প্রবৃদ্ধি বাড়লেও শিল্প খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হার আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে বলে সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (সিডিইআর) এক গবেষণায় উঠে এসেছে। শিল্প খাতে কর্মসংস্থান কমে যাওয়াকে হতাশাব্যঞ্জক ও দুশ্চিন্তার বলেও উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। সিডিইআর বলেছে, খাদ্য, বস্ত্র, পোশাক শিল্প, ফার্নিচারের মতো খাতগুলোতে ২০০৫ থেকে ২০১৫ সময়ে যে হারে কর্মসংস্থান হতো, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে তা অনেকটা কমে গেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ২০০৫ থেকে ২০১৫ সময়ে খাদ্য খাতে প্রতি বছর কর্মসংস্থানের প্রবৃদ্ধি হতো ২.৩১ শতাংশ হারে। আর ২০১৬ অর্থবছরে খাদ্য খাতে প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক ২.৮৪ শতাংশ। বস্ত্র খাতেও একই অবস্থা। ২০০৫-০৬ অর্থবছর থেকে ২০১৫ অর্থবছর পর্যন্ত বস্ত্র খাতে প্রতি বছর গড় কর্মসংস্থানের প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৩.৭৯ শতাংশ। যেটি ২০১৬ অর্থবছরে হয়েছে ঋণাত্মক ১.১৯ শতাংশ। ফার্নিচার খাতে ২০০৫ থেকে ২০১৫ সময়ে কর্মসংস্থানের প্রবৃদ্ধি ছিল ৮.৭১ শতাংশ; যেটি ২০১৬ অর্থবছরে ঋণাত্মক -৫.৩৬ শতাংশ। অর্থাৎ এই তিনটি খাতে প্রবৃদ্ধি তো হয়নি; উল্টো কর্মসংস্থানের হার কমে গেছে।
গতকাল বনানীতে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) কার্যালয়ে গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. শামসুল আলম, সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাঈদুজ্জামান, পিআরআই চেয়ারম্যান জায়েদী সাত্তার, নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুরসহ অন্যরা। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিডিইআরের সিনিয়র ভিজিটিং ফেলো রিজওয়ানুল ইসলাম।
তিনি বলেন, প্রতি বছর ৮ শতাংশ হারে বাংলাদেশ জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে। প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্জন খুবই উল্লেখযোগ্য। কিন্তু কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে তা অত্যন্ত হতাশাব্যঞ্জক। শ্রমনিবিড় শিল্প যেমন তৈরি পোশাক, বস্ত্র, জুতা, আসবাবপত্র খাত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারছে না। ওষুধ খাতে কর্মসংস্থানের প্রবৃদ্ধি কমে যাচ্ছে।
রিজওয়ানুল ইসলাম বলেন, ২০০৫ থেকে ২০১০ সময়ে প্রতি বছর সার্বিক কর্মসংস্থানের প্রবৃদ্ধি ছিল ৩.৩ শতাংশ। অন্যদিকে ২০১০ থেকে ২০১৫ সময়ে প্রতি বছর সার্বিক কর্মসংস্থান ছিল মাত্র ১.৭ শতাংশ। ম্যানুফ্যাকচারিং খাতেও প্রবৃদ্ধি কমে যাচ্ছে। ২০০৫ থেকে ২০১০ সময়ে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে প্রতি বছর কর্মসংস্থানের প্রবৃদ্ধি ছিল ৬.৩ শতাংশ। আর ২০১০ থেকে ২০১৫ সময়ে তা কমে হয়েছে ৪.৬ শতাংশ।
সিডিইআরের নির্বাহী চেয়ারপারসন ড. রুশিদান ইসলাম রহমান তার প্রবন্ধে বলেন, বিদেশের উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন শ্রমশক্তি এসে প্রতি বছর ৩০০ থেকে ৪০০ কোটি ডলার বেতন হিসেবে নিয়ে যাচ্ছে। এভাবে কত বছর চলবে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. শামসুল আলম বলন, অসমতা বাড়ছে এটা ঠিক। শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধিও কমছে। ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি বাড়াতে নীতি-কৌশলের কথা বলছি। পিআরআই ও সিডিইআর যৌথভাবে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে।