খুলনায় প্রতিপক্ষের হামলায় ছাত্রলীগ নেতা নিহত

খুলনার কয়রায় সেতুর নির্মাণকাজকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাদীউজ্জামান রাসেল (২৮) মারা গেছেন। এলাকার খালের ওপর একটি সেতুর নির্মাণকাজকে কেন্দ্র করে গত রবিবার বিকেলে রাসেলের ওপর হামলা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে গতকাল সোমবার ভোরে তিনি মারা যান। নিহত রাসেল কয়রার বাইলাহারানিয়া গ্রামের আবদুস সাত্তার সানার ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, গত রবিবার বাইলাহারানিয়া গ্রামের আলিম মাদ্রাসার পাশে বাতিকাটা খালের ওপর নির্মাণাধীন সেতুর ঢালাইকাজ চলছিল। ওই দিন বেলা ১১টায় বাগালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আবদুস সাত্তার সানার নেতৃত্বে স্থানীয় হাফিজুর রহমানের তিন ছেলে তুহিন হোসেন (৪০), বাবু (৩৭) ও মিলন (৩০) সেতুর স্থান নির্বাচন নিয়ে কাজে বাধা দিলে শ্রমিকদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ঘটনাটির মীমাংসাও হয়। পরে বিকেলে আবার ঝামেলা হলে বিকেল ৪টার দিকে ঘটনাস্থলে যান হাদীউজ্জামান রাসেল। তিনি দুপক্ষকে নিয়ে বসে বিষয়টির মীমাংসার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে আবদুস সাত্তার সানার নেতৃত্বে তুহিন ও তার ভাইয়েরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে রাসেলের ওপর হামলা চালায়। এ সময় রাসেলসহ তার সঙ্গে থাকা ছাত্রলীগ কর্মী ইয়াছিন আরাফাত (১৯),  রাজু (২২),  আবদুল্লাহ (২৯),  আবুল হাসান (২০) ও সেলিম (৩২) গুরুতর আহত হন। তাদের উদ্ধার করে প্রথমে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে রাসেলকে গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কক্ষে (আইসিইউ) রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে গতকাল সকাল সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় মৃত্যু হয় রাসেলের। অন্য আহত ছাত্রলীগ কর্মীরা খুমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

স্থানীয় বাগালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুস সাত্তার পাঁড় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ব্রিজ নির্মাণের জায়গা নিয়ে চাচাতো ভাইদের সঙ্গে রাসেলের বচসা হয়। একপর্যায়ে দুপক্ষের সংঘর্ষে রাসেল গুরুতর আহত হয়।’ রাসেলের ওপর হামলায় জড়িত অভিযোগে তুহিন ও মিলন সানা নামে দুজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কয়রা থানার ওসি মো. রবিউল ইসলাম।