মুজিববর্ষ উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশে আসা প্রতিহতের ঘোষণায় সরকার মোটেও বিব্রত নয় বলে জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলার সঙ্গে বৈঠক-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা মনে করি, এটা যারা করছে (প্রতিহতের ঘোষণা দিচ্ছে) তাদের এটা করা মোটেও উচিত হচ্ছে না। মুজিববর্ষকে সামনে রেখে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে স্বাগত জানানো উচিত। তাদের সঙ্গে কোনো প্রকার সংঘাত-সঙ্কুলের কারণ হয়নি। তাদের রিঅ্যাকশন প্রকাশ করছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলমতের লোকজন। এখানে রিলিজিয়াসলি বিষয়টি অনেকে দেখছে। কাজেই এটা সব সময় ছিল। আজও আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে।’
ভারতের জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) সংক্রান্ত এক প্রশ্নে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আসার আগেই সমাধানের আশ্বাস এটা তো ভারতের পররাষ্ট্র সচিব ইতিমধ্যেই বলেছেন। তিনি তো কিছু বাদ রাখেননি, সব কথাই বলেছেন। তিনি আসছেন মুজিববর্ষ উপলক্ষে। সম্মানিত অতিথি হিসেবে। আমাদের ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রধান মিত্র ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর উদ্বোধনে যোগ দিচ্ছেন। একই সঙ্গে ১৮ তারিখ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক আছে। সেখানে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অবশ্যই প্রধানমন্ত্রী টু প্রধানমন্ত্রী আলোচনা হওয়ার সুযোগ রয়েছে। ওই পর্যায়ে যে আলোচনা হবে সেটা এখন আর করার প্রয়োজন নেই। আমরা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি।’
ভারতে যে সহিংসতা চলছে এটা নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান কী এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমি ইতিমধ্যেই বলেছি, আমাদের প্রতিবেশীর ঘরে আগুন লাগলে পাশের ঘরে তার আঁচ অবশ্যই যায়। এ কথা তো আমি আরও আগেই বলেছি। আমাদের এখানে উদ্বেগ ছিল এবং এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া ছিল। কিন্তু আমরা একটা বিষয়ে আনন্দিত ওখানে বিষয়টাকে একেবারে কমিউনালি দেখেননি মানুষ। সেখানে মুসলমানরা যখন বিপদে পড়েছে আরেক হিন্দু মুসলমানদের রক্ষা করতে এগিয়ে এসেছে। জুমার নামাজের দিন হিন্দুরা পাহারা দিয়েছে ও মসজিদ পর্যন্ত রক্ষা করার জন্য এগিয়ে এসেছে। এটা কিন্তু পিপল টু পিপল কন্ট্রাক্টের ভালো দিক।’
ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেন, ‘সাম্প্রতিক পরিস্থিতি দিয়ে ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক বিচার করলে চলবে না। সামাজিক মাধ্যমে কিছু বিদ্বেষ ছড়ানো হয়েছে। সরকার শক্ত হাতে তা নিয়ন্ত্রণ করছে। আশা করি এই পরিস্থিতি দু’দেশের সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে না।’