতারের ভূমিকা

আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠান জন্য ২০১১ সাল থেকেই কাজ করছিল কাতার। এজন্য তারা তালেবান নেতাদের আহ্বান জানানোর পর ২০১৩ সালে কাতারে একটি তালেবান অফিস স্থাপন করা হয়। যদিও তাদের পতাকা নিয়ে বিতর্কের জের ধরে ওই বছরই অফিসটি বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং অন্যান্য শান্তি পদক্ষেপগুলো স্থগিত হয়ে যায়। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে তালেবানরা ঘোষণা করে তারা মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি শান্তি আলোচনায় আগ্রহী। তবে চরমপন্থি এ দলটি আফগান সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানায়। বর্তমান আফগান সরকারকে তারা আমেরিকার পুতুল হিসেবে সম্বোধন করে।

অবশেষে কাতারের রাজধানী দোহায় নয় দফা আলোচনার পর একটি স্থির সিদ্ধান্তে আসতে ঐকমত্যে পৌঁছায় যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবান গোষ্ঠী। এর আগে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে তালেবানদের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতি হিসেবে পরবর্তী ২০ সপ্তাহের মধ্যে ৫ হাজার ৪০০ সেনা দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিলেও কয়েক দিনের মধ্যেই তালেবানদের হাতে এক মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পর ওই আলোচনাকে ‘মৃত’ বলে ঘোষণা করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ ঘোষণার পরও দুই পক্ষের মধ্যে চুপিসারে আলোচনা এগিয়ে যেতে থাকে। এক সপ্তাহ আগেই তালেবানরা বিশৃঙ্খলা কমিয়ে দেওয়ার ঐকমত্যে আসে। এদিকে আফগান সরকার দাবি করছে, বিশৃঙ্খলা পরিহারের ঐকমত্যে আসার পরও তালেবানদের হাতে ২২ জন আফগান নিরাপত্তাকর্মী ছাড়াও দেশটির অন্তত ১৪ জন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে।

ভূমিকা আছে ফৌজিয়া কুফিরও

মার্কিন-তালেবান শান্তি আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন আফগান নারী ফৌজিয়া কুফি। ছোটবেলায় ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখলেও ১৯৯০-এর দশকে তালেবানরা আফগানিস্তানের ক্ষমতা নিয়ে নিলে তার স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে যায়। তালেবানরা আফগান নারীদের স্বাধীনতায় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তারা ফৌজিয়ার স্বামীকে বন্দি করে এবং ফৌজিয়াকেও বেশ কয়েকবার মেরে ফেলার চেষ্টা করে। পরে তিনি রাজনীতির মাঠেই আত্মপ্রকাশ করেন। তিনিই তালেবান ও যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনার টেবিলে বসিয়েছেন। কাতারে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা ছাড়াও দীর্ঘ সময় ধরে তিনি আফগান সরকার ও জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে বেশ কয়েকবারই তালেবানদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন। ফৌজিয়া বলেন, ‘আমাকে ভয় দেখিয়ে আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী বানানো হয়নি। কাজটি করতে পেরে আমি নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। আমি আফগানিস্তানের নারীদের প্রতিনিধিত্ব করছিলাম।’

ফৌজিয়া জানান, ২০১৯ সালে রাশিয়ায় মস্কোর একটি হোটেলে তালেবান এবং আফগান সরকারের প্রতিনিধি দলের মধ্যে একটি বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে ৭০ জন পুরুষের সঙ্গে নারী মানবাধিকারকর্মী লাইলা জাফরি ও তিনি উপস্থিত ছিলেন। সেখানে তিনি তালেবানদের প্রতি আফগানিস্তানের রাজনীতিতে নারী প্রতিনিধি নিয়ে আসার আহ্বান জানান। যদিও তার এমন প্রস্তাবে তালেবান নেতারা সে সময় হাসছিলেন।

তালেবান কী চায়

২০০১ সালে আফগানিস্তানের রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে তালেবানদের উৎখাত করে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রশক্তি। সে সময় এই দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন মোল্লা ওমর। ১৯৯০-এর দশকে তিনিই এ ইসলামি চরমপন্থি দলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ২০০১ সালে আফগানিস্তানে হামলার প্রথম দিনেই কান্দাহারে অবস্থিত মোল্লা ওমরের বাসভবন ক্রুজ মিসাইল ছুড়ে উড়িয়ে দেয় মার্কিন বাহিনী। সে সময় তার ১০ বছর বয়সী পুত্র ও এক চাচাসহ বেশ কয়েকজন দেহরক্ষী প্রাণ হারালেও বেঁচে গিয়েছিলেন ওমর। পরে আহত অবস্থায় ওই এলাকা থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে পালিয়ে গিয়ে মার্কিনিদের বিরুদ্ধে তালেবান যোদ্ধাদের নেতৃত্ব দিতে শুরু করেন। ২০১৫ সালের ২৯ জুলাই আফগান সরকার ঘোষণা করে, ২০১৩ সালেই তিনি মারা গেছেন। তবে তার মৃত্যু স্বাভাবিক কারণ নাকি মার্কিন হামলায় হয়েছিল তা নিয়ে অনেক ধোঁয়াশা রয়েছে। তালেবানরা প্রায় দুই বছর তার মৃত্যুর কথা গোপন রাখে। মোল্লা ওমরের মৃত্যুর পর তালেবান বাহিনীর নেতৃত্ব দেন তার সহকারী মোল্লা আখতার মনসুর। ২০১৬ সালে মার্কিন ড্রোন হামলায় তিনিও নিহত হন। বর্তমানে তালেবানদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মৌলবি হাইবাতুল্লাহ আখুনজাদা। তিনি ধর্মীয় পণ্ডিত হিসেবে আফগানিস্তানে বেশ সুপরিচিত। তালেবান আদালতের সাবেক প্রধান বিচারক হাইবাতুল্লাহ শুরু থেকেই তালেবানদের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা ছিলেন। তিনি দক্ষিণ কান্দাহার প্রদেশের ইশাকজাই গোত্রের সদস্য।

