যুবলীগের চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রতিনিধি সভা

মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে দ্রুত নতুন কমিটি গঠনের নির্দেশ

যুবলীগের চট্টগ্রাম বিভাগের সব জেলা ও ইউনিটের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি গঠন এবং অপূর্ণাঙ্গ ও আহ্বায়ক কমিটিগুলো পূর্ণাঙ্গ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আগামীতে কোনো চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি যাতে কমিটিতে ঠাঁই না পায়, সেই বিষয়েও সতর্ক থাকার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে যুবলীগের চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রতিনিধি সভায় এসব নির্দেশনা দিয়েছেন সংগঠনের শীর্ষ নেতারা । এ সময় আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মেয়র  ছবি প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরীকে বিজয়ী করতে একটি নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নগরীর রীমা ক্লাবে আয়োজিত এই প্রতিনিধি সভায় সভাপতিত্ব করেন যুবলীগের নবগঠিত কমিটির চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান খান নিখিলের সঞ্চালনায় সভায় চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা; কুমিল্লা ও কক্সবাজার জেলা এবং বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলাসহ ১৫টি সাংগঠনিক জেলা, বিভিন্ন উপজেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন ইউনিটের প্রায় ৫ শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

সভা শুরুর আগে সামনের সারিতে বসাকে কেন্দ্র করে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে সভার মাঝখানে কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে টেলিভিশন সাংবাদিকদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদকের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।  সভায় যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ বলেন, ‘আমার বাবা যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা। নানা কারণে যুবলীগের ইমেজ ক্রাইসিস তৈরি হয়েছিল। জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাদের দায়িত্ব দিয়েছেন। আমরা কাজ করছি যুবলীগকে একটি সুশৃঙ্খল সংগঠন হিসেবে তৈরি করতে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের শত্রু এখন বিরোধী সংগঠন নয়। আপনারা আপনাদের ভাইকে শত্রু বানাবেন না, ভাইদের শত্রু ভাববেন না। আপনারা যুবলীগের মান রক্ষা করবেন। যুবলীগের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে হবে।’

যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান খান নিখিল বলেন, ‘আগে যা হয়েছে, তা বাদ। চট্টগ্রাম বিভাগে যেইসব মেয়াদোত্তীর্ণ, অপূর্ণাঙ্গ, আহ্বায়ক কমিটি আছে সেগুলো ভেঙে নতুন কমিটি গঠন করতে হবে। তবে আগামী যেইসব কমিটি গঠন করা হবে সেখানে যাতে কোনো চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ, মাদক কারবারি, অনুপ্রবেশকারীরা স্থান না পায়, সেই বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে।’

চসিক নির্বাচনে বিতর্কিত কয়েকজনকে কাউন্সিলর পদে সমর্থন দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। তিনি বলেন, ‘সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থীদের যে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, সেই প্রক্রিয়ার সঙ্গে আমরা জড়িত নই, আমরা কিছু জানি না। নানা অভিযোগ থাকার পরও কাউন্সিলর প্রার্থীদের কারা মনোনয়ন দিয়েছেন, কারা নেত্রীকে কোণঠাসা করেছেন, তারা কি জেনেশুনে করেছেন, নিজের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য কারা এসব করেছেন?’ আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র ও সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের বিজয়ী করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করারও আহ্বান জানান তিনি।

চসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ও মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম রেজাউল করিম চৌধুরীও সভায় উপস্থিত ছিলেন। এ সময় মেয়র প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতাদের ফুলের নৌকা উপহার দেওয়া হয়। রেজাউল করিম বলেন, ‘শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে জয়ের কোনো বিকল্প নেই। তাই নির্বাচনে যুবলীগ নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’

সভা শেষে কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বদিউল আলমকে আহ্বায়ক এবং সাবেক গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক শহীদুল হক রাসেলকে সদস্য সচিব করে চসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীকে বিজয়ী করতে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক নেতাদের পাশাপাশি কমিটিতে চট্টগ্রাম বিভাগের সব জেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।