বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে মুজিববর্ষের কর্মসূচি গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি নতুন কর্মসূচি না নিয়ে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে নিজেদের বাজেট থেকে মানুষের কল্যাণ ও দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে এমন কর্মসূচি নেওয়ার নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল সোমবার তার কার্যালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকের অনির্ধারিত আলোচনায় এসব নির্দেশনা দেন বলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানান। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী।
মুজিববর্ষ নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘উনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেছেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রতিটা মন্ত্রণালয় ও বিভাগ তার একটা নোটেবল প্রোগ্রামকে মুজিববর্ষের প্রোগ্রাম হিসেবে ঘোষণা করবে, তার নরমাল বাজেট থেকে। যদি একসেপশনাল কোনো কাজ থাকে তার জন্য এক্সট্রা টাকা চিন্তা করা যেতে পারে। কিন্তু বড় বড় বাজেট দিয়ে নতুন কাজ করার দরকার নেই। কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে প্রোগ্রাম নিতে বলা হয়েছে।’
বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উদযাপনে গত বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীকে সভাপতি করে একটি জাতীয় কমিটি এবং জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলামকে সভাপতি করে একটি বাস্তবায়ন কমিটি করেছে সরকার। এ ছাড়া বিষয়ভিত্তিক আটটি উপকমিটিও গঠন করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর স্বদেশপ্রত্যাবর্তন দিবস ১০ জানুয়ারি তেজগাঁওয়ে পুরনো বিমানবন্দরে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের ক্ষণ গণনার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুজিববর্ষের লোগো উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মুজিববর্ষ পালনে যেন বাড়াবাড়ি না করা হয় সে ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে আগেই সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। কেমন কর্মসূচি হতে পারে তার একটি উদাহরণ দেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। তিনি বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে ছয় লাখ পেনশনভোগী বাড়িতে বসে যাতে পেনশন পান, সেটা নিশ্চিত করবে অর্থ বিভাগ। এ রকম কর্মসূচি মুজিব শতবর্ষের কর্মসূচিতে রাখতে বলা হয়েছে।
মন্ত্রিসভা বৈঠকের পর অনির্ধারিত আলোচনার বিষয়বস্তু তুলে ধরে আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘মুজিববর্ষে সবাইকে নতুন কিছু করার দরকার নেই। সাধারণ যে কর্মসূচি সেটাকে আরও ইফেকটিভ করা হবে। ২০২১ সালের ১৭ মার্চের আগে পদ্মা সেতুর ফিজিক্যাল কাজ শেষ হবে। এটাকে মুজিববর্ষের গ্রোগ্রাম হিসেবে ঘোষণা করলাম। এ জন্য টাকা লাগবে কিন্তু ওই টাকা তো ওই প্রজেক্টে ধরাই আছে। কাজটা হয়তো আরও তিন মাসে হতো, এটাকে বেশি এফোর্ট দিয়ে মার্চ মাসের মধ্যে করার চেষ্টা করব।’সুনামগঞ্জে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে হাওরাঞ্চল সুনামগঞ্জে একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে আইনের খসড়া অনুমোদন দিয়েছে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, এটা প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ। কনসেপ্টটা ওনার কাছ থেকে এসেছে। এটা খুব রিমোট এরিয়া। রিমোট এরিয়ায়ও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থাকা দরকার। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইনটি নিয়ে এসেছে। এর আগে গত ৩ ডিসেম্বর মন্ত্রিসভা বৈঠকে খসড়া আইনটি নীতিগতভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়। অন্যান্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন যে রকম সেটা অনুসরণ করেই করা হয়েছে বলে জানান আনোয়ারুল ইসলাম।
বর্তমানে ৪২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে জানিয়ে খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, এর মধ্যে সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় ১৭টি, ৬টি কৃষি ও ভেটেরিনারি, ১৯টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। এ ছাড়া আরও ৪টি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। বর্তমানে দেশের ৩২টি জেলায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নেই। দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ১০৫টি বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
জাতীয় কৃষি সম্প্রসারণ নীতি অনুমোদন : ‘জাতীয় কৃষি সম্প্রসারণ নীতি-২০২০’ অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এই নীতির মূল লক্ষ্য হচ্ছে সব শ্রেণির কৃষক ও উদ্যোক্তাদের চাহিদাভিত্তিক সেবা প্রদানের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সহনশীল, পরিবেশবান্ধব, নিরাপদ, টেকসই ও পুষ্টিসমৃদ্ধ লাভজনক ফসল উৎপাদন নিশ্চিত করা।
খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, মন্ত্রিসভা দুটি বিষয় রিভাইস করতে বলেছে। নীতিমালার ভূমিকার মধ্যে আমাদের কৃষিনীতির একটা ব্যাকগ্রাউন্ড যুক্ত করতে বলা হয়েছে। কারণ আমাদের প্রথম কৃষি নীতি হয়েছিল ১৯৯৬ সালে। আরও একটা বিষয় আলোচনা হয়েছে, সেটি নীতিতে অন্তর্ভুক্ত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেটা হলো সমবায়ভিত্তিক চাষপদ্ধতি। যেমন ধরুন, অনেক ইকুইপমেন্ট আছে, যেগুলোর দাম ২০-২২ লাখ টাকা। কয়েকজন কৃষক তিন মাসের জন্য একটা কিনলে তাদের জন্য লাভজনক হয় না। সে জন্য সমবায়ভিত্তিতে সবাই মিলে যদি এটা কেনা যায়, তাহলে সবাই সেটা ব্যবহার করতে পারবে। ওইভাবে বাজারজাতকরণটাও যদি সমবায়ভিত্তিতে হয়, বিশেষ করে চাষের বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচনা হয়েছে।
উদাহরণ দিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ১০০ একর জায়গা নেওয়া হলো, এর মধ্যে সবার জমি থাকল। সবাই যদি একই টাইপের ফসলে যায়, তাহলে কম্বাইন্ড পদ্ধতিতে চাষ করে, একসঙ্গেই ফসল কাটা হবে, একসঙ্গে তুলে নেওয়া হবে। সে ক্ষেত্রে মার্কেটিংয়ে সুবিধা হবে। যারা কেনে তাদের এক জায়গায় নিয়ে এলে তারা একসঙ্গে নিয়ে যেতে পারবে। তখন জমির পরিমাণ অনুযায়ী ব্যয় ও লাভ বিশ্লেষণ করে প্রত্যেক কৃষককে (টাকা) দিয়ে দেওয়া যাবে। এ বিষয়ে একটি পাইলট প্রজেক্টের বিষয়ে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়েছে। দেখা যাচ্ছে, এটায় দুই গুণ, আড়াই গুণ পর্যন্ত বেশি লাভ হয়।