আফগানিস্তানে দীর্ঘ এক দশকের (১৯৭৯-৮৯) সোভিয়েত দখলদারির অবসানের পর সেনা প্রত্যাহারকালে গোলযোগপূর্ণ সময়ে জন্ম হয় মুজাহিদ গোষ্ঠী তালেবানের। পশতুন শব্দ ‘তালেবান’-এর অর্থ হলোÑ ছাত্র। পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলে মাদ্রাসা ছাত্রদের নিয়ে ১৯৯৪ সালে মোল্লা ওমরের নেতৃত্বে তালেবানের আত্মপ্রকাশ ঘটে। সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধযুদ্ধে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ও পাকিস্তানের আইএসআইর ব্যাপক সাহায্য ও সমর্থন পেয়েছিল বিভিন্ন আফগান মুজাহিদ গোষ্ঠী। কিন্তু সোভিয়েত-পরবর্তী যুগে আফগানিস্তানে বিভিন্ন মুজাহিদ গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে চারদিকে ব্যাপক নৈরাজ্য শুরু হয়। ১৯৯২ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত গৃহযুদ্ধে আফগানিস্তানের প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ নিহত হয়। তখন শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কাজ শুরু করে তালেবান গোষ্ঠী। যুদ্ধবিগ্রহ আর অস্থিতিশীলতায় ক্লান্ত জনগণ তখন শান্তির আশায় তালেবানকে স্বাগত জানিয়েছিল। দক্ষিণ-পশ্চিম আফগানিস্তান থেকে তাদের প্রভাব ক্রমে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। ১৯৯৬ সালে প্রেসিডেন্ট বুরহানুদ্দিন রব্বানির সরকার উৎখাত করে রাজধানী কাবুল দখল করে তালেবানরা। আফগানিস্তানের ৯০ শতাংশ এলাকা দখলে নিয়ে সরকার গঠন করে তারা।

ক্ষমতায় আসার পর কঠোর ইসলামি শরিয়াহ আইন প্রবর্তন করে তালেবান গোষ্ঠী। মুসলিম পুরুষদের দাড়ি রাখা এবং নারীদের বোরকা পরা বাধ্যতামূলক করা হয়। নিষিদ্ধ করা হয় টেলিভিশন, সিনেমা দেখা, এমনকি গান শোনাও। ধর্ষক-খুনিদের প্রকাশ্য জনসমাবেশে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করত তারা। ১০ বছরের বেশি বয়সের মেয়েদের স্কুলে যাওয়া নিষিদ্ধ করে বিশ্বব্যাপী সমালোচিত ও নিন্দিত হয় তালেবানরা। আফগানিস্তানে বৌদ্ধধর্মের নানা নিদর্শন গুঁড়িয়ে দেয় তালেবান সেনারা। ২০০১ সালে রাষ্ট্রক্ষমতা হারানোর আগপর্যন্ত আফগানিস্তানে তারা তাদের চরমপন্থি মতাদর্শ বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখে। আফগানিস্তানে মার্কিন হামলার শুরুর দিকে তালেবানরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলেও সময়ের ধারাবাহিকতায় যুদ্ধের মধ্যেই আবারও তারা শক্তি সঞ্চয় শুরু করে। তাই আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীর ১৯ বছরের যুদ্ধকে ব্যর্থ বলেই মনে করছেন অনেকে। শেষ পর্যন্ত তাদের সঙ্গে শান্তিচুক্তি করে যুদ্ধের মাঠ ছাড়তে হচ্ছে মার্কিনিদের। ২৮ বছর বয়সী আফগান নারী অধিকারকর্মী জাহরা হোসাইনি আশঙ্কা করছেন, এ চুক্তি আফগান নারীদের অবস্থাকে আরও শোচনীয় করে তুলতে পারে।

জাহরা হোসাইনি বলেন, ‘আমি তালেবানদের বিশ্বাস করি না। ক্ষমতায় থাকাকালে কীভাবে তারা নারীদের দমিয়ে রেখেছিল তা এখনো মনে আছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আজকের দিনটি একটি কালো দিন। কারণ এ ধরনের একটি চুক্তি স্বাক্ষর দেখতে হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে আসলে শান্তি প্রতিষ্ঠা নয়, বরং তালেবানদের আবারও রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।’