বুড়িগঙ্গার তীর দখল করে সরকারি দলের সংসদ সদস্য আসলামুল হকের গড়ে তোলা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে বিআইডব্লিউটিএ। গতকাল মঙ্গলবার বুড়িগঙ্গার পশ্চিম তীরের চরওয়াশপুরে মাইশা গ্রুপের নির্মাণাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে দখল করা ওইসব স্থাপনা ভেঙে দেওয়া হয়। এ সময় ‘মাইশা পাওয়ার প্ল্যান্ট’ নামে নির্মাণাধীন ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিক ঢাকা-১৪-এর সংসদ সদস্য আসলামুল হক ঘটনাস্থলে গিয়ে উচ্ছেদ অভিযানে বাধা দেন। তিনি এ ব্যাপারে আদালতে যাবেন বলেও সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান।
গতকাল বসিলা ব্রিজের দক্ষিণ প্রান্ত কেরানীগঞ্জের চরওয়াশপুর থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন বিআইডব্লিউটিএ’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাবিবুর রহমান হাকিম। বিআইডব্লিউটিএ’র যুগ্ম পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন এ সময় উপস্থিত ছিলেন। অভিযানে কেরানীগঞ্জের চরওয়াশপুরে সংসদ সদস্য আসলামুল হকের মালিকানাধীন মাইশা পাওয়ার প্ল্যান্ট নামে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রায় আধা কিলোমিটার সীমানাপ্রাচীর, তিনটি পাকা ঘর এবং ১০টি অন্যান্য স্থাপনাসহ মোট ২৩টি অবৈধ স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়। দখলমুক্ত করা হয় প্রায় ৩ একর জমি। উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয় সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান সংসদ সদস্য আসলামুল হক। তিনি উচ্ছেদ কার্যক্রমের বিরোধিতা করেন। সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বিআইডব্লিউটিএ’র অনুমতি নিয়েই করা হয়েছে। এটি তার মালিকানাধীন জায়গা। বিআইডব্লিউটিএ’র উচ্ছেদ অভিযানের বিরুদ্ধে আদালতে যাবেন তিনি।
তবে অভিযানে থাকা বিআইডব্লিউটিএ’র যুগ্ম পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন বলেন, ‘এটি নদীর জায়গা। এখানে বেশ কয়েকটি বিধান অমান্য করা হয়েছে। এখানে নদীর জায়গা বালি দিয়ে ভরাট করে আইন অমান্য করা হয়েছে। এখানে তারা শুধু পাওয়ার প্ল্যান্টের আবেদন করেছে। আবেদন আর অনুমতি এক জিনিস নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী জাতি, ধর্ম, বর্ণ, ধনী, গরিব নির্বিশেষে বৈষম্যহীনভাবে সবাইকেই নদীর অবৈধ দখল থেকে উচ্ছেদ করা হবে।’