শীত বিদায় নিয়েছে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে। এরপর থেকে মাঝে দু-একদিন গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ছাড়া বাকি দিনগুলো কেটেছে শুষ্কভাবেই। তবে মার্চ মাস অতটা শুষ্কভাবে কাটবে না বলে আগাম জানান দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। অধিদপ্তর বলছে, গত মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে ৮৩ শতাংশ কম বৃষ্টি হলেও মার্চ মাসজুড়ে স্বাভাবিক বৃষ্টি ছাড়াও থাকছে বজ্র ও শিলাবৃষ্টিযোগে কয়েকটি মাঝারি থেকে তীব্র মাত্রার কালবৈশাখী।
এমনকি ভারী বৃষ্টিজনিত কারণে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি মাসের শেষ দিকে তাপপ্রবাহের শঙ্কাও রয়েছে। মার্চ মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে এমনটাই জানিয়েছে অধিদপ্তর। গত পহেলা মার্চ আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞ কমিটির নিয়মিত সভাশেষে এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়। পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ মাসে তুলনামূলক বেশি বৃষ্টি হতে পারে সিলেট বিভাগে। দেশের উত্তর, উত্তর-পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে অন্তত দুটি তীব্র কালবৈশাখীর শঙ্কা রয়েছে। মাসের শেষ সপ্তাহে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিজনিত কারণে দেখা দিতে পারে আকস্মিক বন্যা।
বিশেষজ্ঞ কমিটির সদস্য আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ গত রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মার্চ মাসেই মূলত কালবৈশাখী শুরু হয়। এ সময় মাঝামাঝি মাত্রার বাতাস হয়। পশ্চিমবঙ্গে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে আকাশে বজ্রমেঘের তৈরি হয়। এর সঙ্গে দক্ষিণা বাতাসের সংমিশ্রণে বাংলাদেশের রাজশাহী ও চুয়াডাঙ্গা অঞ্চলে বিশেষ করে বিকেলবেলা বজ্রমেঘ হয়। এটি বেশি এলাকাজুড়ে হয় না। মেঘ যেদিকে যায়, সেদিকেই হয়।’
আকস্মিক বন্যার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে মার্চ মাসে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা কম। শেষ দিকে সিলেট অঞ্চলের দিকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সম্ভাবনা থেকেই আকস্মিক বন্যার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে সৃষ্টি এই বন্যা স্বল্প সময়ের জন্য থাকে।’
মার্চ মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ মাসে সামগ্রিকভাবে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। সিলেট বিভাগে সর্বোচ্চ ৬-৮ দিন এবং ঢাকা বিভাগে ৩-৫ দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বাকি বিভাগগুলোতে ২-৪ দিন বৃষ্টি হতে পারে। দেশের উত্তর, উত্তর-পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে ১-২ দিন বজ্র ও শিলাবৃষ্টিসহ মাঝারি বা তীব্র কালবৈশাখীর শঙ্কা রয়েছে। এছাড়া দেশের অন্যত্র ৩-৪ দিন বজ্র ও শিলাবৃষ্টিসহ হালকা বা মাঝারি কালবৈশাখী হতে পারে। এ মাসে দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিক (৩৪-৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস) অপেক্ষা সামান্য কম থাকতে পারে। তবে মাসের শেষের দিকে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ওপর দিয়ে ৩৬-৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার একটি মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এ মাসে রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিক অপেক্ষা সামান্য বেশি থাকতে পারে। মাসের শেষ সপ্তাহে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারূ বৃষ্টিজনিত কারণে আকস্মিক বন্যার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া গত মাসের আবহাওয়ার পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে ৮৩ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। শুধু রংপুর বিভাগে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে শীত বিদায় নেওয়ার পর গতকাল পর্যন্ত দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৩ ডিগ্রিতে উঠলেও ধীরে ধীরে তাপমাত্রা আরও বাড়বে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর। গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপামাত্রা রেকর্ড হয়েছে সীতাকুন্ডে ৩২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগেরদিন সিলেটে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজকের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।